বাজারে মধু মাসের রসালো ফল সোনারগাঁয়ের লিচু
আশরাফুল আলম, সোনারগাঁ
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৩, ০৮:৩৫ পিএম
বাজারে আসতে শুরু করেছে মধু মাসের রসালো ফল সোনারগাঁয়ের লিচু। এবছর সময় মত বৃষ্টি না হওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এবার লিচুর ফলন কিছুটা কম হয়েছে। বিগত কয়েক বছরের লোকসান কাটিয়ে লিচু বাগান মালিকরা এবার বাজারে ভাল দাম পাওয়ার আশায় পরিবারের সবাই মিলে দিনরাত লিচু বাগান পাহারা দিয়েছেন।
সময় মত বাজারে লিচু বিক্রি করতে পারলেই পরিবারে আর্থিক অভাব-অনটন থাকবেনা বলে আশাবাদী তারা। তবে স্থানীয় লিচু ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, সময় মত ভাল দামে বাগানের লিচু বাজারে বিক্রি না করা পর্যন্ত নাওয়া, খাওয়া, ঘুম নেই তাদের চোখে।
বাংলার ঐতিহ্যবাহী মসলিন খ্যাত ঈশাখার রাজধানী সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় মিলে ৬৭২ টি লিচু বাগান রয়েছে। বাগান মালিকদের অভিমত, এবার বৈশাখ মাসে কিছুটা ঝড়, বৃষ্টি হওয়ার কারণে এ বছর গাছ থেকে লিচু কিছুটা ঝড়ে যাওয়ার পরও যে পরিমান লিচু গাছে রয়েছে তাও অন্যান্য বছরের তুলনায় ভাল। কিন্তু সময়মত লিচু বাজারে বিক্রি করতে পাড়লেই বাগান মালিক ও ব্যবসায়ী পরিবারের আর্থিক অভাব-অনটন থাকবেনা।
সংশ্লি¬ষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ৬ শতাধিক লিচু বাগান। এবার আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় এসব লিচু বাগানে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর লিচুর ফলন কিছুটা কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন লিচু বাগান মালিকরা।
সোনারগাঁয়ের লিচুর বাগান গুলোতে সাধারণত কদমী লিচু, বোম্বাই, চায়না-৩ ও স্থানীয় উন্নত পাতি চার ধরনের লিচুর ফলন হয়ে থাকে। তবে এর মধ্যে সোনারগাঁয়ে উন্নত পাতি লিচুর গাছের সংখ্যা বেশি। সবার আগে পাতি লিচু পেকে যায়। প্রতি বছরই মৌসুমের শুরুতেই লিচু বিক্রির জন্য গাছ থেকে ছিড়ে ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই বাজারে নিয়ে যায় ভাল দাম পাওয়ার আশায়।
ব্যবসায়ীরা কদমী লিচু বেশি দামে বাজারে বিক্রি করে থাকেন। কদমী লিচু আকারে বড় ও সুস্বাদু হয়ে থাকে। সর্ব প্রথম পাতি জাতের লিচু পরে কদমী, চায়না-৩ ও সর্বশেষ বোম্বাই লিচু পেকে থাকে। পানাম গাবতলী গ্রামের লিচু ব্যবসায়ী জাহিদ হাসান ও মনারবাগ এলাকার ব্যবসায়ী আবু কাউসার জানান।
সোনারগাঁ উপজেলার গোবিন্দপুর, মনারবাগ, গাবতলী, হাড়িয়া, ইছাপাড়া, চিলারবাগ, দৈলেরবাগ, খাসনগর দিঘীরপাড়, ষোল্লপাড়া, সাদীপুর, পানাম, দত্তপাড়া, টিপরদী, গোয়ালদী, বাগমুছা, অর্জুন্দী, হাতকোপা, দরপত, ঠোটালিয়া, ভট্টপুর, বানীনাথপুর, মোগরাপাড়া, বড়নগর, গোহাট্টা, রহমতপুর, লেবুছড়া, ভৈরবদী ও দমদমা সহ ৬০টি গ্রামে ছয় শতাধিক লিচু বাগান রয়েছে।
সরেজমিন, এসব লিচু বাগানের মধ্যে গতকাল সোমবার দিনভর কয়েকটি লিচু বাগান ঘুরে দেখা গেছে। লিচু ব্যবসায়ীরা গাছ থেকে লিচু ছিড়ে বাজারে বিক্রি করার জন্য তাদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লিচু ব্যবসায়ীরা বলেন বিগত কয়েক বছর ধরে, প্রতি শত কদমী লিচু বাজারে সাধারণত ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বোম্বাই লিচু ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পাতি লিচু ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি করে ছিলেন। তবে এ বছর বাজারে লিচুর দাম বেশি পাওয়া যাবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর সোনারগাঁয়ে লক্ষ মাত্রার চেয়ে আরো অধিক পরিমান জমিতে লিচুর বাগান করেছেন চাষীরা। সোনারগাঁয়ে এবার ১৫০ একর জায়গা জুড়ে ছোট বড় সর্বমোট ৬৭২ লিচু বাগান রয়েছে। লিচুর ফলন অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা কম হলেও বাজারে ভাল দাম পাওয়ার আশায় রয়েছেন লিচু ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা। এন.হুসেইন/জেসি


