টিসিবির পণ্য আত্মসাতের অভিযোগ ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুলের বিরুদ্ধে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৩, ০৮:৪২ পিএম
# জোরপূর্বক ৬২০টি টিসিবি’র পণ্যসহ গাড়ী গোডাউনে তালা মারে : মাসুদ আলম
# জনগণ উত্তেজিত হলে তখন হয়তো তাদের উপরে হাত লাগে : সিরাজুল ইসলাম
# তিনি বিষয়টি স্বীকার করে সরি বলেছে, আমরা ব্যবস্থা নিবো : ডিসি
বন্দরে টিসিবি’র পণ্য স্মাট কার্ডধারী সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ না করে জোর করে আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করর্পোরেশন এর ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। বন্দরে গত ১ এপ্রিল পণ্য বিতরণের সময় ২৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সিরাজুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে ভোক্তাদের নিকট স্মার্ট বিতরণ না করে তার পুত্রদের দিয়ে ও সে নিজেও ১০ টি ও ২০ টি কার্ডের মাধ্যমে কয়েকবার টিসিবি’র পণ্য নিয়ে যায়।
পরে মেসার্স মাশফি এন্টারপ্রাইজ মালিক মো. মাসুদ আলম বাধা দিলে তাকে মারধর করেন। কেউ তাকে আটকাতে গেলে তার উপরও সে ভীষণ চড়াও হয়। এমনি করে প্রথম বার ১৫০ থেকে ২০০ টি মালামাল নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আবার ভোক্তাদের মাঝে পণ্য বিতরণ করতে না দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক প্রায় ৬২০টি টিসিবি’র পণ্যসহ তার নিজস্ব গোডাউনে গাড়ি ঢুকিয়ে গাড়ি ও পণ্যসহ গোডাউন তালা মারেন। তারপরে মেসার্স মাশফি এন্টারপ্রাইজ মালিক মো. মাসুদ আলমকে গোডাউনে পণ্য রেখে খালি গাড়ি দিয়ে বিদায় করে দেন।
এবিষয়ে মেসার্স মাশফি এন্টারপ্রাইজ মালিক মো. মাসুদ আলম বলেন আমি কি দোষ করেছি? সে আমাকে মারলো আর সাধারণ মানুষের জন্য যে পণ্য সে ওগুলা তার নিজের গোডাউনে রেখে দিলেন মানুষকে না দিয়ে। তার জন্য আমি গত ২ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ ও ৪ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। যাতে তার বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি তাকে মারি নাই। সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলছে। সে মাল দিতে আসছে, আমি তাকে তিনটা কার্ড দিয়েছি। পরে সে বলে একটি কার্ডের মাল নিয়ে গেছে কিন্তু তখন মাল দেওয়া শুরু করেনি। তখন হঠাৎ করে জনগণ উত্তেজিত হয়ে যায় তখন হয়তো তাদের উপরে হাত লেগেছে। সে বলছে আমি মাল রেখে দিছি আপনারা এলাকায় এসে জিজ্ঞাসা করেন তাহলে বুঝতে পারবেন। আমি কোন মাল রাখি নাই। এখন সে যদি আমার বিরুদ্ধে বলে, তাহলে কিছু করার নাই।
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, বন্দরে ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম সাহেবকে ডেকেছি। তার সাথে কথা হয়েছে। তিনি বিষয়টি স্বীকার করে সরি বলেছে। আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এস.এ/জেসি


