মহানগর বিএনপির পদ বাণিজ্যের অভিযোগ সত্য
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৩, ০১:১৮ পিএম
# প্রকাশ্যে সত্য কথা বলে দেয়ায় আমরাও বিব্রত : মুুকুল
# এভাবে না বললেও হতো : ভাষানী
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি বর্তমানে অভিযোগের কান্ডারিতে পরিনত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির মধ্যে অভিযোগের তালিকায় সর্বশীর্ষে অবস্থান রয়েছে মহানগর বিএনপির। অপর দিকে কমিটিতে মূল স্থানে যাদের রাখা হয়েছে। তাদের নানা কর্মকান্ড ও ব্যর্থতায় ধ্বংসের দারপ্রান্তে চলে গিয়েছে মহানগর বিএনপি।
এখন শুধু রদ-বদলের পালা। এখন আবার সংগঠনের সদস্য সচিব টিপুর বিরুদ্ধে এক বিএনপির নেতা থেকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে পদে রাখতে চাওয়ার অভিযোগ। আর এই অভিযোগে অনেকটাই নড়বড়ে হয়ে উঠেছে মহানগর বিএনপি। আর টিপুর কারণে মহানগর বিএনপির কমিটি থেকে আস্তে আস্তে এক এক করে উইকেট পরছে।
যা সংগঠনের জন্য অনেকটাই বিপদ জনক। এখন আবার টিটুর ৫০ হাজার অভিযোগে একত্মতা প্রকাশ করছে মহানগর বিএনপির বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা অনেকে প্রকাশ্যে ও অনেকে আড়ালে থেকে। যার কারণে তৃণমূলের দাবি সংগঠন ধ্বংসের কারিগর। আর কমিটিতে পদ বানিজ্যে করতে চাওয়া নেতাকর্মীদের হাতে মহানগর বিএনপি কখনো নিরাপদ নয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি‘র ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। তার পর থেকেই মহানগর বিএনপির কমিটিতে সৃষ্টি নানা কোন্দল ও ভাংগনের সুর। অপর দিকে চলছে মহানগর বিএনপির কমিটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ যা কমিটির শক্ত মেরুদন্ড ধীরে ধীরে ভেঙ্গে দিচ্ছে।
এখন আবার ৪ মার্চ বিএনপির সদর থানা পদযাত্রা কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে পদের লোভ দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগটি তুলেছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি রাশেদুল ইসলাম টিটু।
তার থেকে জানা গিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সদর থানা বিএনপিতে মহানগর বিএনপির কমিটিতে থাকা কিছু লোককে মূল পদে পদায়ন করে ৫৭ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। আর এই কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়কের পদে টিটুকে রাখার কথা ছিল বলে দাবি করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই কমিটিতে তাকে রাখা হয়নি।
আর না রাখার কারণ হিসেবে টিটু বলেন, টিপু সাহেব যুগ্ম আহ্বায়কের পদে আমাকে পদায়ন করার জন্যই আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা পদ বানিজ্যে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি দিতে অনীহা করলে আমাকে কমিটিতে রাখেনি টিপু। অনেকের থেকে জানা গেছে, এই টিটুকে সদর থানার অনেকে চিনে থাকে ছিনতাইকারী হিসেবে।
আর ছিনতাকারীর কাছ থেকে টাকা চাওয়ার প্রসঙ্গ উঠায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে মহানগর বিএনপিসহ জেলা বিএনপিতেও বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে আবু আল ইউসুফ খান টিপু। আর টিপুর বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের অভিযোগের পাহাড় যার কারণে মহানগর বিএনপির বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা ধীরে ধীরে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে ও তারা রাজপথে তাদের সক্রিয়তা বাড়াচ্ছে।
যার কারণে অনেকে দাবি জানিয়েছেন টিপুর ব্যর্থতায় বর্তমানে তাদের থেকে ও মহানগর বিএনপির বিদ্রোহীরা আরো উজ্জ্বীবিত ও শক্তিশালী। এখন আবার টিপুর নামে এমন বক্তব্যে যা বিদ্রোহী নেতাকর্মীদের জন্য প্লাস পয়েন্ট। বর্তমানে বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা দফায় দফায় নিয়মিত মিটিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করতে তারা।
যা মহানগর বিএনপির কমিটি হওয়ার পরে ও দেখা যায়নি। বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা টিটুর বক্তব্যের সাথে সহমত প্রকাশ করেছেন। তারা দাবি করছেন যদি তার অভিযোগ মিথ্যা হত তাহলে তিনি সেটা গোপনে বলতো কিন্তু সে শত শত নেতাকর্মী ও সাধারন জনগনের সামনে বক্তব্যের মাধ্যমেই এই অভিযোগটা তুলেছেন। যার কারণে এটা মানা সম্ভব।
এছাড়া অনেকে নাম প্রকাশ্যে রেখে বলেছেন, অভিযোগটি সত্য কিনা বলতে পারছি না। কিন্তু টিপু সাহেবের যে আচার আচরণ এটি বিশ্বাস না করে থাকাটা মুশকিল। আর এছাড়া এর আগেও টিপুর বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০ কোটি টাকার অভিযোগ ও রয়েছে।
যা সকলের মুখে মুখে রয়েছে ও নানা মিডিয়ার মাধ্যমে ও ব্যাপক প্রকাশ পেয়েছে। আর টিপু বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের ও মূল্যায়ন করে না। তার বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকার চেয়ে পদ বানিজ্যে করার অভিযোগ হবে এটা স্বাভাবিক।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুল যুগের চিন্তাকে বলেন, গত ৪ মার্চ কেন্দ্রে ঘোষিত মহানগরের থানা পদযাত্রার অংশ হিসেবে। আমরা সকলে উপস্থিত থেকে ডিআইটিতে সদর থানা বিএনপি‘র পদযাত্রা কর্মসূচি ব্যাপকভাবে পালন করি।
তখন সেই কর্মসূচিতে মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাশেদুল ইসলাম টিটু মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে সদর থানা বিএনপির কমিটি গঠনের সময় পদে রাখার লোভ দেখিয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা চেয়েছিলেন তার বক্তব্যের মাধ্যমে আমরা জানতে পেলাম।
কিন্তু আমরা মনে হয় যদি এটি সত্য না হতো তাহলে এতগুলো মানুষের সামনে তিনি এই ধরণের বক্তব্যে দিতেন না। এমন কিছু হয়েছিল বলেই তিনি বক্তব্যের মাধ্যমে সকলের কাছে এটি তুলে ধরেছে।
মহানগর বিএনপি নেতা আব্দুল হামিদ ভাষানী যুগের চিন্তাকে বলেন, গতকাল যুবদলের সাবেক নেতা টিটু যে বক্তব্যে দিল। এটা সত্য হলেও এমন প্রকাশ্যে দেওয়াটা ঠিক হয়নি। কারণ বর্তমানে বিএনপির চূড়ান্ত আন্দোলনের বছর।
এখন সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকা অতন্ত প্রয়োজন। তা না হলে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এটার সুবিধা ভোগ করবে। তাই আমি চাই দলের কোন সমস্যা হলে এটা নিজেদের মধ্যে আপোষে আনা দরকার তা প্রকাশ্যে সবাইকে জানানোটা বোকামী। এন.হুসেইন/জেসি


