ভিক্টেরিয়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সুতার ব্যবসা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৩, ১১:৫৬ এএম
# লিখিত অভিযোগ পেলে আমি সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো : সিভিল সার্জন
নগরীর মধ্যে সবচেয়ে জনবহুল হাসপাতালের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল অন্যতম। প্রতিদিন বহিরা বিভাগ থেকে শুরু করে জরুরি বিভাগে বিভিন্ন জায়গা থেকে রোগীরা এই হাসপাতালে আসে সুচিকিৎসার জন্য।
ভিক্টেরিয়া হাসপাতালে জরুরি বিভাগের আসা রোগীদের থেকে ডাক্তারের সহযোগীরা হাবিব, জাকির এমনকি আরো কয়েকজন মিলে সুতা বিক্রির ব্যবসায় মেতে উঠেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সরকারি সুতা ভালো না, মোটা এটা দিয়ে সেলাই করলে সেলাই ভালো হবে না এই বলে রোগীদেরকে বাহির থেকে সুতা কিনে আনতে বলেন তারা।
পরবর্তীতে বাড়তি সুতা তারা রেখে দেয় এবং আবারও একই রকমভাবে আরেক রোগীদেরকেও তারা একই কথা বলে। এছাড়াও সেলাইয়ের পর কিংবা ড্রেসিং করার পর রোগীদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা তাদেরকে দেওয়ার জন্য জোর বলে। এ ব্যাপারে নিতাইগঞ্জের রাবেয়া নামের রোগীর অভিভাবকের সাথে কথা বললে তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, আমার বোনোর হাত কেটে যাওয়ায় তারা কাটা স্থানে সেলাই করবেন বলেন।
তারা বলেন যে সরকারি সুতাটা মোটা বাহির থেকে কিনে সুতা দেওয়ার জন্য। আমরা দিন আনি দিন খাই আমাদের কি সম্ভব ৪০০ টাকা দিয়ে সুতা কিনা। সরকারি সুতা যেহেতু ভালোই না তাহলে সরকার কেনো এই সুতা হাসপাতালে দেয়। তারা আামাদের দিয়ে সুতাটা কেনায় তারপর সেলাইয়ের পর সেই সুতাটা তারা রেখে দেয়। আবার আমাকে বলে যদি আপনি বলেন তাহলে আমাদের কাছেই আছে দাম ৪০০ টাকাই পরবে।
একই ব্যাপারে রোকসানা নামে এক রোগীর সাথে কথা বললে তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, কাটা জায়গায় সেলাইয়ের পর আমি চা খাওয়ার জন্য হাবিব নামে ডাক্তারের সহযোগীকে ৩০ টাকা দেই তখন তিনিও তাদের সাথে দুইজন আমাদের থেকে ১০০টাকা চায়। কম দাওয়াতে রাগ করে আবার আমাদের টাকা আমাদের ফিরিয়ে দেয় বলে আপনার টাকা আপনিই রাখেন।
এ যেমন টাকা দিতেই হবে এমন এক বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। হাসপাতালের ব্যবস্থা তো এমনিতেও তেমন ভালো না তার মধ্যে ডাক্তারের সহযোগীদেরও এই ব্যবহার। এ ব্যাপারে হাসপাতালে দায়িত্বরত আরএমও ডা. ফরহাদ কে একাধিক বার মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি ফোনকলটি রিসিভ করেনি।
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালের এসব কর্মকান্ডের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের সির্ভিল সার্জন এএফএম মশিউর রহমান যুগের চিন্তাকে বলেন, সুতা ভালো না এই বলা ঠিক না। সরকার তো আর সবটা ভালো দিতে পাওে না। যতটুকু তার পক্ষে দেওয়া সম্ভব সে ততটুকুই দিচ্ছে সাধারন মানুষকে।
কেউ যদি এই সুতাটাকে ভালো মনে না কওে সে ক্ষেত্রে সে বাহির থেকে কিনে ব্যবহার করতেই পারে কিন্তু হাসপাতালের কেউ যদি রোগীকে এই বিষয়ে বাধ্য করে কিনার জন্য সেক্ষেত্রে আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমি ব্যবস্থা নিবো।
রোগীদের থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোগীদের সেবা দেওয়ার পর তাদের কাছ থেকে তারা কেন টাকা নিবে। যদি কোনো ভুক্তভোগী আপনার কাছে অভিযোগ করে তাহলে তাকে আমার কাছেও লিখিত অভিযোগ জমা দিতে বলেন। আমি সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এন. হুসেইন রনী/জেসি


