Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

অবৈধ ইটভাটা চলছেই

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৩, ০৭:২১ পিএম

অবৈধ ইটভাটা চলছেই
Swapno

 

# ইটভাটা বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ
# শুধু জরিমানা নয়, স্থায়ী বন্ধের পরিকল্পনা করা প্রয়োজন : পরিবেশবিদগণ
# কৃষি জমির মাটি কাটতে ভেকু এবং ট্রাক সবসময় ব্যস্ত থাকে
# কৃষকদের মাটি বিক্রি করতে কৌশলে বাধ্য করা হয়

 

 

বন্দর উপজেলায় আইন অমান্য করে কৃষিজমি, গোচারণ ভূমির উপর অন্যায়ভাবে ইটভাটা তৈরি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে ফসলি জমির উর্বরতা শক্তি কমে গিয়ে ফসল উৎপাদনে বিপর্যয় ঘটছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতন মহল। যেখানে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩-এর ৫ নম্বর ধারায় উল্লেখ আছে, ইট তৈরি করার জন্য খাল, বিল, নদ-নদী, হাওর, চরাঞ্চল বা পতিত জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া যাবে না।

 

কিন্তু এসব আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এখান ইউনিয়ন এলাকাগুলোতে গড়ে উঠেছে সারি সারি ইটভাটা। তবে মুছাপুর, ধামগড় ও মদনপুরের প্রায় পুরো এলাকা জুড়েই ইটভাটার অবস্থান। এই তিনটি ইউনিয়নে ৫০টিরও বেশি ইটভাটা আছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। যার মধ্যে শুধু মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের তিন কিলোমিটার আয়তনের মধ্যেই ২৫টিরও বেশি ইটভাটার অবস্থান। যা একটি আবাসিক এলাকা ও কৃষি নির্ভর এলাকার জন্য একটি আতঙ্ক সৃষ্টির মতো অবস্থা বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এখানকার কৃষি জমিগুলোর মাটি কেটে নিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

 

তবে আশার কথা হলো দেশের বায়ুদূষণ রোধকল্পে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেশের সব জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। গত বুধবার মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ অধিশাখা-১ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জানা গেছে।

 

যেখানে দেশের সব অবৈধ ইটভাটা, বিশেষ করে অধিক ক্ষতিকর ইটভাটাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বন্ধ করতে বলা হয়েছে। কোনো লাইসেন্স ছাড়াই নতুন তৈরি ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম জোরদার করতে বলা হয়েছে। যে জেলাগুলোতে বৈধ ইটভাটার চেয়ে অবৈধ ইটভাটা বেশি সেসব জেলাগুলোর জেলা প্রশাসকদের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী সঠিক ব্যবস্থা নিলে বন্দরের কোন ইটভাটাই টিকবে না বলে মনে করেন স্থানীয় পরিবেশবিদরা।

 

সরেজমিনে এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায় চারদিকে হয় ইটভাটা কিংবা মাটি কাটার জন্য ভেকু। অর্থাৎ ইটভাটার আওতার বাইরে এখানে এখন এক চিলতে জমিও খালি নেই। এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ভেকু দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে সেখানে সেই মাটি নেওয়ার জন্য ট্রাকসহ বিভিন্ন প্রকার হাইব্রীড গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব মাটি কাটার ভেকু সহ মাটি বহন করার বাহনগুলো ব্যস্ত সময় পার করছে। এতে ধুলাবালুতে আশে পাশের বাড়িঘরের পরিবেশও বিনষ্ট হচ্ছে। নিরীহ কৃষকেরা এর বিরুদ্ধে কিছু বলতেও পারছেন না।

 

স্থানীয়রা জানান, ইটভাটার মালিকরা কোন না কোন প্রভাবশালী ব্যক্তির আশ্রয়ে একটি চক্র গড়ে তুলে। সেই চক্রের মাধ্যমে তারা প্রথমে কিছু জায়গা লীজ নিয়ে কিংবা ক্রয় করে তার পাশের জমিটি লোভ দেখিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাগজপত্র করে দখলে নিয়ে ইটভাটা তৈরি করে। এর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরে আর সেই জমি ফেরত দেওয়া হয় না। এভাবে কৃষি জমিতে ইটভাটা করার মাধ্যমে আশেপাশের জমিগুলোও কৃষি কাজের অনুপোযক্ত হয়ে পড়েছে।

 

এর ফলে চাষাবাদ করতে না পেরে বাধ্য হয়েই জমির মালিকরা হয় ইটভাটার মালিকদের কাছে অর্থের বিনিময়ে জমি লীজ দিচ্ছে কিংবা বিক্রি করছে। অথবা টাকার লোভে দালালদের ফাঁন্দে পড়ে সেই জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছে ইটভাটার দালালদের কাছে। এতে করে এখানকার কৃষিকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। দালালরাও কৃষিজমির উপরিভাগের জমি (টপ সয়েল) কেটে নেওয়ার কথা বলে একেবারে পুকুর করে ফেলছে। একই সাথে পেশা হিসেবে যারা বংশধারা অনুযায়ী কৃষি কাজ করতো সেসব কৃষকরা এখন পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় চলে গেছে।

 

এরই মধ্যে এখানকার অবৈধ ইটভাটাগুলোতে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়। তার কিছুদিন পরই দেখা যায় এগুলো আবারও চালু হয়ে যাচ্ছে। তখন তাৎক্ষণিকভাবে আর কোন ব্যবস্থা নেওয়া না হওয়ায় তারা পুরোদমে নতুন করে উৎপাদন শুরু করে। স্থানীয়দের দাবি এভাবে জরিমানা না করে এখানকার অবৈধ ইটভাটাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ব্যবস্থা করার প্রয়োজন। যেহেতু এগুলো আবাসিক এলাকায়, কৃষি জমির উপর, ফসলি জমির মাটি কেটে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং একই সাথে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ঘেষা কিংবা কাছাকাছি অবস্থিত।

 

তাই যেগুলোর লাইসেন্স আছে সেগুলোর নবায়ন না করে ইটভাটা আইনের আওতায় এনে স্থায়ীভাবে এখনি বন্ধ করা না গেলে এসব এলাকায় কৃষি কাজ করাতো দূরের কথা। এখানে বসবার করা সকল জনগণই মরনাত্মক নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন নাশের শঙ্কায় পড়বে বলে পরিবেশবিদদের অভিমত। একই সাথে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনাকে কাজে লাগিয়ে এখনই ব্যবস্থা গ্রহণের মোক্ষম সময় বলে মনে করেন তারা।
এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন