কর্তৃত্ব বজায় রাখতে নেতৃত্ব পরিবর্তনে অনীহা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৩, ০৭:৩২ পিএম
# সাংগঠনিক নয়, ব্যক্তিগত অর্জনেই টার্গেট
# সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বিপরীত মেরুতে
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগে কেন্দ্র থেকে সম্মেলন বা ইউনিট কমিটিগুলো গঠনে কেন্দ্র থেকে জোর তাগিদ দেয়া হলেই পদ নিয়ে মহানগরের শীর্ষ নেতাদের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ও নানা সমীকরণ পৃষ্ট হয়ে স্লান হয়ে সকল কার্যক্রম। যেটা লক্ষ্য করা গিয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন স্থগিত হওয়ার পর কেন্দ্র থেকে ইউনিট কমিটি গঠনের তাগিদ দেয়া হলে সম্মেলন করে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে এখনো ইউনিট কমিটিগুলো গঠন করতে পারেনি।
কারণ ওয়ার্ডের সম্মেলন থেকেই শীর্ষ নেতার মধ্যে নেতা নির্বাচন নিয়ে দেখা দেয় দ্বন্দ্ব। যার কারণে সম্মেলনের পর এখনো নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড কমিটির দেখা মিলেনি উল্টো সম্মেলনে কয়েকটি ওয়ার্ডে অর্ধ কমিটি করলেও নেতৃত্ব চলছে খুঁড়িয়ে। এভাবে ওয়ার্ড কমিটি নানা সমীকরণের যাঁতাকলে পৃষ্ট হয়ে থমকে যাওয়ার মাধ্যমে সহসাই হচ্ছে না নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন বা মহানগরের আওয়ামীলীগের নেতৃত্বের রদ-বদল।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের অভিভাবক খ্যাত মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মহানগরের আওয়ামীলীগের ইউনিট কমিটিগুলো পূর্ণতা না দিয়েই সাংসদ হওয়ার জন্য পোষ্টারিং এর মাধ্যমে এখন থেকেই প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন যেটা মহানগর আওয়ামীলীগের নেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
সূত্র বলছে, ২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ২৫ অক্টোবর মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আযম এমপি। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেই সম্মেলন বাতিল ঘোষণা করেন।
তবে গত ৩০ অক্টোবর মহানগর আওয়ামীলীগের ১নং সদস্য এমপি শামীম ওসমানের উপস্থিতিতে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দ্রুত সময়ে কর্মী সভা করার মাধ্যমে তিনটি করে ওয়ার্ডের সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত ওঠে আসে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের প্রায় দুমাস হতে চললেও কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে আবার বন্ধ হয়ে যায়।
কারণ ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশের সামনে রেখে বিএনপির নৈরাজ্য ঠেকাতে আওয়ামীলীগ নেতাদের তৎপর থাকার নির্দেশনায় সাময়িক স্থগিত হয়ে যায় ওয়ার্ড কমিটির কার্যক্রম। পরবর্তীতে ৮ জানুয়ারি বিকেলে শহরের ২নং রেলগেইট এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই কার্যকারী সভায় মহানগর আওয়ামীলীগের ১৭ ওয়ার্ডের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ জানুয়ারি ২৬,২৭ ওয়ার্ডের সম্মেলনের মাধ্যমে মহানগরের ওয়ার্ড কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়। সেদিন সম্মেলনে মাত্র ২৬নং ওয়ার্ডের সভাপতি না ঘোষণা করেন বাকি অন্যান্য পদে প্রার্থী বেশী থাকার অযুহাতে আর নেতা নির্বাচিত করেননি মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব। এভাবে ধাপে ধাপে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের সম্মেলন শেষ করলেও সম্মেলন থেকে নেতা নির্বাচিত করতে পারেনি।
উল্টো ১২নং ওয়ার্ডের সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে নিয়াজুল ইসলামকে নির্বাচিত করা হলে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি চটে গিয়ে তাকে নিয়ে নানা রকম মন্তব্য করলে আবারও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে দেখা দেয় বিভক্তি। কারণ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এই ওয়ার্ডে পছন্দের নেতা বসাতে ব্যর্থ হয়ে নাখোশ হয়ে পড়েন।
তবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতির নিয়াজুলকে নিয়ে মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ১১ ফেব্রুয়ারী শহরের চাঁদমারী এলাকায় প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মফিজুল ইসলামের স্মরণ সভায় বক্তব্য প্রদানকালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন, ‘খন্দকার মোশতাকের মিটিং ভাঙ্গার ব্যাপারে নাসিম ওসমানের সাথে কাজ করেছিলেন সুইট।
খালেদা জিয়াকে কালো পতাকা দেখানোর অপরাধে ডান্ডাবেরি পড়ানো অবস্থায় জেল থেকে বের করে গুলি করে মারা হয়েছিলো। সুইটের ছোট ভাই নিয়াজুলকে অক্টো অফিসের সামনে বিএনপি গুলি করে মৃত ভেবে চলে গেছিল। ২৪ দিন হলি ফ্যামিলি প্রতি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে বাঁচানো হয়েছিলো। অথচ আমাদের কোন নেতা বলেন কাউকে খুশী করার জন্য।
যারা ভুষি খেয়ে অভ্যস্ত। কবিতা পড়েন সব সময়ে। “মাগো তুমি কল্পতরু, আমরা তোমার কেনা গরু, যদি দাও একটু ভুষি, তাতেই আমরা খুশী ”। হাই ভাই (জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক) যেন জেলা পরিষদের কি ছিল, কি যেন কয় খালি হয়ে গেছিলা সব। তাঁরা আজকে বলে সন্ত্রাসী। হুমম বুঝা যায় আমাদের এটা’।
আর এই গুরু শিষ্যের পাল্টাপাল্টির বক্তব্যের মাধ্যমে উত্তপ্ত হয়ে উঠে মহানগর আওয়ামীলীগের রাজনীতি। পরবর্তীতে বহু চড়াই উৎড়াইয়ের পর শেষতক মহানগর আওয়ামীলীগের ঘোষিত ১৭টি ওয়ার্ডে সম্মেলন শেষ করলেও ৭টি ওয়ার্ডে কমিটি দিতে পেড়েছে এরমধ্যে ৩টি ওয়ার্ডেই করেছে অর্ধ কমিটি।
তবে মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব সম্মেলন চলকালে গণমাধ্যমে বক্তব্যে বলেছিলেন কমিটি গঠনের জন্য সম্মেলনের দিন তারিখ ঘোষাণা করেছেন যে সকল ওয়ার্ডগুলোতে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সে সকল ওয়ার্ডের কমিটিগুলো ঘোষণা করবেন। কিন্তু এভাবে ফেব্রুয়ারি মাস অতিক্রম করে মার্চ অতিক্রম করলেও এখনো সম্মেলনের পর কোন ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করতে পারেনি।
এছাড়া সম্মেলনের পর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককেও এক টেবিলে দেখা যায়নি এবং কমিটিগুলো গঠনের বিষয়ে কোন বার্তাও দিতে পারেনি। উল্টো নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ হতে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে পোষ্টারিং করতে দেখা যাচ্ছে। তবে তার এমন প্রচারণায় মহানগর আওয়ামীলীগের নেতারা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
কারণ ইউনিট কমিটিগুলো পূর্ণতা না দিয়েই উল্টো সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে জানান দিয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন নিজের কৃতিত্ব বজায় রাখতে আগে থেকে কৌশল করে বন্দর অঞ্চল এবং শহর অঞ্চলের কমিটিগুলোতে তার পছন্দের নেতা পদায়ন করার জন্য সম্মেলনে নেতা নির্বাচিত করেননি।
কারণ নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর এবার মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের চোখ পড়েছে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে। কারণ নারায়ণগঞ্জ-৫ এর নির্বাচনী এলাকা হল বন্দর এলাকা এবং সদরের কিছু সংখ্যাক এলাকা নিয়ে। যার কারণে বন্দরের ওয়ার্ড কমিটি গঠনে সকল ওয়ার্ডগুলোতে সম্মেলন শেষ হলেও মাত্র একটি ওয়ার্ডে সভাপতির নাম ঘোষণা করেছে।
কারণ বন্দরের ১০টি ওয়ার্ডেই তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে মড়িয়া। বন্দর ও শহর অঞ্চলের ওয়ার্ড সম্মেলনগুলো শেষ হলেও মহানগরের সভাপতি আনোয়ার হোসেন কমিটিগুলো গঠনে উদ্রগীব নয়। কারণ এ সকল এলাকা হল নারায়ণগঞ্জ-৫ তার নির্বাচনী এলাকা তাই যেকোন মূল্যে তার ব্যক্তিগত কর্তৃত্ব বজায় রাখতে কমিটিগুলো তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রতিয়মান হয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের শীর্ষ নেতারা তাদের ব্যক্তিগত কৃতিত্ব বজায় রাখতে নানা অযুহাত দাঁড় করিয়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনে অনিহা দেখাচ্ছে। এন.হুসেইন/জেসি


