Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

সক্রিয় ছিনতাইকারী চক্র

Icon

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৩, ০৮:৫৯ পিএম

সক্রিয় ছিনতাইকারী চক্র
Swapno

 

# প্রতিটি মার্কেট পুলিশের ফোর্স রয়েছে : ওসি আনিচুর

 

 

বছরে দুটি ঈদকে ঘিরে শপিংমল গুলোতে বেড়ে যায় বেচাকেনা। এই সময় ঈদের বাজারে মানুষের ভীড় জমে থাকে। এই ভীড়কে কেন্দ্র করে শহরের মার্কেট গুলোতে একাধিক অজ্ঞান পার্টি-মলম পার্টি-টানা পার্টির দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। সেই সাথে পকেট মার, ছিনতাইকারী ব্যাপকহারে বাড়ে। তাদের কাছে অনেক মানুষ তার শেষ সম্বলও হারান বলে এমন অভিযোগ রয়েছে।

 

ইতোমধ্যে রমজানের রহমতের দশ দিন শেষ হয়ে মাগফেরাতের দশ দিন চলছে। তাই ঈদকে ঘিরে শপিং মলগুলোতে মানুষের ভীড়ও বেড়েছে। সেই সাথে শহরের বিভিন্ন মার্কেটে প্রতিদিন পকেট মারের ঘটনা সহ ছিন্তাইয়ের ঘটনা ঘটছে। আর এতে করে অনেক ব্যক্তি তার সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষ সারাদিন রোজা রেখে ইফতার এবং রাতে সাহরির পর হাঁটাহাঁটি করে থাকেন, নামাজ পড়তে মসজিদে যাতায়াত করেন। পাড়া-মহল্লায় রাত-বিরাত এবাড়ি- সে বাড়ি যাতায়াত করেন। কিন্তু নির্বিঘ্নে চলাচলের উপায় নেই।

 

ছিনতাইকারীর ভয়ে আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করতে হয় বলে অভিযোগ নগরবাসীর। এছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে এসে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় নেমে ছিনতাইকারীর কবলে পরে সব কিছু হারিয়ে কোন রকম জীবন নিয়ে ফিরে যেতে হয়। আবার অনেকের জীবন পর্যন্ত হারান ছিনতাইকারীদের কবলে পরে। ঈদকে ঘিরে শহরের চাষাঢ়া থেকে শুরু করে নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত একাধিক স্পটে ছিনতাইয়ের ঘটনা অহরহ ঘটছে বলে জানান শপিংমলের দোকানিরা।

 

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চাষাঢ়া মোড়, বঙ্গবন্ধু সড়ক, শায়েস্তা খান রোড, সিরাজউদ্দৌলা সড়ক, বন্দর ঘাট ছিনতাইকারী তথা অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়াও যানবাহনে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও টানা পার্টির ভয়তো রয়েছেই। সুযোগ বুঝে ছোঁ মেরে মোবাইল ফোন নিয়ে ভোঁ দৌড়, যাত্রীদের চোখে-মুখে মলম, মরিচের গুঁড়া স্প্রে করেও সবকিছু হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। ঈদ উপলক্ষে রমজান মাস জুড়ে সড়কে ছিনতাই ঠেকানো এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য কমছে না।

 

জানা যায়, প্রতিদিন নানা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় ফজর আলী টাওয়ারের সামনে মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা এক শিক্ষার্থীর মোবইল মহিলা ছিন্তাইকরে নিয়ে যায়। কিন্তু ছিন্তাইকারী নারীকে সনাক্ত করা হলেও তার কাছে মোবাইল পাওয়া যায় নাই। এছাড়া শহরের শপিংমল থেকে শুরু করে শহরের দিগু বাবু বাজারেও ছিন্তাইয়ের ঘটনা ঘটছে। ঈদকে ঘিরে ছিন্তাকারীরা যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।

 

রাইসা ইসলামের মতো শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ছিনতাইকারীর কবলে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। কখনও হাঁটা পথে, কখনো বা বাসের জানালা দিয়ে কেড়ে নেয়া হচ্ছে তাদের জিনিসপত্র। এছাড়া সাধারণ মানুষ রিকশায় যাতায়াতের সময় মোটরসাইকেল থেকে ছোঁ মেরে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও জিনিসপত্রসহ ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছে ছিনতাইকারীরা। কিন্তু পুলিশের খাতায় এসব ঘটনা নথিভুক্ত হচ্ছে সাধারণ ডায়েরি হিসেবে।

 

সমাজবিদদের মতে, যখন মানুষের অর্থনৈতিক অনটন চরম পর্যায়ে পৌঁছায় তখন মানুষের মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে। মানুষ তখন যেকোনোভাবে যেকোনো মূল্যে তার ন্যূনতম প্রয়োজনগুলো মেটাবে। আর যেকোনো মূল্যের একটা উদাহরণ হচ্ছে ছিনতাই। ছিনতাইকারীরা ধরাও পড়ছে আবার জেলেও যাচ্ছে। কিন্তু কারাগারে তাদের প্রোপারলি রিহেবিলিটেশন করানো হচ্ছে না। তাই এরা বের হয়ে আবারো ছিনতাইয়ে জড়াচ্ছে। এদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে রাখার কোনা সিস্টেম নেই।

 

নগরবাসী বলছেন, বিশেষ করে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা বেশিভাগ সময় ঝামেলা এড়াতে থানা-পুলিশে অভিযোগ দিতে চান না। আর যেসব ঘটনা বেশি আলোচিত হয়, শুধু সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। তবে দেখা যায় তারাও কিছুদিন পরে জামিনে বের হয়ে আবার একই কাজে জড়ায়। ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ করতে হলে তাদের সঠিকভাবে পুনর্বাসন ও এলাকায় এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিং শক্ত করা দরকার। এছাড়া নগরবাসী সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের লোকজনদের সতর্ক হতে হবে।

 

জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আনিচুর রহমান জানান, আমরা প্রতিটি শপিংমলে পুলিশের ফোর্স দিয়েছি। মার্কেটে আসা ব্যক্তিরা যেন নিরাপদে শপিং করতে পারে তার জন্য আমরা সর্বাত্বক ব্যবস্থা নিয়েছে। আমাদের পুলিশ সদস্যরা সতর্ক রয়েছে।
এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন