Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

আমিষ উঠে যাচ্ছে নিম্ন মধ্যবিত্তের পাত থেকে

Icon

আবু সুফিয়ান

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৩, ০৪:০৪ পিএম

আমিষ উঠে যাচ্ছে নিম্ন মধ্যবিত্তের পাত থেকে
Swapno


# ঊর্ধগতি সবজির দাম কমেনি মরিচের ঝাল


দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতির প্রতিযোগিতায় দিশেহারা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। অতি প্রয়োজনীয় এসব নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির যাঁতা কলে যেন পিষ্ট হচ্ছেন তারা। চাল, ডাল, তেল, সবজি সহ সবকিছুর দাম আজ নিম্ন ও মধ্যবিত্তের হাতের নাগালের বাইরে।

 

 

সব ধরনের মাছ আর মাংসের দাম বাড়ার কারনে আজ এই পরিবারগুলো শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় উপাদান আমিষের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ শহরের দ্বিগু বাবুর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কিনতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবি মো. ইউনুস।

 

 

তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাদের দেশে এমন একটা অবস্থার তৈরী হয়েছে যে কোন কিছুর দাম একবার বাড়লে তা আর কমে না। নিতাইগঞ্জ থেকে আসা এই চাকরিজীবি জানান, একটা সময় ছিল এই সাদা ব্রয়লার মুরগি মানুষ কিনতে চাইতো না। এমনকি মধ্যবিত্ত বলেন আর নিম্নবিত্ত বলেন, সকলে গরু কিংবা খাসির মাংস কিনতে চেষ্টা করতো। কিন্তু আজ সময়টা ভালো না। সময় বদলে গেছে।

 

 

ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে অতি দরকারি জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। আমাদের দেশের সরকার এই ব্যপারে সব সময় নিরব ভূমিকায় ছিল এখনো আছে। তিনি বলেন, আজ বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২৫০ টাকা। গরুর মাংস দিকে তো চাওয়াই যায় না, এ যেন মহা অপরাধ। তিনি লম্বা শ্বাস ছেড়ে বলেন, এই তো কয়েকদিন আগেও গরুর মাংস এক কেজি ৫০০ টাকায় কিনলাম।

 

 

আজ তা কেজি প্রতি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শেষে তিনি বলেন, গরুর মাংসের বাড়তি দাম বলে বাজারে এসেছিলাম ব্রয়লার মুরগি কিনবো বলে ; কিন্তু মুরগির বাজারে এসে দেখি আজ ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি। এতা দাম দিয়ে ব্রয়লার মুরগি কেনার সামর্থ্য নাই আমার। তাই বাসায় চলে যাচ্ছি। দ্বিগু বাবুর বাজার ঘুরে দেখা যায় সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছে।

 

 

বাবা-মায়ের দোয়া চিকেন হাউজের বিক্রেতা জানান, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা, কক মুরগি ৩৫০ টাকা, লেয়ার লাল মুরগি ৩০০ টাকা, লেয়ার সাদা মুরগি ২৮০ টাকা, প্যারেস্ট খাসি মুরগি ৪১০ টাকা এবং প্যারেন্ট খাসি মোরগ ৪৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজির বাজারের যেন আগুন লেগে আছে। এ আগুন যেন নিভছেই না।

 

 

দ্বিগু বাবুর বাজারে প্রতি কেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা, টমেটো ২৫-৩০ টাকা, লেবুর হালি সাইজ ভেদে ২০-৩০ টাকা, পাঁচ কেজি আলু ৮০ টাকা, পেঁয়াজ এক কেজি ৩৫ আর পাঁচ কেজি ১৫০ টাকা, পটল কেজি প্রতি ৬০ টাকা, শিম ৪০ টাকা, শসা ৩০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা, গোল বেগুন ৫০, লম্বা বেগুন ৩০ টাকা, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা, কচু মুখি ১০০ টাকা। 

 

 

হাইব্রিড মুখি ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিচ ৫০ টাকা, ঢেঁরস ৭০ টাকা, ফুল কপি পিচ প্রতি ৩০, বাঁধা কপি ২০ টাকা, রসূন ৯০-১০০ টাকা, দেশি আদা ৭০ টাকা এবং আমদানি করা আদা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। এ দিকে শিল্পাঞ্চল বিসিক ঘুরে দেখা যায়, সাদা ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ২৪৫ টাকায়।

 

 

লেয়ার লাল মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায় আর সোনালী বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। বিসিকের বাবুল পোল্ট্রির দোকানে ব্রয়লার মুরগি কিনতে এসেছেন গার্মেন্টস কর্মী মো. কবির হোসেন। তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, ” যে ভাবে সব কিছুর দাম বাড়ছে তাতে আর আমাদের বেঁচে থাকা মনে হয় আর হবে না। সব কিছুর দাম বাড়ছে। কি খাবো একটা সাদা ব্রয়লার মুরগি তারও দাম ২৪৫ টাকা।

 

 

তাইলে এক কেজি ব্রয়লার মুরগি ২৪৫ টাকা দিয়ে কিনলে চাল-ডাল কিনবো কোন টাকা দিয়ে ? সব কিছুর দাম বাড়ে আমাদের বেতন তো আর বাড়ে না ”। একই সড়কের পাশেই গরুর মাংস নিয়ে বসে আছেন এক মাংস বিক্রেতা। এই বিক্রেতা বলেন, দাম বাড়ার কারনে মাংস ক্রেতা অনেক কমে গেছে। তার পরও গরু জবাই করে মাংস নিয়ে বসে আছি, দীর্ঘ দিনের ব্যবসা তাই।

 

 

এখন ব্যবসা করে লাভ তো দূরের কথা মাংস বিক্রি করে লোকসান গুণতে হচ্ছে। একই দোকানে গরুর মাংস কিনতে এসেছেন মো. মানিক। গত দিনের থেকে দাম বাড়তি শুনে শুরু হয় বিক্রেতার সাথে বাকবিতন্ডা। বিক্রেতা জানান, তাদের বাড়তি দামে গরু কিনতে হচ্ছে। তাই মাংসের দাম কেজি প্রতি বেড়ে গেছে।    এন.হুসেইন/ জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন