‘ত্বকী হত্যার বিচারের জন্য শামীম ওসমানকে কেন ছাড় দেওয়া হচ্ছে’
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৩, ০৭:২০ পিএম
# মানববন্ধন থেকে আবারো সকল হত্যার বিচার চাই : রফিউর রাব্বি
তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার দশ বছর উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় আলী আহাম্মদ চুনকা নগর মিলানায়তন প্রঙ্গণে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আলোক প্রজ্জ্বালন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে সন্ত্রাস নিমূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও ত্বকীর পিতা সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেছেন, দেশের সরকার মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকারকে হরণ করেছে, ভোটের অধিকারকে হরণ করেছে, মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো রয়েছে, সাংবিধানিক যে অধিকারগুলো রয়েছে সবগুলোকে হরণ করে এক দুর্বৃত্ত শক্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। আর সেই জন্যই আজকে ১০ বছর পেরিয়ে গেলো ত্বকী হত্যা বিচার হয় না।
সাগর, রুনি, তনু হত্যার বিচার হয় না। আজকে সরকার তার নিজের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে ভিন্ন মতে প্রতিবাদকে দমন করার জন্য। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করে মানুষকে নিপীড়নের মধ্যে নিক্ষিপ্ত করছে। মানুষ যাতে শাসক গোষ্ঠি নির্যাতনের বিরুদ্ধে, দূনীতির বিরুদ্ধে, প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে না পারে। কেউ যাতে কিছু লিখতে না পারে সেই জন্য এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। আজকে এই সরকার তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য রাষ্ট্রের বিভিন্ন বাহিনীগুলোকে তারা ব্যবহার করছে জনগণের বিরুদ্ধে এই বিহিনীগুলোকে তারা দাঁড় করিয়েছে। আমাদের দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠার জন্য।
দেশের মানুষের কথা বলার অধিকার, ভোটের অধিকার, যে বৈষম্য ছিল তার থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আমাদের দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। একাত্তরের আগে আমাদের দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার অন্তত সুযোগটুকু ছিল। পাকিস্তান শাসন আমলে মানুষ ভোট দিতে পেরেছে বলেই ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগ সংখ্যা ঘনিষ্ঠতা পেয়েছে। আজকে মানুষের সেই ভোট অধিকার ও নেই। তিনি আরো বলেন, আমরা আজকের এই মানববন্ধন থেকে সরকারের এই দুঃশাসনের সরকারের এই নিপীড়নের আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা ত্বকীসহ সাগর, রুনি, তনু হত্যা বিচার চাই। এছাড়াও আমাদের এই নারায়ণগঞ্জে আশিক, চঞ্চল, বুলু থেকে শুরু করে যাদের হত্যা করা হয়েছে সকল হত্যার আমরা বিচার চাই।
আমরা বলতে চাই যে বিচারহীনতার উপর দাঁড়িয়ে সরকার তার ক্ষমতার বিচার চালিয়ে যাচ্ছে। যে ওসমান পরিবারের ঘাড়ের উপরে দাঁড়িয়ে যে দূর্ভিক্ষ শক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে সরকার তার ক্ষমতা স্থায়ী মনে করছে আমরা তার নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা তার নিন্দা জানাচ্ছি প্রতিবাদ জানাচ্ছি আর সতর্ক করে দিচ্ছি কোন দিনই এই দুর্ভিক্ষ শক্তি কোন শাসক গোষ্ঠিকে রক্ষা করতে পারে নাই। আজকে তারা বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে সবাইকে বিতর্কিত করছে সারা বিশ্বে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষূন্ন করছে আমাদের দেশের এই বাহিনীগুলোর মর্যাদা তারা ধ্বংস করছে ক্ষমতার জোরে টিকিয়ে থাকার জন্য। আমরা এই মানববন্ধন থেকে আবারো সকল হত্যার বিচার চাই।
নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের যুগ্ম আহবায়ক এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেছেন, এখানো ত্বকী হত্যার বিচার হচ্ছে না। ত্বকী হত্যার বিচার এটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই জন্য যে এখানে তদন্তের কিছু নেই কারণ তদন্ত সম্পূর্ণ হয়েছে। ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ত্বকীতে কারা হত্যা করেছে। কারা হত্যা করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দিয়েছে এগুলো সব জবানবন্দিতে এসেছে। এবং সেখানে র্যাব একটি খসড়া চার্জশীট দিয়েছিল সকল গণমাধ্যমকর্মীদের। সেই চার্জশীট আদালতে আসলে মনে হয় ত্বকী হত্যার বিচার অনেকটাই এগিয়ে যেত।
কিন্তু আজকে দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে। আজকে ১০টি বছর পার হয়ে গেলে ও ত্বকী হত্যার বিচার হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না ওই শামীম ওসমান ও ওসমান পরিবারের কারণে। শামীম ওসমানের নির্দেশে এই ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে শামীম ওসমানের পরিবারের সদস্যরা ত্বকীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। সেই শামীম ওসমানের বিচার করতে চান না আজকের প্রধানমন্ত্রী। আমরা তার কাছে অনেক অনুনয় করেছি বিনিনয় করেছি আজকে ও করতে চাই। আজও করি করতে মন চায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমস্যা কোথায়। শামীম ওসমান যদি হত্যা করার নির্দেশ দিয়ে থাকে আর শামীম ওসমানের পরিবারের সদস্যরা যদি ত্বকীকে হত্যা করে থাকে। আর পুলিশ রিপোর্টে তা যদি প্রমান হয় চার্জশীটে প্রমান হয়।
যদি আদালতে তা ডাইরেক প্রমান হয়। তাহলে শামীম ওসমান কি কোন আইনের উর্ধ্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে চাই শামীম ওসমান কি এই দেশের আইনের আওতায় না। বর্তমানে চলছে রমজান মাস এই মাসে ও আপনারা সীমার মনটা কেন এখনো গলে না প্রধানমন্ত্রী। আজকে অপরাধী যেই হোক বিচার তার হবেই কোন হত্যাকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না এটা আপনিই বলেছেন। ত্বকী হত্যা বিচারের জন্য শামীম ওসমানকে কেন ছাড় দেওয়া হচ্ছে এটা জানতে চাই।
তিনি আরো বলেন, কিছুদিন আগে আবার হোন্ডাবাহিনী নদীর ওপারে তান্ডব চালিয়েছে সেখানে রাইসুল হকের বড় ছেলে পরশুদিন মারা গেছে। অনেকদিন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ছিল সে। এরা দিনের পর দিন এমন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আর নারায়ণগঞ্জের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বসে বসে মজা দেখছে। এটা হতে পারে না। আমরা বলতে চাই ত্বকী হত্যার বিচার চাই। ত্বকী হত্যার বিচার হতে হতে হবে আর শামীম ওসমান তোমার ছাড় নাই।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহ সভাপতি মুহাম্মদ সেলিম। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নিহত ত্বকীর পিতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ সাস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি এড. প্রদীপ ঘোষ বাবু, মহিলা পরিষদের জেলা সভাপতি লক্ষ্মী চক্রবর্তী, সিপিবি শহর সভাপতি আবদুর হাই শরীফ, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা প্রমূখ।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ৫ মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চারসেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে।
কিন্তু সে অভিযোগপত্র আজও পেশ করা হয় নাই। ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোকপ্রজ্বালন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।
এস.এ/জেসি


