Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

রিসোর্টের নামে মেঘনা নদীর চর দখল

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৩, ১২:২১ পিএম

রিসোর্টের নামে মেঘনা নদীর চর দখল
Swapno



গত ২০ বছর ধরেই দর্শনীয় স্পট আর পর্যটন সম্ভাবনার হাত ছানি দিচ্ছে বাঞ্ছারামপুরের চরশিবপুর মেঘনার চর। নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ৩ জেলার সীমান্ত মোহনায় মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা নয়নাভিরাম চরটি দখলে রেখেছে প্রভাবশালী মহল।

 

 

তারা পার্কের নামে বাণিজ্যিক ব্যবহার করে আসছেন প্রায় ২ শতাধিক একর জমি। এদিকে ব্যাপক দর্শক চাহিদা থাকলেও পার্কটিতে প্রবেশে নৌ যাতায়াতকালীন ডাকাতি ছিনতাইসহ নানা অনিরাপদ ঘটনায় কমে যাচ্ছে দর্শনার্থীরা সংখ্যা। নিরাপদ পরিবেশ পেলে এ চরটি হতে পারে দেশের অন্যতম দর্শনীয় স্পট।

 


স্থানীয় সূত্র জানায়, ৩ জেলার সীমান্ত এলাকা হওয়ায় পুলিশ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জেলের ছদ্মবেশে নদী পথে ঘুরে বেড়ায় ডাকাতের দল। ফলে মাঝে মাঝে দর্শনার্থীরা তাদের কবলে পড়ে হারান মালামাল, নগদ অর্থ, মোবাইল এমনকি ঘটে আহত ও নিহতের ঘটনা রয়েছে।

 

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুরের সীমানায় মেঘনার চরের এ পার্কে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ট্রলার নৌকা। আর নদী পথে যাতায়াত করতে গিয়ে ছিনতাই ,ডাকাতির কবলে পড়েন অনেকে। এমন অনিরাপদ পরিবেশ থাকায় কমে যাচ্ছে দর্শণার্থীর সংখ্যা।

 


রূপগঞ্জ থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সোহেল মিয়া বলেন, বিশাল এলাকা জুরে মেঘনার বুকে জেগে ওঠা চর দেখতে নয়নাভিরাম। একই স্থানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। তাছাড়া চরের চারপাশে নদী থাকায় দীপে রূপান্তর হয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালীরা এ চরের জমিতে পার্কের নামে টিকিট কেটে সাধারণদের প্রবেশ করাচ্ছে। ভেতরে রয়েছে খুপড়ি ঘর। যেখানে অসামাজিক কাজের অভিযোগ আছে। রাত্রি যাপনের সুযোগ দিচ্ছে পাশাপাশি মাদক কারবারিদের নিরাপদ আস্তানা গড়ে তোলা হয়েছে।

 


অপর দর্শনার্থী মনির হোসেন বলেন, দখলদারদের করা কথিত পার্কের প্রবেশ টিকেট থেকে শুরু করে অভ্যন্তরের সব কিছুতে দাম রাখা হয় বেশি। অন্যদিকে নৌকার চালকরা নিজেদের সিন্ডিকেটে মনগড়া ভাড়া আদায় করে দর্শনার্থীদের বিব্রত পরিস্থিতি তৈরী করে থাকেন। এসব নানা কারনে গুরুত্বপূর্ণ ও নয়নাভিরাম স্থানটিতে ক্রমেই কমে যাচ্ছে পর্যটকের সংখ্যা।

 

 

আড়াই হাজার বিশনন্দি ফেরী ঘাটের ট্রলার মাঝি হাবিবুর রহমান বলেন, ডাকাতের ভয় কাটাতে ও নিরাপদ পরিবেশ পেলে এ ঘাটে কর্মরত শতাধিক ট্রলার মাঝি পর্যটন খাত থেকেই চালাতে পারেন তাদের জীবিকা। জেলে ছদ্মবেশে ডাকাতরা নদীতে ঘুরে বেড়ায়। যুবক যুবতী দেখলেই তারা সুযোগ বুঝে হামলা করে। এমনকি মাঝিদেরও মারপিট করে সব নিয়ে যায়। যদিও এখন কিছুটা কমেছে।

 


অপর দর্শনার্থী শরীফ মিয়া বলেন, দখলদাররা খুপড়ি ঘর করে দিনের পাশাপাশি রাত যাপনের বাণিজ্যিক পরিবেশ করেছেন। বিভিন্ন ধরনের বোটিং, কায়াকিং সরাবার বোট, প্যাডেল বোটসহ বাচ্চাদের জন্য বেবী জোনে দোলনা, ঢেকি, চরকি রেখেছেন। তবে এসব ব্যবহারের দাম বেশি রাখায় দর্শণার্থীরা অসন্তোষ প্রকাশ করলেও পার্কের ম্যানেজার জানালেন নিরাপদ পরিবেশের কথা।

 

 

পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানা দাবী করে জমি দখলের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন পার্ক প্রতিষ্ঠাতা আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, সবাই চর জাগলে যেভাবে দখল করে নিয়মমতো আমরাও করেছি। চরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছি। প্রচুর টাকা ব্যয় করেছি। বহু নামীদামী লোকজন বেড়াতে আসেন এখানে। তারা পার্কের ভেতরে পুরো নিরাপদ। তবে কোন সমস্যা দেখা দিলে পুলিশকে ফোন দিলে তারা নিরাপত্তা দিয়ে থাকেন।

 

 


পার্কের ম্যানেজার মোঃ মুহসিন মোল্লা বলেন, পার্কটি আধুনিক মানের করার চেষ্টা চলছে। তবো নৌকায় যাতায়াতকালীন দর্শনার্থীরা তাদের সিন্ডিকেটের কাছে হয়রানি হয় বলে জেনেছি। এসব বিষয় সমাধান করতে পারলে সামনে দর্শনার্থী পাবো। এ সময় অসামাজিক কাজ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন প্রকার অনিয়ম করতে দেয়া হয় না। তবে যারা শহরের কোলাহল ছেড়ে বেড়াতে আসেন তারা বেশিরভাগই স্বামী স্ত্রী। সুতরাং আমরা যুবক-যুবতীদের বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করলে দর্শনার্থী পাবো না। তাই এতো ঘাটা ঘাটি আমাদের কাজ নয়।

 

 


পার্কের অনুমোদন বিষয়ে তিনি বলেন, মালিক পক্ষ এ পার্কের বৈধতার জন্য কাজ করছে।  এদিকে স্থানীয়দের দাবী, মেঘনার চরের এসব জমি সরকারীভাবে উদ্ধার করে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তুললে একদিকে বিপুল পরিমাণ দর্শনার্থীর সমাগমে রাজস্ব আদায় হবে অন্যদিকে পর্যটন বিকাশে ভুমিকা রাখবে এ স্থানটি। তাই সরকারের কবজায় চরটিকে নেয়ার দাবী করেছেন তারা। এন.হুসেইন রনী /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন