Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

দখল-দূষণে শীতলক্ষ্যা নদী মৃতপ্রায়

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৩, ০৯:২২ পিএম

দখল-দূষণে শীতলক্ষ্যা নদী মৃতপ্রায়
Swapno


বিভিন্ন গার্মেন্টস, ডাইং-এর ক্ষতিকারক বর্জ্য পরিশোধন ছাড়াই সরাসরি বিনা বাধায় একটি দূষিত বর্জ্যের খালের মাধ্যমে পড়ছে শীতলক্ষা নদীতে। ফলে দূষিত হচ্ছে শীতলক্ষা নদী। খালটি উত্তর কেল্লার পোল রোডে অবস্থিত। খালটি রাস্তার এপার ওপারের সকল ধরনের কলকারখানা, গার্মেন্টস, ডাইং-এর রাসায়নিক বর্জ্যসহ পলিথিন এক কথায় নদী দূষনের জন্য যা যা দরকার তার সবকিছুই এই খালে বিদ্যমান রয়েছে।

 

 

পরিশোধন ছাড়াই নিঃসৃত হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিসের পিছন দিয়ে একটি ড্রেজারের পাইপের মাধ্যমে। স্রোতোস্বিনী নদী শীতলক্ষা এখন মৃতপ্রায়। নারায়ণগঞ্জের প্রাণ এই শীতলক্ষা নদী। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়- স্রোতোস্বিনী শীতলক্ষার ছিলো টলটলে পানি। মানুষের ব্যবহার উপযোগী। এই নদীর পানি ব্যবহৃত হত রান্নাবান্নার কাজে।

 

 

চলাচল করত বৈদেশিক পণ্যবাহী, মানুষবাহী অগণিত জাহাজ, লঞ্চ-স্টিমারসহ বিভিন্ন রকমের বড় নৌকা। কিন্তু এসব এখন উপন্যাস-গল্পের পাতায় স্থান করে নিয়েছে যা এখন কেবলই ইতিহাস। বর্তমানে এই নদী পারাপার হতে গেলে উৎকট গন্ধে গা গুলিয়ে বমি আসার উপক্রম হয়। বর্ষা মৌসূমে যদিও পানি কিছুটা ভালো থাকে, কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে এই নদীর পানি কুচকুচে কালো রঙ ধারণ করে সাথে থাকে বিকট গন্ধ।

 

 

এক সময় এই নদীর উভয় তীরেই বাসিন্দাদের গোসলসহ দেনন্দিনের পানি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় গৃহস্থলী কাজ করতে দেখা যেতো। জেলেরা এখানে মাছ শিকার করত। অনেক জেলেরা এই শীতলক্ষা নদীর মাছ শিকার করে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতেন। একসময় শীতলক্ষায় শুশুক মাছ দেখা যেত। কিন্তু এখন সবকিছুই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, দখল আর দূষণে অনেক আগেই এই নদী এখন অচেনা-অজানা ময়লা পানির ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

 

 

একদিকে কলকারখানার বর্জ্য অন্যদিকে মানবজীবনে নিত্য ব্যবহার্য উপকরণের উচ্ছিস্ট। নানা ধরণের কেমিক্যাল নিয়মের বিপরীতে গিয়ে নদীতে ফেলার কারণে দুষণ থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না শীতলক্ষ্যাকে। আর এই শিল্পবর্জ্যের কারণে দেশের দ্বিতীয় দূষিত নদী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে এই শীতলক্ষ্যা।

 

 

তবে ভয়াবহতা হচ্ছে এখানকার প্রায় সকল কলকারখানাতেই তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) নেই। ফলে এসব শিল্পকারখানার বর্জ্যে প্রতিনিয়তই দূষিত হচ্ছে পরিবেশ ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানি। আর এ পানি বর্তমানে ব্যবহারেরও অনুপযোগী। 

 

 

এ বিষয়ে নদী গবেষক আনিসুর রহমান আনিস বলেছেন, শীতলক্ষ্যা নদীর আশেপাশে অনেক ডাইং, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি রয়েছে। তন্মধ্যে কিছু পরিমাণ কলকারখানাতেই ইটিপি রয়েছে। এই ইটিপি ব্যবহার করতে প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা মাসে খরচ রয়েছে। আর এই খরচ এড়াতেই কলকারখানাগুলো ইটিপি ব্যবহার করে না। তারা অপরিশোধিত পানি সরাসরি নদীতে ফেলে দেয়।

 

 

যা এই শীতলক্ষ্যা নদী দূষণের প্রধান কারণ। পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন এগুলো নিয়ে মাথা না ঘামালে আমরা আর কত বলব। যতটুকু পারি বলি কিন্তু সবখানে গিয়ে বলার মত লোকজন আমাদের নাই। এছাড়াও এরা কেউ কথা শুনে না বলতে বলতে বলার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে শীতলক্ষা নদী বাঁচানো সম্ভব হবে না। 

 

 

এ ব্যাপারে (বাপা) নারায়াণগঞ্জ কমিটির সভাপতি এ. বি. সিদ্দীক বলেন, আমরা মাঝেমধ্যেই ডাইং-ফ্যাক্টরি, গার্মেন্টস-এর ক্ষতিকারক রাসায়নিক বর্জ্য পরিশোধন ছাড়াই যেন নদীতে না পড়ে সেই কারণ রোধে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। অধিকাংশ ফ্যাক্টরি-গুলোতেই ইটিপি রয়েছে। কিন্তু তারা এগুলো ব্যবহার করে না। দিনে না ফেললেও রাতের আধারে তারা ইটিপি ব্যবহার না করেই তাদের চ্যানেল দিয়ে সকল ক্ষতিকারক রাসায়নিক অপরিশোধিত তরল বর্জ্য শীতলক্ষ্যা নদীতে সরাসরি ফেলে দিচ্ছে।

 

 

জলজ উদ্ভিদ, মাছ কিছুই বাঁচে না এসকল ক্ষতিকারক বর্জ্যরে কারণে। এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন কিছুই বলেন না। তারা অডিট করতে যান। কিন্তু প্যাকেট ভর্তি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সেইসকল অনৈতিক কার্যকলাপ এড়িয়ে যান তারা। এদিকে নদী যে দূষিত হচ্ছে তা নিয়ে তাদের মাথাব্যাথা নেই। নারায়াণগঞ্জের অধিকাংশ ডাইং ফ্যাক্টরিই অবৈধ।

 

 

তারা তা জানে কিন্তু সামান্য কিছু জরিমানা ছাড়া আর কোনো পদক্ষেপ নেয় না প্যাকেটের লোভে। ফলশ্রুতিতে সেইসকল ফ্যাক্টরি এখনো চলছে নির্বিঘ্নে। এভাবে চলতে থাকলে নদী মৃত হতে বেশিদিন লাগবে না। এখন একমাত্র উপায় সরকার। যদি সরকার নদী বাঁচাতে আগ্রহী না হন তাহলে আমাদের সকল কর্মসূচী, সকল অনশন মূল্যহীন। 

 

 

এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন-কে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে এবং অফিসে গিয়েও পাওয়া যায়নি।  এন.হুসেইন রনী/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন