তিতাসের দৌরাত্ম্যে নাকাল বৈধ গ্রাহকরা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৭:১১ পিএম
# ২২ ফেব্রুয়ারি এসব এলাকার বৈধ গ্যাস লাইন বন্ধ করা হয়
# প্রায় এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও সমাধানের নেই উদ্যোগ
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড এর কর্মকর্তা কর্মচারীদের নেতিবাচক সংবাদ প্রায় সব জায়গার মানুষই জানে। এরই মধ্যে এই কোম্পানীর কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম এবং অভিযোগে জনরোষের কথা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ হলেও তারা দিনকে দিন আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে পড়েছেন বলে বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়। তেমনি একটি জনরোষ সৃষ্টি হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ এর বন্দর উপজেলার দেউলী চৌরাপাড়া ও দাসেরগাও এলাকায়। তাদের উদাসীনতার কারণে প্রায় এক সপ্তাহ যাবৎ এই এলাকার বৈধ গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এতে করে এখানকার কয়েকশত বৈধ গ্রাহক গ্যাস বিহীন অবস্থায় দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ সেখানকার একটি প্রভাবশালী কোম্পানীর সাথে লিয়াজো করে একটি বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের সুবিধা নিয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে আছেন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড’র কাঁচপুর আঞ্চলিক অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। গত ২২ ফেব্রুয়ারি বুধবার থেকেই এই এলাকার গ্যাস লাইনটি বন্ধ করার পর প্রায় এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত তা চালু করার বিষয়ে কোন উদ্যোগ নিচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে স্থানীয় একটি কোম্পানীর স্বার্থ সিদ্ধির জন্য তারা বিষয়টিকে কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অন্যদিকে এখানকার বাসিন্দাদের মাটির চুলায় রান্না করার অভ্যাস না থাকায় আশে পাশের কোন এলাকায় লাকড়ি বা জ্বালানী পাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। লাকড়ি সংগ্রহ করা কিংবা দূর থেকে লাকড়ি কিনে আনাও এখানকার নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর সামর্থ্যের বাইরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি বুধবার সন্ধ্যার দিকে বন্দরের নাসিক (নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন) ২৪ ও ২৫ নং ওয়ার্ডের সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত কবিনজরুল সড়কের দাসেরগাও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় গ্যাস লাইনের লিকেজের একটি খবর প্রচার হয়। সেখানে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যায় বলে জানা যায়। একই এলাকায় থাকা একটি প্রভাবশালী কোম্পানীর কিছু দালাল (স্থানীয়রা এদের দালাল বলে সম্বোধন করে) বিষয়টি সেই কোম্পানীকে জানালে সেই কোম্পানী তাৎক্ষণিকভাবে তিতাস অফিসে ফোন করলে তিতাস এর কাঁচপুরে অবস্থিত আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা দ্রুত দলবেধে চলে আসেন বলে জানান স্থানীয়রা।
সে সময় স্থানীয়রা সেখানে উপস্থিত থেকে এখানকার শত শত বৈধ গ্রাহকদের অসুবিধার কথা উল্লেখ করে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের অনুরোধ জানায়। কিন্তু ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বিষয়টির সমাধান করা কিংবা সেখানে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি যাচাই বাছাই করার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের মতে এখানকার গ্যাস লিকেজের সাথে প্রভাবশালী কোম্পানীটির স্বার্থ জড়িত থাকায় তিতাস কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে গড়িমসি করছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, এই সড়কের শুধু একটি স্থান দিয়েই গ্যাস লিকেজ হয় না। বরং সড়কের বিভিন্ন স্থানেই এধরণের একাধিক লিকেজ আছে। এর আগে আরও কয়েকবার এই একই সড়কের বিভিন্ন জায়গায় গ্যাস লিকেজসহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু বিষয়টির সাথে প্রভাবশালীরা জড়িত থাকায় বিষয়গুলো ধামাচাপা পড়ে গেছে। স্থানীয়দের দাবি বিষয়টি যদি দ্রুত সমাধান করা না হয় তাহলে এখানকার নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে সমস্যার দ্রুত সমাধান করা এবং বিশেষ তদন্তের মাধ্যমে এই লিকেজ হওয়ার কারণ ও সরবরাহ লাইনের আন্যান্য লিকেজগুলোর আসল কারণ বের করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টি দেওয়ার অনুরোধ জানান তারা।
সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য যুগের চিন্তার পক্ষ হতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড এর বন্দর উপজেলার দায়িত্বে থাকা কাঁচপুর তারাবোর যাত্রামুরা এলাকায় অবস্থিত আঞ্চলিক বিপণন বিভাগ সোনারগাঁও কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. সুরুয আলম এর মোবাইলে একাধিকবার (বিভিন্ন সময়) কল করে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। একই সাথে কার্যালয়ের ম্যানেজারসহ আরও তিনটি নাম্বারেও একাধিকবার কল করা হলেও তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি। এই কার্যালয়ের জরুরী নাম্বারে ফোন করলে মোবাইল কল রিসিভ করলেও এই বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান তিনি।এস.এ/জেসি


