ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তপ্ত নারায়ণগঞ্জ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৩, ১১:০৬ এএম
# একদিন অবশ্যই ত্বকীর খুনিদের বিচার হবে : আনু মুহাম্মদ
# ঐতিহাসিক নারায়ণগঞ্জ জিম্মি একটি পরিবারের কাছে : খুশি কবির
# র্যাবের সিও জাহাঙ্গীরকে কর্নেল মুজিব ৩২ বার ফোন করেছে : রফিউর রাব্বি
# এই গুণ্ডাকে জাতীয় সংসদে কিভাবে রাখা হলো : এড. মাসুম
মেধাবী ছাত্র তানভীর মোহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ত্বকী হত্যার ১০ বছর, সাগর-রুনি হত্যার ১১ বছর এবং তনু ধর্ষণ ও হত্যার সাত বছরেও বিচার হচ্ছে না। তার মানে খুনিরা যদি শক্তিশালী হয় এবং সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক থাকে, তাহলে বিচার হয় না।
দেশের মানুষ কী মনে করছে, তা নিয়ে সরকারের কিছু আসে যায় না।কারণ তারা এখন আর জনগণের ওপর নির্ভর করছে না। সরকারের নির্ভরতা সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাফিয়া, দখলবাজ ও চাঁদাবাজের ওপর। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই সমাবেশের আয়োজন করে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ।
আনু মুহাম্মদ আরো বলেন, বাংলাদেশ এখন পাকিস্তান মডেলে চলছে। পাকিস্তান আমলে ২২ পরিবার দেশ শাসন করেছে। এখন একইভাবে দেশ চলছে। পুলিশ, র্যাব ও দুর্নীতি দমন দমন কমিশন কোনো প্রতিষ্ঠানকেই কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না।
সাগর-রুনি, তনু এসব হত্যার তদন্তও হয়নি। একমাত্র ত্বকী হত্যার কিছুটা তদন্ত হয়েছে। তারপরও বিচার হচ্ছে না। তবে বিচার আটকে থাকবে না। একদিন অবশ্যই ত্বকীর খুনিদের বিচার হবে। খুনিদের যারা বছরের পর বছর রক্ষা করেছে, তাদেরও বিচার হবে।
একই অনুষ্ঠানে মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির বলেন, আমাদের দায়িত্ববান সরকারের প্রধানকে আমি জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছি , একান্ত বাবার বা সকল কর্মীরাসহ যখন ৭৫ এর আগস্টের ১৫ তারিখে হত্যা করা হয়েছিল আপনারা বেঁচে গেছেন কারন আপনারা তখন ছিলেন না। আপনি তখন ক্ষমতায় আবার আসলেন ৯৬-তে। আপনি কুখ্যাত ওই হত্যাকারীদের বিচার চেয়েছিলেন।
আপনি বার বার বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য রেখেছিলেন, আপনার ছোটভাই কি অপরাধ করেছিল যে ,তাকেও হত্যা করতে হয়েছিল? আজকে আপনি নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করেন এই ছোট ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তারা পার পেয়ে যাবে কেন? আপনি তাদের বিচার যে করেছেন এটা শুধু আপনার পরিবারের বিচার করেননি।
আপনি করেছিলেন একটা ন্যায় নীতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির দিকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য। এই একই প্রশ্ন আজকের বাংলাদেশ বিচারহীনতার একটা সংস্কৃতি এখনো থাকছে কেন ? আপনারা যে সবাইকে বলছেন বাংলাদেশে আমরা যে উন্নতি করেছি আর সাথে সাথে এখানে মানবাধকারের লংঘন যেভাবে ঘটছে সেটা গ্রহণযোগ্য না।
এদের বিচারহীনতা এভাবে এখানে টিকে থাকবে, হত্যার পরেও বিচার হবে না এইটা একসাথে চলে না। আমরা দেশের উন্নয়ন চাই, যদি চাই আমরা সার্বিক উন্নয়ন চাই। দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা চাই। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে চাই না। আমরা গণতন্ত্র চাচ্ছি। গণতন্ত্র মানে যারা দেশ চালাচ্ছে সরকার তারা জনগণের কাছে তাদের থাকতে। জনগণের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
এটা যদি উপস্থিত না থাকে আমাদের মধ্যে, আমাদের বিচার ব্যবস্থাকে নিয়ে যদি মানুষ প্রশ্নবিদ্ধ হয় তাহলে এই রাষ্ট্র কীভাবে রাষ্ট্র হতে চাচ্ছে তা আমাদের সবার কাছে একই প্রশ্ন জাগছে। বিগত দশ বছর ধরে আজ পর্যন্ত বিচার হচ্ছে না। ত্বকীর বিচার করার নামেই দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহীতা এবং মানুষের জীবনের একটা সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটা অঙ্গীকার।
আমরা নিশ্চিত করতে চাই কোনো জায়গায় যাতে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে না পরে। আমি আশ্চর্য হয়ে যাই ঐতিহাসিক নারায়ণগঞ্জ জিম্মি হয়ে থাকে একটি পরিবারের কাছে। একটি পরিবার যদি মনে করে যে, এই শহরের যা ইচ্ছা তা করতে পারে এবং তারা পার পেয়ে যাবে তাহলে স্পষ্ট করে আমি আজকের মঞ্চে থাকা সকল বক্তাদের সাথে সুর মিলিয়ে বলতে চাই যে, খুব শীঘ্রই এটা স্থির থাকবে না স্বৈরাচারীর পতন হবে।
সকল স্বৈরাচারীর পতন ঘটে এই কথাটা স্মরণ রাখতেই হবে। আপনারা যারা মনে করছেন আপনারা সকল কিছুর উর্ধ্বে, টাকা দিয়ে অথবা আপনাদের রাজনৈতিক যে সম্পর্ক আছে সেটা দিয়ে আপনারা পার পেয়ে যাবেন, তা সম্ভব না। সকল স্বৈরাচারীর পতন ঘটবে এটাই ইতিহাস বলে আসছে।
আমি আপনাদের সাথে আছি আপনারা যেভাবে এক হয়ে আন্দোলন করছেন হাল ছাড়ছেন না এটা আমাদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়। আমাদের জন্য একটা অনুপ্রেরণার বিষয়।
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেন, ‘ত্বকীকে হত্যার পরে এর যথাযথ ভার দেওয়া হয়েছে পুলিশের উপরে। আবার পুলিশ তদন্তের পরে মে মাসের শেষ সময়ে এই হত্যাকাণ্ডের ভার ব্যাবের উপরে দেওয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি হচ্ছে পুলিশ যখন আরেকবার তদন্ত করে সেই তদন্তের মধ্যে দিয়েই ত্বকী হত্যার রহস্যর উদঘাটন ঘটে।
এই যে ওসমান পরিবার ও তাদের লোকজন তারা ত্বকীকে হত্যা করেছে। কি নির্মমভাবে হত্যা করেছে এই রহস্যটি উদঘাটন করে পুলিশ আড়াই মাস তদন্তের মধ্যে দিয়ে। পরে যখন তারা নিশ্চিত হলো যে ওসমান পরিবার ত্বকীকে এই এইভাবে হত্যা করেছে। তখনই তারা বুঝতে পারে এটা তাদের পক্ষে কতটুকু অগ্রসর করা সম্ভব।
তখন ত্বকী হত্যার দায়িত্ব র্যাবের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য উচ্চ আদালতে যাই। র্যাব দায়িত্ব পালন করে আরো কিছু তথ্য বাহির করে। যে আজমেরী ওসমানের টর্চাল সেলে দুইজন ঘাতকের স্বীকারোক্তি নেয়। সেটি ২০১৪ সালে ৫ মার্চ র্যাব একটি অভিযোগপত্র দাখিল করে বলে এই ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদের ১১ জন মিলে ত্বকীকে এইএইভাবে হত্যা করে।
যখন এটি পুরো সংবাদকর্মীরা সংবাদ প্রকাশ করে তার মাধ্যমে দেশের মানুষসহ দেশের বাহিরের মানুষও ত্বকীর হত্যার বিষয়ে কিভাবে কি হয়েছে জানতে পারে। তারা যখন আমাদের সকলকে ও সংবাদকর্মীদের হাতে তদন্তপত্রটি সেখানে একটি পাট রয়েছে। তারা বলেছে তার ৯টায় ত্বকীকে আজমেরী ওসমানের টর্চাল সেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ত্বকী সেদিন আমার সাথে কথা বলে সাড়ে ৫ টায় বাসা থেকে বের হয়েছে সুধীজন পাঠাগারে যাবে। তাহলে রাত ৯ টায় টর্চার সেলে নিয়ে যাওয়ার আগে ত্বকী প্রায় তিন ঘন্টা কোথায় কখন কি করেছিল এটাই গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকীকে এই সুধীজন পাঠাগারের সামনে থেকে অপহরণ করে সায়ামপ্লাজা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেখানে শামীম ওসমানের এক অস্ত্রধারী ক্যাডারের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সেখানে আজমেরী ওসমান, শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান সকলেই ছিল। এখান থেকে তার পর চাষাঢ়া সমবায় মাকের্টে যে অফিসটি রয়েছে সেখানে নিয়ে আসে। এই জায়গাতেই ত্বকীকে রাখা হয় ৯টা পর্যন্ত। পরবর্তীতে টর্চার সেলে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা বার বার বলছি, এই জায়গাটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গাটি কেন বাদ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, র্যাবের গুরুত্বপূর্ণ ভাইস প্রেসিডেন্ট ওই সময়ের আমাদের নারায়ণগঞ্জের কর্নেল মুজিব। যার সাথে শামীম ওসমানের প্রচণ্ড সখ্যতা। যখন আজমেরী ওসমানের টর্চাল সেলে অভিযান চলে। তখন নারায়ণগঞ্জের র্যাবের সিও জাহাঙ্গীরকে কর্ণেল মুজিব ৩২ বার ফোন করেছে।
যাই হোক আমি বলতে চাই, যাদের নাম চার্জশীটে রয়েছে তাদেরকে আটক করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হোক। আমরা বার বার বলেছি আজমেরী ওসমানের নাম এসেছে তাকে গ্রেফতার করুন ১৬৪ ধারায়। তার নির্দেশে ও সে ত্বকীকে হত্যা করেছে। তাকে গ্রেফতার করলেই শামীম ওসমান ও অয়ন ওসমানসহ তাদের যত চাল্লি বাল্লি রয়েছে সকল ঘাতকদের নাম উদঘাটন হবে।
শামীম ওসমানের শেল্টারে অনেক খুনী রয়েছে চাঁদাবাজ রয়েছে। তাদের নামও রাখতে হবে। নারায়ণগঞ্জের ডিসি, এসপি দায়িত্ব নিয়ে খুনীদেরর রক্ষা করছে। আপনারা যখন খুনীকে রক্ষা করেন। তাদের প্রশ্রয় দেয়। তখন এটা কি এসে দাঁড়ায়।’
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের যুগ্ম সম্পাদক মানবাধিকার কর্মী এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, ‘আমাদের সন্তানকে শীতলক্ষা থেকে এনে ওই বন্দরের মাটিতে দাফন করার পর থেকেই আমরা সকলকে জানান দিয়েছি ও বলেছি ত্বকী হত্যার বিচার চাই। কিন্তু বিচারের দাবি করতে করতে আজকে ১০ বছর হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো ত্বকী হত্যার বিচার হলো না।
কিন্তু সন্ত্রাসীরা এখানো ঘুরে বেড়াচ্ছে ওরা খুন করে। ওরা নারায়ণগঞ্জে দাবিয়ে বেড়ায়। ওরা জুট সেক্টর ও গণপরিবহন দখল করে রেখেছে। ওরা নারায়ণগঞ্জকে জিম্মি করে রেখেছে। আমরা ত্বকী হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। আমরা সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। আমরা সুন্দর পরিছন্ন শহর চাই আমরা শান্তিপূর্ন নারায়ণগঞ্জ চাই। বর্তমানে আমরা ভালো নেই।
কেন ভালো নাই, আমাদের ত্বকী হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা শামীম ওসমান। এই শামীম ওসমান পুলিশের সমাবেশে যখন বলে বেড়ায় যে “আমিতো একসময় পুলিশের এসপি ডিসির চেয়ার ভেঙেছি টেবিল ভেঙেছি” আমি বলি আপনি তো একটা গুন্ডা! এই গুন্ডাকে জাতীয় সংসদে কিভাবে রাখা হলো। আপনি তো একটা সন্ত্রাস ! পুরো নারায়ণগঞ্জকে দাবিয়ে বেড়াচ্ছেন।
ত্বকী হত্যা ধামাচাপা দেয়ার জন্য এমন কোনো ষড়যন্ত্র নাই যেটা আপনি করেন নাই। আপনি রফিউল রাব্বীকে হয়রানি করেছেন, ভুয়া মামলা করেছেন, ছেলেকে মেরে বাবাকে নানা হয়রানির মধ্যে রেখেছেন। শর্ত শোনেন না ? সমুদ্রের গর্জন শোনেন না? রেগে যান? ভাড়া করা ৩০০ টাকা দামের কোনো কর্মী এখানে নেই। আপনি একটা ডাক দিলেই নাকি লাখ লাখ মানুষ চলে আসছে।
আরে ভাই লাখ লাখ চলে আসবে আপনার ভাই সভাপতি গার্মেন্টস সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করে , ওই যে ৩০০টাকা করে দিয়ে ১ লাখ না ৫ লাখ আসুক তাতে কিচ্ছু আসে যায় না। আমরা মনে করি এখানে যারা আছে ওই ৫ লাখ লোক এই আড়াইশো লোকের সমান আমি তাদের সামনে বলতে চাই ত্বকী হত্যার বিচার চাই। আপনারা জানেন, এই ত্বকী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত হয়েছে।
এই ত্বকী হত্যাকান্ডের চার্জশীট রেডি হয়েছে। এখানে র্যাব কর্মকর্তা বলেছে, ১১জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি সরকারকে বলতে চাই। আমরা আপনার হাতে ধরি, পায়ে ধরি। আপনি ওসমান পরিবারের পক্ষে অবস্থা নিয়েন না। আবার আমরা শুনলাম, আপনি নাকি ওসমান পরিবার ছাড়া থাকতে পারেন না।
আপনি অনেকে সময় বলেছেন, সন্ত্রাস খুনি যে দলের হোক না কেন তাদের বিচার হবে। তাহলে আজকে ওসমান পরিবারের বিচার হচ্ছে না কেন? ওসমান পরিবারের সদস্যরা যারা ত্বকী হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত তাদের বিচার এখনো কোন হচ্ছে না বলেন একটু আমাদের কাছে প্রধানমন্ত্রী।
আমি আবারো সরকারকে বলতে চাই ত্বকী হত্যাকাণ্ডের আবারো চার্জশীট হোক, বিচার হোক, দোষীরা শাস্তি পাক। এমটা যদি না হয় তাহলে আমি আপনাকে বলে থাকি প্রকৃতি এমন একটি নিষ্ঠুর প্রকৃতি আপনাকে ছাড়বে না।’
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব কবি ও সাংবাদিক হালিম আজাদ বলেন, ‘শামীম ওসমানের নির্দেশে তার ভাজিতা আজমেরী ওসমান ও তার সাথের ১১জন রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ত্বকীকে হত্যা করেছে। এটা আমাদের বক্তব্যে নয় এটা র্যাব যে তদন্ত করেছে। সেটাকে আবার আমরা প্রাথমিকভাবে তদন্ত করেছি। আর ধরে নিয়েছি। র্যাবের তদন্ত কখনো মিথ্যা হতে পারে না।
যে তদন্ত করেছে সে আমাকে ও ত্বকীর বাবাকে বলেছে তারা খুবই সাহসভাবে ও পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এতো কিছু করেছে। আর এই মামলাতে প্রধান আসামী করা হয়েছে আজমেরী ওসমান এই আজমেরী ওসমান কে? এই নারায়ণগঞ্জের একজন নেতার ছেলে। সে নেতা কে? আমি নাম বললাম না তাকে আপনারা সবাই চিনেন।
একজন নেতার ছেলে এভাবে একজন মেধাবী সন্তানকে তুলে নিয়ে হত্যা করলো। কিন্তু আজকে প্রায় দশ বছর হয়ে গেলো কিন্তু ত্বকী হত্যা বিচার এখানো হলে না। তিনি আরো বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলতে চাই। আপনি ত্বকী হত্যাকান্ডের ব্যাপারে সব জানেন, কে হত্যা করেছে এটা ও জানেন আপনি আপনারা বাবার হত্যাকান্ডের বিচার করছেন।
কিন্তু এখনো এই মেধাবী সন্তানের হত্যাকাণ্ডের বিচার এখানো হলো না। দেশের লাখো লাখো মানুষ এই ত্বকীর বিচারের দাবিতে ক্রন্দন করছে। এছাড়া ও অনেকে মা বোনেরা এই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের কথা শুনলে অঝোরে কেঁদে ফেলে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই আপনি প্রসাশনকে নির্দেশ দেন ত্বকী হত্যার বিচার করতে হবে।
আমরা প্রতি মাসের ৮ তারিখে ত্বকী হত্যার বিচার চাচ্ছি। আপনি এখানো এই বিচার হওয়ার কোন আশ্বাস পেলাম না। আমি ত্বকী মঞ্চের পক্ষ থেকে আবারোও বলতে চাই অবিলম্বে ত্বকী হত্যার বিচার চাই।’
ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বির সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মানবাধিকারকর্মী খুশি কবির, ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব কবি হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এবি সিদ্দিক, জেলা ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়, জেলা বাসদ সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব ও জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম। পরে একটি মিছিল শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে নগরীর দুই নম্বর রেলগেটে গিয়ে শেষ হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েন্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুদিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী শাখা খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই বছরের ১২ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ত্বকী হত্যা মামলায় দ্রুত অভিযোগপত্র প্রদান ও বিচারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ মোম শিখা প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। এন.হুসেইন/জেসি


