Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

অগ্নিঝুঁকিতে হোসেয়ারীর কারখানা-দোকান

Icon

এম সুলতান

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৩, ০৭:৪৬ পিএম

অগ্নিঝুঁকিতে হোসেয়ারীর কারখানা-দোকান
Swapno

 

# নারায়ণগঞ্জে প্রায় ১৫ হাজার হোসেয়ারী ও দুই লক্ষাধিক শ্রমিক অগ্নিঝুঁকিতে
# হোসিয়ারী কারখানা এবং মার্কেটগুলোতে নেই অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামাদি

 

 

রাজধানীর দুই পাইকারী কাপড়ের মার্কেট আগুনের পরে আতঙ্কে পরে নারায়ণগঞ্জ এর হোসিয়ারী শিল্প মালিকরা। সারাদেশের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ হোসিয়ারী পোশাক শিল্পের অন্যতম পাইকারি বাজার। নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের প্রধান হোসিয়ারি উৎপাদন কেন্দ্র। ১৯২১ সালে বাবু সতীশ চন্দ্র পাল নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে প্রথম হোসিয়ারী কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন।

 

দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এই হোসিয়ারী কারখানাগুলো এখন মহাঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নারায়ণগঞ্জের হোসিয়ারী শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে শহরের নয়ামাটি, উকিলপাড়া, দেওভোগ মার্কেট এলাকায়। হোসিয়ারী সমিতির তথ্য মতে, হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের অন্তর্ভুক্ত দুই হাজার হোসিয়ারী কারখানা এবং এর বাইরে প্রায় ১০ হাজার হোসিয়ারী কারখানায় দুই লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মরত আছেন।

 

এখানে প্রচুর কারখানার শ্রমিক ছাড়াও রয়েছে পাইকারি ক্রেতাদের আনাগোনা। অথচ কারখানার প্রবেশ পথ এতটাই সরু যে, দুর্ঘটনাকালে কোনো ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি কিংবা অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে পারে না। এর ফলে এসব কারখানায় ও শ্রমিকও রয়েছেন জীবন ঝুঁকিতে। কারখানা এবং মার্কেটগুলোতে অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামাদি রাখতে হবে। হোসিয়ারী শ্রমিকদের নেই ফায়ার সার্ভিসের ট্রেনিং যাতে করে কিছু হলে তারা এগিয়ে আসবে।

 

অপরদিকে এসব এসব হোসিয়ারী কারখানার মার্কেটগুলোতে বিকল্প নেই কোন সিড়ি বা রাস্তা, অধিকাংশ মার্কেটের সিড়ি সরু ও চিকন হওয়ায় যার ফলে অগ্নিকাণ্ডের মত দুর্ঘটনা ঘটলে কর্মরত শ্রমিকরা নিরাপদে সরে আসা অত্যন্ত কঠিন বিষয়। আশেপাশে নেই কোন ফাঁকা জায়গা বা জমি যাতে করে সবাই মিলে সরে আসবে নিরাপদ স্থানে।

 

তবে উল্লেখিত এ চারটি এলাকার মধ্যে সবচেয়ে অগ্নিকান্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে নয়ামাটি, উকিল পাড়া এলাকার হোসিয়ারী শিল্পকারখানা। এ এলাকায় প্রবেশের সড়ক অত্যন্ত সরু, প্রায় শতাধিক মার্কেটে পাচঁহাজার হোসিয়ারী কারখানা রয়েছে। প্রতিটি মার্কেট একেকটার সাথে আরেকটা সংযুক্ত। মার্কেটগুলোতে কোন বিকল্প রাস্তা নেই।

 

অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন হোসিয়ারী মালিক ও শ্রমিকরা। তারা জানিয়েছেন, নায়ামাটি প্রবেশের সড়কটি প্রশস্ত করলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কেট গুলোতে বিকল্প রাস্তার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

 

হোসিয়ারী কর্মী সোহেল বলেন, ভিন্ন কোন উপায় না থাকায় জীবনঝুঁকির মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে আমাদের। কারন আমরা এটাই করতে পারি। নয়ামাটি এলাকায় যে পরিমানের হোসিয়ারী রয়েছে আল্লাহ না করে যদি ঢাকার মত কিছু হয় তাহলে আমাদের আর কোন উপায় থাকবেনা। আর এ এলাকা থেকে বের হবার মত অন্য কোন রাস্তায় নেই যাতে করে আমরা প্রান বাঁচাবো।

 

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, আমরা মার্কেট ও হোসিয়ারী পল্লী এলাকা গুলোতে সচেতনা মূলক মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ চালাচ্ছি। বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিবো যাতে তারা আরো বেশি সচেতন হতে পারে।

এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন