Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

১২ লাখে রফাদফা ইসদাইরের মামুন হত্যাকাণ্ড

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৩, ০৭:২২ পিএম

১২ লাখে রফাদফা ইসদাইরের মামুন হত্যাকাণ্ড
Swapno


# নেপথ্যে নিহত মামুনের ভগ্নিপতি মো.হোসেন

# আপোষ-মিমাংসা করছি আপনেরা এমন করেন কেন : মামুনের মা

# মাদক ব্যবসায়ী সীমার সাথে আপোষ করছে তাহলে আমার কি করার আছে : পুলিশ
 

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ইসদাইরে মামুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা মাত্র ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে আপোষ-মিমাংসা সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ আপোষ-মিমাংসার পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন ইসদাইর এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের অন্যতম অধরা ব্যক্তি স্থানীয় গনি মোল্লার ছেলে মো. হোসেন।

 

 

মামলা থেকে মাদক সম্রাজ্ঞী সীমা ও তার ছেলে বিজয় ও সিপনকে টাকার বিনিময়ে মুক্ত করেন উক্ত হোসেন। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়,  গত ৫ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটায় ফতুল্লা মডেল থানার ইসদাইর স্টেডিয়াম সংলগ্ন নুর ডাইংয়ের পেছনের মাঠে মামুনকে এলোপাতারি ছুড়িকাঘাত করে হত্যা করে সীমার দুই ছেলেসহ প্রায় ১০/১৬ জন। 

 

 

পরবর্তীতে নিহতের পিতা বাবুল হাওলাদার ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় জয় নামে একজনকে গ্রেফতার করলেও সীমার পুত্র বিজয়কে নগরীর ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের সামনে থেকে আটক করে সদর থানা পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। সদর থানা পুলিশ পরবর্তীতে বিজয়কে ফতুল্লা মডেল থানায় হস্তান্তর করে। 

 

 

মামুন হত্যাকান্ডের পর থেকেই মাদক সম্রাজ্ঞী সীমা তার দুই ছেলেকে নিয়ে এলাকা ছাড়া। জানা যায়,তারা মুন্সিগঞ্জে অবস্থান নিয়ে গনি মোল্লার ছেলে মো.হোসেনের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রেখেই গত এপ্রিল মাসের ১২ তারিখে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে উক্ত মামলা থেকে সীমাসহ তার দুই ছেলেকে আপোষ-মিমাংশার মাধ্যমে রক্ষা করে।  

 

 

স্থানীয়রা আরো জানান,ইসদাইর এলাকায় যাবতীয় অপকর্মের মুল হোতা হিসেবে মো.হোসেনের নামটি সবার মুখে মুখে। এলাকায় মাদক ব্যবসা,চুরি-ছিনতাইসহ এমন কোন অপকর্ম নেই যা হোসেনের রক্ষিত বাহিনীর দ্বারা হয়না। মামুন হত্যাকান্ডের পরবর্তী সময়ে মামলায় অন্যান্য আসামীদের পরিবারের কাছ থেকেও মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এ হোসেন।

 

 

শুধু তাই নয়, আসামীরা সবাই ছিলো ইসদাইর ও আশপাশ এলাকার। সেসুবাদে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকার ফলে হোসেন তার বাহিনী দিয়ে সে সকল প্রতিষ্ঠানের মালামাল রাতের আধারে লুট করে তা অন্যত্র বিক্রি করে দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। 

 

 

সরেজমিনে রবিবার (৭ মে ) ইসদাইর বুড়ির দোকান এলাকার প্রফেসারের বাড়ির ভাড়াটিয়া নিহত মামুনের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, নিহত মামুনের পিতা বাবুল হাওলাদার অসুস্থ জনিত কারনে ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েছেন। তার পরিবারের কোন সদস্যরা উপস্থিত না থাকলে মামুনের স্বজনরা জানান, এ ঘটনায় আপোষ-মিমাংশা হয়েছে তা আমরা কেউ জানিনা।

 

 

এবং আমাদেরকে বাবুল ভাই কিছু বলেননি। তারা জানান,হোসেন হচ্ছে মামুনের চাচাতো ভগ্নিপতি। আর তার মাধ্যমে আপোষ-মিমাংশা হলে তো বাবুল ভাই টাকা পাওয়ার কথা। অথচ গত ২ দিন আগেও তিনি আমাদেরকে বললেন টাকা অভাবে ঠিকমত চিকিৎসা করাতে পারছিনা।  

 

 

এ বিষয়ে মামলার দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক মো.হুমায়ুন কবীর-২ বলেন, গত এপ্রিল মাসের ১২ তারিখে মামুনের পিতা বাবুলের সাথে সীমা ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে মামলা থেকে সে এবং তার দুই ছেলের নাম বাদ দিতে আপোষ-মিমাংসা সম্পন্ন হয়েছে। আপোষ-মীমাংসার পর আদালতের সেই কাগজটিও আমার হাতে পৌছে দিয়েছে।

 

 

আসামী এবং বিবাদী যদি আপোষ-মিমাংশা করে ফেলে সেক্ষেত্রে পুলিশের কিছুই করার থাকেনা। শুনেছি তার ভগ্নিপতি হোসেন এবং একজন বিশেষ পেশার এক ব্যক্তির মাধ্যমে তা সম্পন্ন হয়েছে। নিহত মামুনের পিতাকে ১২ লাখ টাকা ছাড়াও উক্ত বিশেষ ব্যক্তিকে নাকি ৩০ হাজার টাকাও দিয়েছে সীমা। 

 

 

এ মামলার বাদী নিহত মামুনের পিতা বাবুল হাওলাদারের ব্যবহৃত মুঠোফোনে জানতে চাইলে তার স্ত্রী তা রিসিভ করেন। মামলা প্রসঙ্গে চাইলে তিনি তিনি বলেন, আমি কিছুই জানিনা। মামুনের আব্বা অসুস্থ হেরে নিয়ে মাত্র হাসপাতাল থেকে আইছি। ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে নাকি সীমার সাথে আপোষ-মীমাংসা হয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি জানান, আপোষ-মীমাংসা করছি আপনেরা এমন করেন কে।

 

 

তাছাড়া এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানিনা। আমার মেয়ের জামাই হোসেন সবকিছু করছে আপনে হেরে ফোন দেন। হে দেশে গেছে কালকে এখানে আইবো পরে আপনেরা হের লগে যোগাযোগ কইরা সব যাইনেন।  এন.হুসেইন/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন