কাশীপুরে ভয়ঙ্কর ভূমিদস্যুতার নেপথ্যে সাইফ উল্লাহ বাদল
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৩, ০৯:০৩ পিএম
# শারীরিক অক্ষমতা সত্ত্বেও ঘরে বসেই পাচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা
কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সাইফ উল্লা বাদল এখন বহু কোটি টাকার মালিক। এলাকাবাসীর অভিযোগ বিগত বহু বছর ধরেই তিনি ওই এলাকার ভূমি দস্যুতার সাথে জড়িত। আর এই ভূমিদস্যুতা এখন আরো ভয়ংকর রূপ লাভ করেছে। কাশীপুর ইউনিয়ন জুড়ে তার রয়েছে বিশাল ভূমি দস্যুবাহিনী। আর এই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ সরাসরি সাইফ উল্লা বাদলের হাতে।
ভূক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ চেয়ারম্যান সাইফ উল্লাহ বাদলকে টাকা না দিয়ে কাশীপুর ইউনিয়নে কোনো জমি বেচাকেনা হয় না। আর তার এই ভূমি দস্যু সিন্ডিকেটের হোতাদের মাঝে অন্যতম দুইজন হলো উত্তর নরসিংপুরের এক ভয়ংকর ব্যক্তি যার নামের প্রথম অক্ষর হলো ‘গ’। আর ছেলে যার নামের প্রথম অক্ষর হলো ‘স’।
বিগত কয়েক বছরে সাইফ উল্লাহ বাদলকে সামনে রেখে এই বাপ বেটা হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে এই বাপ বেটার মাঝে বাপ এক সময় ডাকাতি করতো। তাই তার নামের আগে ডাকাত শব্দটি ব্যবহার করেন এলাকাবাসী। এই ডাকাত এখন ধার্মিক সেজেছে। কিন্তু এলাকার নীরিহ সাধারন মানুষের জমিজমা দখল করতে বেপরোয়া তিনি এবং তার ছেলে।
মূলত এই বাপ বেটার মাধ্যমেই বাদল চেয়ারম্যান প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কাশীপুর জুড়ে আরো অন্তত এক ডজন ভূমি দস্যু সিন্ডিকেট রয়েছে। এদের সবার কাছ থেকেই সাইফ উল্লা বাদল নির্ধারিত হারে মোটা অংকের টাকা পেয়ে থাকেন।
মূলত এভাবেই সাইফ উল্লা বাদল বিগত বছরগুলিতে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, যা কিনা দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে। অন্যথায় তিনি শারীরিক ভাবে একজন অসুস্থ ব্যক্তি হয়ে এতো টাকার মালিক হলেন কি করে?
এদিকে কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফ উল্লাহ বাদল অসুস্থতার কারণে একেবারেই স্থবির হয়ে পড়েছে কাশীপুর ইউনিয়নের উন্নয়ন। ঝিমিয়ে পড়েছে এই ইউনিয়নের সামাজিক কর্মকাণ্ড। সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কাশীপুরের সাধারন মানুষ। এক কথায় সাইফ উল্লাহ বাদল অসুস্থতাজনিত কারণে শারীরিকভাবে একেবারে অকেজো হয়ে পড়েছেন।
তাই এলাকার উন্নয়নতো দূরের কথা সামাজিক বিচার আচারও করতে পারছেন না। তাই এলাকাবাসীর দাবি, তিনি যদি দায়িত্ব পালনে অপারগ হন তাহলে যেনো তিনি পদত্যাগ করেন। কারন কাশীপুরের মতো এমন একটি জনবহুল ইউনিয়ন এভাবে চলতে পারে না বলে তারা মনে করেন।
এদিকে কাশীপুর ইউনিয়নবাসী আরো জানান সাইফ উল্লা বাদল এখন তিনটি বাড়ি এবং বহু জমিজমার মালিক। বিগত বহু বছর ধরে তিনি ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তাই তিনি ফতুল্লার সকল সেক্টর থেকে মোটা অংকের টাকা পেয়ে আসছেন। তিনি কত টাকার মালিক এবং তার সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে সঠিক একটি তদন্ত হলেই সত্য বেরিয়ে আসবে বলে অনেকে মনে করেন।
তাই তিনি এরই মাঝে যে পরিমাণ টাকার মালিক হয়েছেন তাতে তিনি পদত্যাগ করে বিশ্রামে গেলেও কোনো অভাব অনটন থাকবে না। তিনি তার বাড়িগুলি থেকে প্রতি মাসে প্রায় চার লাখ টাকা ভাড়া পান। তারপরেও তিনি পদ আকড়ে রয়েছেন। এই মুহুর্তে তিনি থানা আওয়ামী লীগ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকার মতো শারীরিক সক্ষমতা তার নেই।
তাই সাইফ উল্লাহ বাদল একদিকে যেমন তার দলের নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন অপরদিকে তেমনি তিনি যে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেই ইউনিয়ন পরিচালনায়ও ব্যর্থ হচ্ছেন। কিন্তু শত ব্যর্থতা সত্ত্বেও তিনি কোনো মতেই ক্ষমতা ছাড়তে রাজী নন। কারণ এই দুটি পদে থাকার কারণেই তিনি প্রতিনিয়ত ঘরে বসেই পাচ্ছেন মোটা অংকের টাকা।
এস.এ/জেসি


