Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

মাসদাইরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি স্পটে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৩, ০৯:১০ পিএম

মাসদাইরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি স্পটে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা
Swapno


পুলিশের গা-ছাড়া মনোভাব এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেখেও না দেখার ভান করার ফলে ক্রমেই মাদকে সয়লাব হয়ে উঠছে ফতুল্লা থানা এলাকার প্রতিটি অলি-গলি। প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি এবং আস্তানা নিয়ে দুই পক্ষের মুখোমুখির কারণে ইতিমধ্যে হত্যাকাণ্ডেরও ঘটনা ঘটেছে থানার কয়েকটি এলাকায়।

 

 

আর পরিবার-পরিজন নিয়ে কোনভাবে দিনাতিপাত করতে গিয়ে অনেকটাই বিপাকে পড়েছে বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষ। আর এ মাদকের সয়লাবের পেছনে কাজ করছে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে।  মাদক বিক্রি এখন অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। 

 

 

ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইর বাজার ও গুদারাঘাট অনেকটাই জনবহুল এলাকা। বিসিকের খুব কাছাকাছি হওয়ার ফলে এখানে ঘনবসতিও অনেকটা বেশী। এখানে মাদকের ছড়াছড়ি সবচেয়ে বেশী মাসদাইর রোকেয়া খন্দকার উচ্চ বিদ্যালয়ের চারপাশ এবং মাসদাইর গুদারাঘাটের দেলোয়ারের বাড়ি হইতে হাজির মাঠ এবং সাবেক পিপি নবী হোসেনের বাড়ির সামনে।

 

 

দেলোয়ারের বাড়ি হইতে নবী হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত এ সম্পটে মাদকের নিয়ন্ত্রন করছে একাধিক মাদক মামলার আসামী শুক্কুর তার সহযোগি রাজিব ও মনির হোসেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে ইয়াবা,ফেন্সিডিল ও গাঁজা বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে।

 

 

এখানে বসবাসরত বাসিন্দারা যেন সবকিছু মুখ বুজে বোবার মত সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছে। মুঠোফোনের মাধ্যমে কাষ্টমার জড়ো করে প্রতি আধ ঘন্টা পর পর এখানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে মাদক। আর অন্য একটি গ্রুপ এখানে তাদের আস্তানার গড়তে চাকু, ছুড়িসহ বিভিন্ন  অবৈধ অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালানোর ঘটনাও ঘটছে অহরহ।

 

 

যার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এক মাদক বিক্রেতা প্রতিপক্ষের অপর সদস্যকে গেঞ্জির কলার চেপে তার হাতে থাকা চাকু নিয়ে তাকে ছুড়িকাঘাত করার চেষ্টা করছে এবং কিভাবে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে।

 

 

দুর-দুরান্ত থেকে প্রতিদিন হোন্ডা-ইজিবাইক-মিশুক ও ব্যাটারী চালিত রিক্সাযোগে বিভিন্ন বয়সীরা এসে মরননেশা ইয়াবা,গাঁজা ও ফেন্সিডিল ক্রয় করছে শুক্কুরগংদের কাছ থেকে।

 

 

স্থানীয়দের অভিমত, পুলিশকে আমরা অনেক সময় দেখি উক্ত মাদক বিক্রেতাদের সাথে কথোপকথন করছেন আর গলির ভেতরে গিয়ে কি যেন দিচ্ছে তা নিয়ে দ্রুত চলে যান তারা।

 

 

আউয়াল নামে এক ব্যক্তি জানান,গত সপ্তাহে ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো.রেজাউলের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে একটি টহলটিম মাদক ব্যবসায়ী শুক্কুরের অন্যতম সহযোগি রাজিবকে তাদের গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। প্রায় ৪ ঘন্টা পর উক্ত স্পটে আবার ফিরে আসে রাজিব; আর শুরু করে মাদক বিক্রি। সে প্রকাশ্যেই বলছে স্যারকে টাকা দিয়েছি তাই চলে এসেছি।

 

 

স্থানীয়রা আরও বলেন, এভাবেই চলছে এখানে মাদক ব্যবসা। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পুলিশ হচ্ছেন তাদের বন্ধুর মত। যার ফলে এখান থেকে মাদক বিক্রি বন্ধ করা দুরুহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা প্রতিদিন সকালে কর্মস্থলে গেলেও চিন্তা হয় ঘরে থাকা সন্তানগুলো নিয়ে।

 

 

কখন যে কার সঙ্গ পেয়ে মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ে তা বলা মুশকিল। আমরা অত্র এলাকা থেকে মাদক নির্মূল এবং মাদক বিক্রেতা শুক্কুরগংদের দ্রুত গ্রেফতারে দাবী জানান।

 

 

ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ শেখ রেজাউল হক দিপু বলেন, আমরা সব সময় চেষ্টা করছি আমরা যখনি খবর পাই তখনি ব্যবস্থা গ্রহণ করি। ফতুল্লাবাসীদের আমি বলি আপনারা আমাদের জানান আমি সে বিষয়ে খেয়াল রাখার চেষ্টা করবো সব সময়। এখন জানলাম আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।  এন.হুসেইন/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন