ত্বকীর ঘাতকরা দেশে-বিদেশে চিহ্নিত : রফিউর রাব্বি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৩, ০২:০৫ পিএম
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি বলেন, ত্বকীর ঘাতকরা যতই নিরপরাধ সাজার চেষ্টা করুক না কেন, ঘাতকরা দেশে-বিদেশে চিহ্নিত হয়েছে, নিন্দিত হয়েছে। এই ঘাতক পরিবারটি স্বাধীনতার পরে নারায়ণগঞ্জে অসংখ্য লাশ ফেলেছে। ত্বকী হত্যার পর এই ওসমান পরিবারকে একটি খুনি পরিবার বলে উচ্চারিত হলো, তারপর থেকে এই হত্যাকান্ড কমেছে।
ত্বকী হত্যার পরেই সারাদেশের মানুষ জেনেছে, এই ওসমান পরিবার একটি খুনি পরিবার, ঘাতক পরিবার। এর আগে যেসব অসংখ্য খুন তারা করেছে, তখন খুনি পরিচয়টা তারা কোনভাবেই গায়ে লাগতে দেয় নাই। থানায় মামলা নেয়নি, ওদের নাম বাদ দিতে হয়েছে। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা অভিযোগপত্র তৈরি করে বলেছে, এই ওসমান পরিবারের টর্চারসেলে এরা, এতজন মিলে, এইভাবে, এই এই কারণে ত্বকীকে হত্যা করেছে।
সোমবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার দশ বছর পূর্তিতে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও শিশু সমাবেশে তিনি এইসব কথা বলেন। সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বির সভাপতিত্বে এই সময় আরও বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, ত্বকী মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান মাসুম, সদস্যসচিব হালিম আজাদ, খেলাঘর আসরের সভাপতি রথীন চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল। তিনি বলেন, দশ বছর পরেও র্যাবের সেই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হচ্ছে না। তদন্ত বিলম্বিত করে ওসমান পরিবারকে রক্ষা করা যাবে ভাবলে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। মানুষ এত বোকা বা নির্বোধ মনে করার কারণ নাই।
এতে রাজনৈতিক ফায়দা হয়তো হাসিল হতে পারে কিন্তু ত্বকীর ঘাতকরা যত উচ্চ স্বরেই চিৎকার করুক না কেন, আমরা জানি তারা ভীত, সন্ত্রস্ত। প্রতিমুহুর্তে আজরাইল পেছনে ছুটে আসছে এই ভয়ে তারা থাকে। ওসমান পরিবারের চিৎকার ভয়ের চিৎকার, সাহসীকতার না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ভয় দেখিয়ে আর লাভ নাই। যতভাবে ভয় দেখানো যায়, সবই দেখানো হয়েছে। সুতরাং আমরা এইখান থেকে পিছিয়ে যাবো না। শুধু ত্বকী হত্যার জন্য নয়, মনুষ্য উপযোগী, শিশুর জন্য একটি নিরাপদ বাসযোগ্য নারায়ণগঞ্জ গড়ার যে ঘোষণা আমরা দিয়েছি, সেই প্রত্যয় থেকে বিন্দুমাত্র আমরা পেছাবো না।
এইটা ঘাতকদের তো মনে রাখতে হবেই, প্রশাসনকেও মনে রাখতে হবে। প্রশাসনে যারা আছে, ডিসি-এসপি যারা মনে করেন, নারায়ণগঞ্জে একটিমাত্র পরিবার, রাজ পরিবার, তাদের তোষামোদি করতে হবে, সেসব ডিসি-এসপি-প্রশাসনকে নারায়ণগঞ্জের মানুষের কথা বুঝতে হবে। জনগণের বিপক্ষে গিয়ে খুনি-ঘাতকদের পক্ষ নেওয়া যাবে না। বেতন যে মানুষের টাকায় হয়, সেই মানুষের পক্ষ নিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন, ঘাতকদের বিরুদ্ধে দাঁড়ান। এন.হুসেইন/জেসি


