না.গঞ্জের মধু ছাড়তে চায় না সোহেল-মুক্তা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৩, ০৮:৫২ পিএম
# তাদের বিরুদ্ধে পাহাড় সমান অনিয়মের অভিযোগ
# তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবী উঠেছে
চিকিৎসা নিয়ে বাণিজ্য নতুন নয়। চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা গ্রহণীয় নয়। তবুও দীর্ঘ অভিযান, আইন ও কর্মকান্ডের পরও স্বাভাবিক হয়নি এই সেক্টরটি। এছাড়া চিকিৎসকবিহীন চিকিৎসা, প্রয়োজনবিহীন টেস্ট আর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিবিহীন রিপোর্ট নির্মূল হয়নি। সর্বশেষ করোনা নিয়েও সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা-বাণিজ্য চলেছে।
যার প্রতিফলন করোনার সার্টিফিকেট জালিয়াতি বা বা অনুমোদনহীন করোনার নমুনা সংগ্রহ। আবার নিয়মের বাহিরে গিয়ে অর্থের বিনিময়ে করোনার টিকা প্রদান করার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ ৩শ ময্যা হাসপাতালের একাধিক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাই প্রশ্ন উঠেছে কতটা অমানবিক হলে এই সংকটময় সময়ে চিকিৎসার নামে বাণিজ্য করা যায়, তা বোধগম্য নয়।
এদিকে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বদলীকরা হয়েছে। গত ৬ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের পক্ষে সহকারী পরিচালক ডা. মুহাম্মদ মইনুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের প্রধান সহকারী নাসরিন সুলতানা মুক্তা ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর সোহেল রানাকে দুর্নীতির অভিযোগে বদলির আদেশ দেয়া হয়।
তাদের মধ্যে নাসরিন সুলতানাকে ঢাকার দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সোহেল রানাকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু এই বদলী ঠেকানোর জন্য ইতোমধ্যে তারা উঠে পরে লেগেছে। এমনকি তারা এখনো পর্যন্ত তাদের কর্মস্থলে যোগদান করেন নাই বলে জানান একাধিক ব্যক্তি। অপর দিকে খানপুর ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে তাদের শুন্য পদে এখনো নতুন ব্যক্তি আসায় পদ দুটি শুন্য হয়ে রয়েছে। আর এতে করে প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
অপরদিকে ৬ মে নগরীর খানপুর ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের গিয়ে দেখা যায় ১.৩৮ মিনিটে বদলী হওয়া সোহেল রানা খয়রি কালার পলো শার্ট পরে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আবুল বাসারের রুম থেকে বের হন। পরে একজন ডাক্তারের সাথে বের হয়ে শংশ্লিষ্ট হাসপাতালের গেটের সাথে দোকানে অনেকক্ষন অবস্থান করে আবার হাসপাতালে প্রবেশ করেন। অথচ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের কর্মচারী সোহেল রানা জানান তিনি তার বদলী হওয়া মাদারীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছেন।
কিন্ত বাস্তবে তার ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। এছাড়া ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের প্রধান সহকারী নাসরিন সুলতানা মুক্তার ঢাকার দোহারে বদলী হওয়ার এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনো তিনি তার কর্মস্থলে যোগদান করেন নাই। অথচ বদলীর আদেশ হওয়ার সপ্তাহ খানিক পর তারা তাদের কর্মস্থলে যোগদান করার নিয়ম রয়েছে।
তারা তা না মেনে নিজেদের বদলী ঠেকানোর জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে দৌরঝাপ করছেন। এর আগে এই ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের তত্বাবধায়কের পিএ সিদ্দিক দুর্নীতির অভিযোগে এখান থেকে বদলী হয়েছেন। তখন তাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানও তার দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যদিও তিনি এখন চুপ রয়েছেন।
নাাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন কর্মচারী জানান, নগরীর খানপুর এলাকার ৩কষ্ফ শয্যা হাসপাতালের এই দ্ইু কর্মচারী নানা অনিয়মের সাথে জরিত রয়েছেন। কিন্তু তাদের ভয়ে অনেকে মুখ খুলথে চান না। কেননা তারা আধিপত্য তৈরীর মাধ্যমে সিন্ডেকেট করে হাসপাতালে নানা অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করেছে।
বিশেষ করে আউট সোর্সিং নিয়োগ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়া, করোনার সময়ে মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে তাদের বাসায় গিয়ে টিকা প্রদান করা। দাালাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন অনিয়ম করে অর্থ নেয়া যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে গেলেই তাকে হেনস্থার স্বিকার হতে হয়।
একাধিক ব্যক্তি জানান, তারা বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির লোকদের থেকেও কমিশন নিয়ে থাকতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের পাশেই গ্যাষ্ট্রোলিভ ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার ক্রয় করে নিয়ে ডাক্তারদের জিম্মি করে বিভিন্ন পরীক্ষা তাদের এই ক্লিনিকে করাতে বাধ্য করতেন। আর এতে করে রোগিদের বেশি টাকা দিয়ে তাদের এখানে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হত।
তাদের বিরুদ্ধে যেন পাহাড় সমান অভিযোগ জমা রয়েছে জানান তাদের সহ কর্মীরা। এত অভিযোগ থাকা সত্বেও সোহেল মুক্তার বদলীর আদেশ ঠেকানোর জন্য তারা দৌরঝাপ করে যাচ্ছেন। এমনকি মুক্তার জন্য তার মাও নাকি দৌরঝাপ করছে। তাই সচেতন নগরবাসীর মাঝে প্রশ্ন উঠেছে নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে কি এমন মধু রয়েছে যেখানে কেউ আসলে আর যেতে চায় না। এখানকার মধুর রস তারা ছাড়তে চান না কেন। এর উত্তর পেতে হলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করলেই আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
এবিষয়ে ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর সোহেল রানা বলেন, আমার বদলী হয়েছে আমি তার চিঠি পেয়েছি আমার কর্মস্থলে যোগদান করেছি। কিন্তু আমার নামে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এমন কোন অভিযোগ পাই নাই। আর যদি কেউ অভিযোগ করে বলে থাকে তাহলে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। হাসপাতালের কোন দুর্নীতির সাথে আমি জড়িত নই।
৩শ’ শয্যা হাসপাতালের প্রধান সহকারী নাসরিন সুলতানা মুক্তা জানান, আমাকে কেন বদলী করেছে তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলতে পারবে। আমি শারিরিক ভাবে অসুস্থ্যতা থাকার কারনে এখনো যোগদান করতে পারি নাই। আমার বিষয়ে যে সকল অভিযোগ তোলা হয়েছে তা মিথ্যা।
তাছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের অধিদপ্তরে প্রবেশ করতে পাশ লাগে। সেখানে আমার মা কিভাবে গিয়ে দৌড়ঝাঁপ করবে। আউট সোর্সিংয়ের নিয়োগের বিষয়ে আমাদের কোন হাত নেই। এখানে কন্ট্রাক্টররা নিয়োগ করে আমাদের দিয়ে যান। এন.হুসেইন/জেসি


