নির্বাচন নিয়ে মুখ খুললেন শামীম ওসমান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৩, ০৩:২১ পিএম
আগামী নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ বিএনপি গত বছর থেকে মাঠ কাপাচ্ছে। বিএনপি চায় ক্ষমতাসীন দলকে হটিয়ে তারা ক্ষমতায় আসতে। অপরদিকে আওয়ামী লীগও ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য এবার এক বছর আগে থেকেই আগামী দ্বাদশ নির্বাচনের প্রচারনায় নেমেছেন।
সেই সাথে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্যকে এখন থেকে মানুষের কাছে উন্নয়ন তুলে ধরার পাশা পাশি নৌকার জন্য ভোট চাওয়ার আহ্বান জানানা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু বিএনপি দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদের পাশা পাশি সরকারের পদত্যাগের দাবী তুলে আন্দোলনকে জোরালো করছেন।
সেই সাথে একের পর এক আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে। তবে বিএনপির এই আন্দোলনকে কর্ণপাত করছেন না নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মাঠে নামার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন দলীয় সভা নেত্রী শেখ হাসিনা। তার এি নির্দেশনার আগেই অনেক এমপি মাঠে নেমেছেন। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলের বিপক্ষে নেতা কর্মীদের নিয়ে রূপগঞ্জে মাঠে থেকেছেন।
এই দিক দিয়ে শামীম ওসমান মিছিল নিয়ে মাঠে না নামলেও তিনি বিশাল আকালে ওসমানি স্টোডিয়ামে ছাত্রলীগ দিয়ে সমাবেশের আয়োজন করেছেন। সেই সাথে ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গ্রম বক্তব্য দিয়ে নেতা কর্মীদের জাগ্রত রাখছেন। পাশা পাশি সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরছেন।
একই সাথে তার নিজ এলাকার উন্নয়ন তুল ধরে আবারও শেখা হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি। আর এজন্য মানুষের কাছে আবারও নৌকার জন্য ভোট চাইছেন।
অপরদিকে গতকাল এক সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান আগামী নির্বাচন নিয়ে মুখ খুলেছেন, তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের এমপি হিসেবে নয়, কর্মী হিসেবে বলছি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাদের বাচ্চাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। আল্লাহ মাফ করুক, যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, কাল যদি উনার কোন ক্ষতি হয়, এই দেশ এমন জায়গায় চলে যাবে। সেখান থেকে উঠে আসা কঠিন হবে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, আমি নির্বাচন করবো কি না জানিনা। আমি বাঁচবো কি না তাও জানিনা। তবে মানুষের জন্য কাজ করতে পারলে আমার ভাল লাগে। অপরদিকে তিনি গত নির্বাচনের আগেও একই কথা বলেছেন। পরে যখন নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছেন তখন বলেছেন নেত্রীর নির্দেশে নির্বাচন করছেন।
তবে তিনি ব্যপক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার একই বক্তব্য এবার দেয়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝে ব্যপক আলোচনা হচ্ছে। তিনি নির্বাচনের আট মাস আগেই নির্বাচন করবেন কি করবেন না তা নিয়ে ভাবছেন। তবে তিনি মাঠ ছাড়েন নাই। নেতা কর্মীদের জাগ্রত রেখেছেন।
তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন তিনি নির্বাচন নিয়ে হয়ত এখন থেকে ভাবছেন। তাই নির্বাচন করবেন কী না তা নিয়ে নিজেই প্রশ্ন তুলেছেন।
উল্লেখ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রমতে এ্ই বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে কিংবা জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হতে পারে। সেই অনুযায়ী ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছেন।
পাশা পাশি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে বিএনপি তাদের অর্ধীনে নির্বাচনে আসবে না বলে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত কী হয় সেই দিকে তাকিয়ে আছে মানুষ। এন.হুসেইন/জেসি


