প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে খাল দখলকরে মার্কেট তৈরির কাজ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৩, ০৮:৪৯ পিএম
সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়ন এর দেওয়ানবাড়ি সংলগ্ন হাজিপাড়া এলাকায় রনি গার্মেন্টস এর পিছনে সরকারি খাল দখল করে বাজার তৈরি করার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে কবির দেওয়ান নামের এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে। তথ্যমতে সরকারি খালের বেশ খানিকটা জায়গা দখল করে বাঁশের বেড়া দিয়ে পাইলিং করা শেষে সেখানে পাকা পিলার নির্মানের কাজ সমাপ্ত করেছে। পরবর্তীতে এখানেই বাজার নির্মাণ করা হবে। তবে বর্তমানে তিনি এ কাজ বন্ধ না করে তার পরিকল্পনা মাফিক বাজার তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে চলতি সপ্তাহে জেলা ভূমি অফিসের নির্দেশে কাশিপুর ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা কয়েকদফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ম্যাজিস্ট্রেট সরেজমিন পরিদর্শন করে কবির দেওয়ানকে খালের উপর সৃষ্ট বাজার তৈরির কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়। অনধিক ১ দিনের মধ্যে বাজার তৈরিতে সৃষ্ট পিলার ভেঙ্গে ফেলতে বলা হয়। সেই সাথে ঘটনাস্থলের পূর্বপাশের বেশ কয়েকটি দোকান ও রনি গার্মেন্টস এর কিছু অংশ ও ভেঙ্গে ফেলতে বলা হয়েছে।
আরোও বলা হয় যদি কবির দেওয়ান নিজ উদ্যোগে স্থাপনা ভেঙ্গে না ফেলে তাহলে সরকারি লোক এসে তা গুড়িয়ে দিবে। তবে এ ক্ষেত্রে যাবতীয় খরচ কবির দেওয়ানকে বহন করতে হবে। সেই সাথে তাকে শাস্তির আওতায় ও আনা হবে। এমন নির্দেশনার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কবির দেওয়ান ম্যাজিস্ট্রেট এর কথা মাফিক খালের উপর গড়ে উঠা পিলার ভাঙ্গেনি বলে সূত্র বলছে।
সূত্রমতে তার ব্যাপারে আরো জানা যায় তিনি এলাকার ওয়ারিসের ও বিভিন্ন ধরনের ভেজাল জায়গা কিনে তা দখলে নিয়ে অন্যত্র বেশি দামে বিক্রি করেন। এটাই এই কবির দেওয়ানের পেশা। তিনি স্থানীয় দলিল লেখক শাহিদ নামের এক ব্যাক্তির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তার সহযোগিতায় তিনি এসব করেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত কবির দেওয়ানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিবেদককে জানান, জেলা এসিল্যান্ড এর নির্দেশে কাশিপুর ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি আরোও জানান, কাশিপুর ভূমি অফিসে সরকারি আমিন দ্বারা জমি মাপার নিমিত্ত্বে একটি আবেদন করা হয়েছে। সেই আবেদন এর প্রেক্ষিতে জমি মাপলেই বেড়িয়ে আসবে আসল তথ্য। আমি জানি এটা আমার নিজের জায়গায় করা। তাই এইখানে বাজার তৈরি করতে আমার কোনো দূর্বলতা নেই।
অপরদিকে অন্যন্য অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে ভেজাল জমি ক্রয় ও ওয়ারিসের জমি কিনে দখলে নিয়ে তা অন্যত্র বিক্রি করার যে তথ্য দেওয়া হয়েছে তা ভিত্তিহীন। তিনি এ সংক্রান্ত কোনো কাজের সাথে যুক্ত নয়। তিনি বলেন কেউ যদি এমন অভিযোগ প্রমান করতে পারে তাহলে তিনি যেকোনো শাস্তি নির্ধিদ্বায় মাথা পেতে নিবেন। তিনি আরোও বলেন জমি মাপার কাজ শেষ করে তিনি সংবাদ সম্মেলন করবেন এ সংক্রান্ত ব্যাপারে। তবে খাল ভরাট কিংবা খালের প্রবাহ পরিবর্তন করা মারাত্মক অপরাধ।
পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি এতে করে সরকারি খাল যেমন দখল হয়, অন্যরাও একই পদ্ধতিতে দখল করার সুযোগ সন্ধানে থাকে। যা মোটেও কাম্য নয়। খাল দখলের সাথে যেই যুক্ত থাকুক সে হোক কবির দেওয়ান কিংবা অন্য যে কেউ। তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত হোক এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।
এস.এ/জেসি


