সেন্ট্রাল খেয়াঘাট ‘ফ্রি’র ঘোষণাই কাল হতে পারে সেলিম ওসমানের
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৩, ১১:২৬ এএম
# মানুষ ভাবছে সেলিম ওসমানই এই দুর্ভোগের জন্য দায়ী
# জনপ্রতিনিধিরা কী প্রতিশ্রুতি দেন অন্যদের সুবিধা হাসিলের জন্য প্রশ্ন মানুষের
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো সরব হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা জনগণমুখী হয়ে আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে নির্বাচনের আগের ওয়াদা নির্বাচনের পরে ভঙ্গ হলে তাতে মনক্ষুন্ন হন সাধারণ জনগণ। দানবীর হিসেবে খ্যাতি অর্জন করা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানও এই রকম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হচ্ছেন বলে মনে করছেন শহর-বন্দরের অধিবাসীরা।
বিশেষ করে গত নির্বাচনের পরপর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ শহর-বন্দরের বাসিন্দাদেও জন্য সেন্ট্রাল ফেরী ঘাট এবং হাজীগঞ্জ ফেরীঘাট জনগণের জন্য বিনা পয়সায় পারাপারের সুবিধা করে দেন। এমনকি তখন সেলিম ওসমান নিজের তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘাট দুটির কর্মচারী ও ইঞ্জিন চালিত নৌকার খরচ বাবদ নিজ তহবিল থেকেও বহন করেছিলেন। কিন্তু সেটি কিছুদিন অব্যাহত থাকার পর সেই প্রতিশ্রুতি আর ঠিক থাকেনি।
প্রথমে বাহবা পেলেও পরে এই ঘাটগুলো আর জনগণের জন্য ফ্রি থাকেনি। এই ঘাট সংক্রান্ত মামলায় অন্তর্বতীকালীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসার পর সেলিম ওসমানের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচয় দেয়া লোকজনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ দুইপাড়ের মানুষ। যে যার মতো করে মালামাল, জনগণের কাছ থেকে নানা উছিলায় অর্থ আদায়, দুর্ব্যবহারসহ নানা কারণে সেলিম ওসমানের সুনামই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। যার প্রভাব পড়বে আসন্ন নির্বাচনে এমনটাই মত দুই পাড়ের বাসিন্দারা।
সেলিম ওসমানের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত বর্তমান ১৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না নারায়ণগঞ্জের বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে জনগণের স্বার্থে যে মামলা দায়ের করেছিলেন তার প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞার বলেই চলছে এই দুই ঘাট। বর্তমানে এখানে ইজারাদার না থাকলেও সেলিম ওসমানের আরেক ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনুর ঘনিষ্টজন সাইফুল হাসান রিয়েলসহ বেশ কয়েকজন নিয়ন্ত্রণ করেন সেন্ট্রাল ঘাট বলে জানা গেছে।
অবস্থা এমন জায়গায় রয়েছে সেলিম ওসমানের নাম তাদের মুখে মুখে সামনে আসায় ভয়েও এই মামলা মোকাবেলা কিংবা ইজারা সংক্রান্ত বিষয়ে নাক গলাতে সাহস করছেনা কেউ। আর যার ফলে ঘাটে জনগণের দুর্ভোগ কয়েকগুন বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। এসব ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ গিয়ে পড়তে পারে আগামী নির্বাচনে সেলিম ওসমানের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে। কামরুল হাসান মুন্নার সেই মামলায় বিবাদী করা হয়েছিল, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটি’এ বন্দর, মেঘনা ঘাটের উপ-পরিচালক এবং নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের বন্দর কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) কে।
সূত্র জানিয়েছে, সেখানে মামলার বাদী কামরুল হাসান মুন্না অভিযোগ করেন ঘাট দুটি থেকে অবৈধ সুবিধা লাভের আশায় দীর্ঘদিন যাবৎ বিবাদী অর্থাৎ বিআইডব্লিউটি’এ সংশ্লিষ্টরা তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পায়তারা করছে। এই অবস্থায় গত ১৩ এপ্রিল ২০২২ বাংলাদেশ নৌ পরিবহন বরাবরে একটি চিঠি প্রেরণ করেন। যাতে খেয়া ঘাট দুটি ২০২২/২০২৩ অর্থবছরের জন্য বাদী মুন্নার বরাবর নবায়ন করেন। এবং ঘাট দুটি লিজ যাতে না দেয়া হয়, এটা করলে জনগণের ঘাট পারাপারে ভোগান্তির শিকার হবে।
কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ এসব আমলে না নিয়ে গত ২০২২ সালের ২৩ এপ্রিল ঘাট দুটি ইজারা দেয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়। এই বিজ্ঞপ্তি দেখেই কামরুল হাসান মুন্না দুই ঘাট নিয়ে বিআইডব্লিউটি’এ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন। এবং এই স্বত্ব ঘোষণামূলক মামলাতেই আদালত অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা দেয়। এবং তার প্রেক্ষিতেই ইজারা ছাড়াই বর্তমানে সাইফুল হাসান রিয়েলের লোকজন সেন্ট্রাল ঘাট এবং সাজনুর লোকজন হাজীগঞ্জ ঘাট চলছেন।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এসব ঘাট দিয়ে চলাচলরত জনগণই সেলিম ওসমানের সেই বিনামূল্যে পারাপারের প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়টি তো টেরই পাননা উল্টো দুই পাড়ের লোকজনের ক্ষোভের অন্ত নেই। নালিশা জমা দেয়া দুই ঘাট যাতে অন্যত্র লীজ দিতে না পারে কিংবা বাদীর মুন্নার শান্তিপূর্ণভাবে ঘাট পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন প্রকার বাধা বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে তৎমর্মে বিবাদীগণকে (বিআইডব্লিউটি’এ) কর্তৃপক্ষকে অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন বিজ্ঞ আদালত।
আর এই সুযোগটিই নেন বর্তমানে ঘাট পরিচালনাকারীরা। একদিকে সেলিম ওসমানের নাম থাকায় আদালতে চলমান এই মামলা মোকাবেলা করার দুঃশাহস কেউ দেখাতে পারছেনা, অন্যদিকে খোদ বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ কোনঠাসা হওয়ায় ইজারা নেয়ার ব্যাপারে কেউ আগ্রহী হওয়ারও সাহস দেখাতে পারছেনা। এক্ষেত্রে সেলিম ওসমানের নাম ভাঙিয়ে লাভবান হচ্ছে মুষ্ঠিমেয় লোক। আর জনগণ মুখোমুখি হয়েছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ এবং নির্যাতনের।
আদতে সেলিম ওসমান বিষয়গুলো এখন দেখভাল করেন কি না তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। আর যার ফলে দুই পাড়ের মানুষের বুকফাটা আর্তনাদের ক্ষোভ ঝাড়া হতে পারে আগামী নির্বাচনে সেলিম ওসমানের উপরই। তবে সেলিম ওসমানের নাম ভাঙিয়ে যারা জনগণকে কষ্ট দিচ্ছে তাদের পোয়াবাড়ো।


