# এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুবিধা নিতে চাচ্ছে অনেকে
# ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই জন গ্রেফতার
# ২০ জনের নামে থানায় মামলা করেন মেরাজের মা
বন্দরে অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুন জখম হামলা মামলা যেন এখন নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিভিন্ন পেশার বিভিন্ন সুবিধাবাদীরা ফায়দা লুটার চেষ্টা করছেন বলেও স্থানীয় একাধিক গোপন সূত্রে জানা গেছে। আর বন্দরের রূপালী আবাসিক এলাকায় সোমবারের রাতের ঘটনাটিও সেই আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বেরই ধারাবাহিকতা বলে মনে করেন স্থানীয় একাধিক সচেতন মহল।
তবে এসব ঘটনার সাথে বেশ কিছু প্রভাবশালী লোক, প্রশাসনের কিছু সুবিধাবাদী লোক এবং কিছু নামধারী মিডিয়ার লোক জড়িত থাকায় খুব সহজে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে স্থানীয় পঞ্চায়েত কিংবা সুধীমহলও ভয় পায়। তবে এসব বিষয়গুলো প্রশাসন শক্ত হাতে দমন করলে কিংবা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এতটা বাড়াবাড়ি হতো না বলে মনে করেন তারা। তাই মেরাজ কেন হত্যা হলো ? এবং এর নেপথ্য কারণসহ এর আগের এবং পরের ঘটনাবলী বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
কি হয়েছিল সেদিন?
গত ৩ এপ্রিল সোমবারের ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেদিন সন্ধ্যায় মেরাজ তার আয়মান নামক ওয়ার্কশপে কাজ করতেছিলেন। সেখানে তার সাথে বসা ছিল তার বন্ধু আল আমিন। হঠাৎ করেই ৬/৭ জনের একটি গ্রুপ সেখানে প্রবেশ করে মেরাজকে এলোপাথারিভাবে কোপাতে শুরু করে। এ সময় হামলাকারীরা মেরাজের সাথে থাকা আলআমিনকেও কোঁপাতে থাকে। পরে স্থানীয়রা চলে আসলে হামলা কারীরা পালিয়ে যায়। এ সময় গুরুতর আহতবস্থায় তাদের দুজনকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে তাদের ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে নয়টার দিকে মারা যায় মেরাজ। আলআমিন সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকে এবং একটি ভিডিও বক্তব্যের মাধ্যমে ঘটনার বর্ণনা এবং জড়িতদের নাম বলেন।
আল আমিন যা বলেন
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসারত অবস্থায় আল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, কাইল্যা রানা ও রূপালীর মানিক তারা দুইজন এসে মেরাজকে ধরে রাখে। তখন চিনালদীর চুল্লা রাজু নাসিক ২১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহিনের ভাগিনা সৌরভ, পিংকী ও অপু এরা আইসা এলোপাথারী কোঁপানো শুরু করে। কি হইছে জানতে চাইলে পিংকী আমার হাত ধরে রাখে আর চুল্লা রাজু আমাকেও কোঁপাতে শুরু করে। কাউন্সিলর শাহীন মিয়া তখন গাড়ির মধ্যে বসা ছিল। আমরা যখন আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছি তখন কাউন্সিলর শাহীন বলতেছে তোমরা এসে পড়ো দেখো ওরা মরছে কি না! তখন ওরা লাথি দিয়ে দেখার চেষ্টা করে আমরা বেঁচে আছি কি না। তখন পাশের একটি মসজিদে যারা নামাজ পড়তে ছিল তার কয়েকজন দৌঁড়ে আসে। একই সাথে আশেপাশের মানুষজন বের হয়ে আসে। তাদের আওয়াজ পেয়ে হামলাকারীরা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। তবে নাসিক কাউন্সিলর মো. শাহিন মিয়া বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন এই হামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি আরও বলেন, সোয়েব ও রবিনদের বাড়ি আমার বাড়ির পাশেই। ওরা সম্পর্কে আমার চাচাতো ভাই হলেও ওরা চুল্লা রাজুর পক্ষে কাজ করে। দুই রাজুর মধ্যে আগে থেকেই দ্বন্দ্ব। আমি যতটুকু শুনেছি বিষয়টি ওই দ্বন্দ্বের জেরেই ঘটেছে। কিন্তু এই ঘটনার সাথে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নাম জড়ানো হয়েছে। আমার বাড়িঘরে হামলা করা হয়েছে।
কাউন্সিলরের বক্তব্য
গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় নাসিক ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহিন মিয়া বলেন, ‘আমি ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শাহিন মিয়া। পরিস্থিতির কারণে আমি আজ ভিডিওর মাধ্যমে আপনাদের সামনে আসতে বাধ্য হয়েছি। গতকালের ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে বিভিন্নভাবে আমার সংশ্লিষ্টতা আছে বলে প্রমাণের চেষ্টা হচ্ছে। আমি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করছি, যদি আমার সম্পৃক্ততা (এই ঘটনার সাথে) থেকে থাকে, আমাকে যে ধরণে শাস্তি দিবেন আমি মাথা পেতে নিব। আল আমিন নামের ছেলেটি যে বয়ান দিয়েছে, তা আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবি করছি। আমার আত্মীয় স্বজন যদি জড়িত থাকে তাহলে অবশ্যই তাদের বিচার হোক। তাই বলে আমার অফিসে আমার বাসা বাড়িতে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুর করেছে, আপনারা বিষয়টি দেখবেন। আমি সবার কাছে, বিশেষ করে প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সাথে আমার সম্পৃক্ততা থাকার বিষয়টি দেখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। আমি এমপি মহোদয়ের কাছে অনুরোধ করছি আল্লাহর রস্তে আমাকে এই মিথ্যে মামলা থেকে বাঁচানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
মেরাজের মা ও ভাইয়ের বক্তব্য
নিহত মেরাজের মা নাসরিন বেগম বলেন, মেরাজের সাথে স্থানীয় কাউন্সিলর শাহীনের লোকজন, কাজল ও মাসুদ বাহিনীর দীর্ঘদিন যাবতই বিরোধ ছিল। তাই বেশ কয়েকমাস যাবত পাথর ব্যবসার সাথে সাথে ওয়ার্কশপের ব্যবসারও কাজ শুরু করে মেরাজ। তবে মেরাজ সম্প্রতি পাথরের ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছিল বলেও জানান তিনি। ছেলের ব্যবসা ভালো হতে শুরু করায় মেরাজ তার মাকে কাজে যেতে নিষেধ করেছিল বলেও জানান তিনি। মেরাজের ছোট ভাই শুভও তার মায়ের সাথে একমত পোষণ করে জানান, আমার ভাই দীর্ঘদিন যাবত পাথরের ব্যবসা করেছে। সেই ব্যবসার কারণেই তাদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় মেরাজের। কিছু দিন আগে এই ব্যবসা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে মেরাজ পাথর ব্যবসা ছেড়ে দেয়। মেরাজের ভাই সম্রাট বলেন, হামলাকারীদের মধ্যে কাউন্সিলরের আত্মীয়-স্বজনও আছে। ওদের সাথে ড্রেজার ব্যবসা নিয়া আমার ভাইয়ের ঝগড়া ছিল। হামলা যারা করছে তাদের কয়েকজনের মুখ বাঁধা ছিল বলে যারা দেখছে তারা জানাইছে।
মেরাজের উপর হামলার পরের ঘটনা
মেরাজদের উপর হামলার ঘটনার পর পরই বেশ কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। স্থানীয় জনতার নাম করে মেরাজ বাহিনীর সদস্যরা কাউন্সিলর শাহিনসহ রূপালী আবাসিক এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ রূপালী আবাসিক এলাকার পঞ্চায়েত কমিটির কার্যালয়েও ভাংচুর চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, মেরাজের উপর হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ছালেহ নগর এলাকার মোতা মিয়ার ছেলে নাদিমের বাড়িতে গিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ আসামীর তালিকায় নিজেদের প্রতিপক্ষের নাম জড়ানোসহ এলাকায় ভাঙচুর চালিয়ে লুটপাট করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়গুলো স্থানীয় প্রশাসনকে গুরুত্বের সাথে হ্যান্ডেল করার আহবান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য
গতমাসে বন্দরের নূরবাগের রাজু আহমেদ ও চিনারদীর আকিব হাসান রাজুর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার সাথেও মেরাজ ও আল আমিন জড়িত ছিল বলে জানা যায়। তারা রাজু আহমেদের হয়ে আকিব রাজুর বিরুদ্ধে কাজ করেছিল বলে জানা যায়। সেই ঘটনায় উভয় পক্ষ হতেই থানায় মামলা করা হয়। যে মামলায় মেরাজও আসামী ছিল। সেই মামলায় সম্প্রতি তারা হাইকোর্ট থেকে জামিন নেবার পর এলাকায় ফিরেছেন বলে জানা যায়। এরপর সোমবার সন্ধ্যায় তাদের উপর হামলার ঘটনাটি ঘটে। তাছাড়াও সালেহ নগর এলাকার কাজল নামের একজনকে কিছুদিন আগে মেরাজ বাহিনীর হামলার শিকার হতে হয়েছে বলেও জানা যায়। সব কিছু মিলিয়ে এই হামলার বিষয়টিকে তাই অনেকেই আবার সেই ঘটনারই ধারাবাহিকতা বা ফল বলে মনে করেন। অন্যদিকে কাউন্সিলরের উপস্থিত থাকার বিষয়ে স্থানীয়রা কোন তথ্য দিতে পারেনি। অনেকেই আবার মনে করেন প্রশাসন যদি বিষয়টি সঠিক তদন্ত করে তাহলে সে সময় কাউন্সিলর কোথায় ছিলেন তা বের করা কোন বিষয়ই না। একই সাথে এই মামলায় যেন কেউ কেউ তাদের ব্যক্তিগত চরিতার্থ করতেও ওঠেপড়ে লেগেছেন বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তাই মামলার আসামীদের তালিকার বিষয়ে প্রশাসনকে একটু সচেতন এবং দায়িত্বশীল আচরণ করারও অনুরোধ জানান তারা।
সেলিম ওসমানের প্রতিনিধি দল
অন্যদিকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ঘটনার এলাকা পরিদর্শনের জন্য একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান। তার নির্দেশে গতকাল মঙ্গলবার বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদ, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, নাসিক ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেন এবং বন্দর থানার ওসি আবুবকর ছিদ্দিক নিহত মেরাজের বাড়িতে এসে স্ত্রী, সন্তান ও ভাইবোনদের সাথে কথা বলেন। এ সময় তারা হত্যাকান্ডের সঠিক তদন্তের স্বার্থে জড়িত প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতার করতে উত্তেজিত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম ওসমানের নির্দেশে আমরা বন্দরে মেরাজ নামে এক যুবক হত্যাকান্ডে গভীর শোক প্রকাশসহ নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। অযথা উত্তেজিত হবেন না। কেউ কেউ এই হত্যাকান্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করবে। কেউ যেন আইন হাতে তুলে না নেয় সেই আহবান জানিয়ে তারা বলেন, আপনারা প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন। আমরা চাই প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হউক।
আটক ও মামলা
মেরাজের উপর হামলা এবং নিহত হওয়ার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এরই মধ্যে আব্দুর রব (৪৮) ও স্বপন (৩৮) নামে দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে রূপালী আবাসিক এলাকা ও ছালেহনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। আব্দুর রব বন্দর রূপালী আবাসিক এলাকার সৈয়দ আলী মিয়ার ছেলে এবং স্বপন ছালেহনগর এলাকার মুছা মিয়ার ছেলে। এই ঘটনার সাথে অন্যান্যদেরকে আটক করার চেষ্টা চলছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে নিহত মেরাজুলের মা নাসরিন বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সিটি করপোরেশনের ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহীন মিয়াকে হুকুমের আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৬ জনকে বিবাদী করা হয়। মামলার অপর নামীয় আসামীরা হলো বন্দরের চিনারদী এলাকার শাহ আলমের ছেলে আকিব হাসান রাজু (৩৪), ছালেহনগর এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে সোহেব ওরুফে সৌরভ (২৮), নূর হোসেনের ২ ছেলে সাখাওয়াত হোসেন পিংকি (৩৮) ও বাবু (৪৫), আব্দুল জলিলের ছেলে ফয়সাল ওরফে রবিন (৩০), শামসুদ্দিন প্রধানের ছেলে কাজল প্রধান (৪৮), মুছা মিয়ার ছেলে মাসুদ ওরুফে মাইচ্ছা (৪৮), তোতা মিয়ার ছেলে নাদিম (৩৭), রূপালী আবাসিক এলাকার বাকি মিয়ার ছেলে মানিক (৩৫), একই এলাকার মৃত সোয়েব আলী বেপারীর ছেলে আব্দুর রব (৫৫), মুছা মিয়ার ছেলে স্বপন (৪৮), সোবহান মিয়ার ছেলে বিল্লাল হোসেন বিল্লু (৩৩), কুদ্দুস মিয়ার ছেলে রানা ওরুফে কাইল্লা রানা (৩২)।
অন্যদিকে এই মামলার হুকুমের আসামী কাউন্সিলর শাহিন মিয়ার পরিাবারের পক্ষ থেকেও একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এই মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে বন্দর থানায় এই মামলা প্রদান করা সম্ভব হবে না বলে কাউন্সিলরের পরিবার নারায়ণগঞ্জ কোর্টে এই মামলা দায়ের করবেন বলে একটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গেছে।
এস.এ/জেসি


