Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বউ সাজা হলোনা ফতুল্লার

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৩, ১১:৫৪ এএম

বউ সাজা হলোনা ফতুল্লার
Swapno



# ধারাবাহিকতার স্বাভাবিক উন্নয়নও পাইনি : ফতুল্লাবাসী
# সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরের তুলনায়ও ফতুল্লার উন্নয়ন কম : গিয়াসউদ্দিন
# খালগুলোর কাজ শেষ না হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে না : সেন্টু
# করোনার পর বক্তাবলী সেতুর বিষয়টি আর আগায়নি : শওকত আলী

 

 

২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার বক্তাবলী ইউনিয়নে এক নির্বাচনী গণসংযোগে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছিলেন, ভবিষ্যতে এই এলাকাকে আমি নতুন বউয়ের মতো সাজাবো। মানুষ এখন উন্নয়নে বিশ্বাস করে। আওয়ামী লীগ সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা প্রমাণ করে দিয়েছেন। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসি নাই। কারন আমি সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করেছি। আমাকে ভোট চাইতে হবে কেন?

 

গত বিশ বছরে এই আসনে পূর্বের জনপ্রতিনিধিরা যে উন্নয়ন করেছেন, আমার পঞ্চাশ ভাগের এক ভাগও তারা করতে পারেন নি। সাত হাজার চারশ’ কোটি টাকার উন্নয়ন করেছি। ফতুল্লা দূর্গম চরাঞ্চল এই বক্তাবলীকে আমি শহরে রূপান্তরিত করেছি। ফেরি দিয়েছি, রাস্তাঘাট করেছি। স্কুল কলেজ করেছি। তবে শামীম ওসমানের এই উন্নয়ন বক্তব্যে থাকলেও বাস্তবে এখানকার কাজে তেমন কোন উন্নয়নের চিত্র ফুটে উঠেনি। কিছুদিন আগে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরে উন্নয়ন হলেও ফতুল্লার উন্নয়ন হয় নাই। এখানকার জলাবব্ধতা নিরসন করতে পারে নাই। রাস্তা-ঘাটের বেহাল অবস্থা।

 

নারায়ণগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ফতুল্লা থানা। সদরের সংলগ্ন এই থানাটি ফতুল্লা, কুতুবপুর, এনায়েতনগর, কাশীপুর, বক্তাবলী ও আলীরটেক এই ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এলাকাটি রাজধানী শহর ঢাকার খুব নিকটবর্তী হওয়ায় এবং ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থান করায় নারায়ণগঞ্জের শিল্প কারখানার সিংহভাগই এই থানায় অবস্থিত। তবে শিল্প ও বাণিজ্যে সমৃদ্ধ এই এলাকাটি যতটা গুরুত্বপূর্ণ সে অনুযায়ী এখনে তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিমত। যদিও স্থানীয় সংসদ সদস্য তার নির্বাচনের পূর্বে এই এলাকাকে নতুন বউয়ের মতো করে সাজাবেন বলে বলেছিলেন। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি।

 

বরং উন্নয়নের অভাবে এখানে কিশোর গ্যাং, পরিবহন চাঁদাবাজি, জুট চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরণের অরাজকতা বেড়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। এখানে বর্ষা এলে কোন প্রকার বন্যা ছাড়াই বন্যার দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। অর্থাৎ একবার বৃষ্টি হলে সেই পানি মাসের পর মাস আটকে থাকে সহজে নামে না। তাই দিনের পর দিন মাসের পর মাস পানির মধ্যেই জীবন যাপন করতে হয় এখানকার জনসাধারণকে। এখানে অবস্থিত খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম যেটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যুর স্বীকৃতি পেয়েছিল সেই স্টেডিয়ামটি এখন একটি ডোবায় পরিণত হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জবাসী। ময়লা পানিতে স্টেডিয়াম ও এর আশেপাশের পরিবেশও দূষিত হয়ে পড়েছে। ফতুল্লা বক্তাবলী এলাকায় একটি সেতুর অভাবে ভূগছে বক্তাবলীবাসী।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফতুল্লা এলাকার বেশ কয়েকজন বলেন, আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন হলেও উন্নয়ন বঞ্চিত আছেন ফতুল্লাবাসী। এখানে যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে তা উন্নয়নের চলমান প্রক্রিয়া বা ধারাবাহিক উন্নয়নের তুলনায়ও কম। কিন্তু এখানকার নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা এখানকার প্রভাবশালী এমপির কারণে তা স্বীকার করতে পারেন না। কিংবা এই এমপিকে খুশি করার জন্য উন্নয়নের ঢোল পিটায়। প্রকৃতপক্ষে এখানকার জনগণ অত্যন্ত অবহেলিত ও দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছে। নেতাদের অনুগামীরা এলাকায় কিশোর গ্যাং তৈরী করে মাদক, ভূমিদস্যুতা ও ইট-বালু সিমেন্ট ব্যবসার নামে কাশীপুর, মাসদাইর, পঞ্চবটি, দাপা, কুতুবপুর ও আশপাশ এলাকায় বিশাল চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।

 

এখানকার মানুষ আমরা চরম দুর্ভোগে আছে উল্লেখ করে এই অঞ্চলের ভোটাররা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী বলে জানায় তারা। তাদের মতে মহল্লার রাস্তায় ড্রেনের ময়লা পানি। সেই ময়লা পানির দূষণের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয় ডাইং এর কালো পানি। এখানে একদিন বৃষ্টি হলে পরবর্তী দুই সপ্তাহেও সে পানি নামে না দুর্ভোগও কমে না। এখানকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোন উন্নতি না ঘটায় কারখানার বর্জ্য ও কেমিক্যাল মিশ্রিত পানির মধ্যে বছরের বেশিরভাগ সময়ই এখানকার অধিকাংশ এলাকা ডুবে থাকে। এখানকার রাস্তাঘাটের অবস্থাও খুবই শোচনীয়। বন্দর কিংবা সিদ্ধিরগঞ্জের তুলনায় এখানকার মানুষ খুবই দুর্ভাগা।

 

জলাবদ্ধতার বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. মনিরুল আলম সেন্টু জানান, জলাবদ্ধতার নিরসনে আমরা যে প্রস্তুতিই নেই না কেন তা নির্ভর করে এখানকার খালগুলোর উপর। এখন পর্যন্ত খালের কাজ সম্পন্ন হয়নি। খালগুলোর পানি প্রবাহ ঠিক করতে না পারলে এখানকার পানি বের করার রাস্তা হবে না, তাই এই বিষয়ে তেমন একটা অগ্রগতি হয়নি। সেনাবাহিনীরা যে ব্রিজের কাজ করছে সেখানে খালগুলো আটকানো আছে তাই পানি বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে। তবে এখানকার কাজগুলো ধীর গতিতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

 

এখানকার উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে কোন কাজ হয়নি এমনটা নয়। এখানে যে রাস্তাঘাট আছে তা ব্যবহারের ফলেতো নষ্ট হতেই পারে। এগুলো মেরামত করে আবারও ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে হবে। এটা এমন নয় যে, একবার করছি আর করা যাবে না। উন্নয়নের কাজ ধারাবাহিভাবে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান সিদ্ধিরগঞ্জ বা বন্দরের সাথে এখানকার তুলনা করলেতো আর হবে না। ঐগুলো সিটি কর্পোরেশনের আওতায়। তাদের টেন্ডারও অনেক বড় বড়। কিন্তু ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের আওতাভূক্ত হওয়ায় এখানকার টেন্ডার হয় ছোট অঙ্কের। সেখানকার উন্নয়নের সাথে এখানকার উন্নয়ন মেলানো যাবে না।

 

বক্তাবলী এলাকার জনগণের প্রাণের দাবি বক্তাবলী সেতুর বিষয়ে জানতে চাইলে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী জানান, করোনা মহামারির সময় এই সেতুর বিষয়টা যে থেমে গেছে তা আর সচল করতে পারিনি। এই বিষয়ে আমরা ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি বিষয়টি এখন আলোচনায় আছে। আপনারাও পত্রপত্রিকায় এই বক্তবলীবাসীর এই প্রয়োজনীয় বিষয়টি নিয়ে একটু লেখালেখি করলে হয়তো কাজটি শুরু করতে একটু সহজ হবে। তিনি জানান, ফতুল্লার বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধতা থাকলেও বক্তাবলীতে কোন প্রকার জলাবদ্ধতা নাই। তবে এই ইউনিয়নে দু’একটি রাস্তাঘাট ছাড়া এখানে অনেক কাজ হয়েছে বলে জানান তিনি।

এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন