অটোতে টাকার বিনিময়ে মিলছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৩, ১১:৪৫ এএম
# ২০০০ টাকা নিয়ে স্টিকার দেওয়া কে এই জয়নাল আবেদীন রাজু
# আমরাও দেখেছি কাল থেকে নেওয়া হবে ব্যবস্থা : টি আই করিম
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড হয়ে চাষাড়া, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাতে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ ব্যাটরি চালিত অটে-রিকশা মিশুক চলাচল করে আসছে এ আর নতুন কিছু নয়। তবে, আর একটা জেলায় এই অবৈধ যানবাহনকে পুজি করে তৈরী হয়েছে পুরো জেলায় প্রায় কয়েকশ চাঁদাবাজ। বিভিন্ন সময়ে এ সকল চাঁদাবাজরা বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে এ সকল অবৈধ ব্যাটারি চালিত যানবাহনের মালিক ও চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে।
জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড এলাকায় নারায়ণগঞ্জ শহর এলাকায় এ সকল অবৈধ যানবাহন একেবারে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এ সকল চাঁদাবাজদের সাথে নিয়েই অবৈধ এ সকল যানবাহনের কাছ থেকে প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।
আরও জানা যায়, শুধুমাত্র সাইনবোর্ড থেকে চাষাড়া রোডে প্রতিদিন প্রায় ১০০০ হাজারের বেশি এ অবৈধ অটো রিক্সা চলাচল করে। যার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা উঠে। আর এই টাকা প্রশাসন, কথিত নেতা, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে দিনের পর দিন চলে আসছে এই চাঁদাবজি।
চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকায় বিভিন্ন সময় এ সকল চাঁদাবাজরা গ্রেফতার হলেও বের হয়ে আবারো ফিরে যায় তাদের এই চাঁদাবাজির পেশায়। তবে বিভিন্ন মহল ও প্রশাসনের চাপের কারনে এই লিংক রোডে অটো রিক্সা চলাচলের জন্য যাদেরকে চাঁদা দেওয়া হতো তারা কিছুদিন এই চাঁদা বন্ধ রাখলেও আবারো নতুন করে নতুন কৌশলে শুরু হয়েছে এই চাঁদাবাজি।
সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেল সাইনবোর্ড থেকে চাষাড়াতে যে সকল অবৈধ ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা চলাচল করে সেই সকল অটো চালক ও মালিকদের কাছে ২০০০ টাকার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার নামে প্রতিটি অটোতে স্টিকার দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয় সেই স্টিকারটিতে লেখা রয়েছে এই গাড়িটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্যের এটি একটি আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, আবাসন সহায়ক, দারিদ্র বিমোচন কর্মসংস্থান মানবাধিকার বিষয়ক অ-রাজনৈতিক, অ-লাভজনক সেচ্ছাসেবী, যে সরকারি প্রতিষ্ঠান।
আরও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি জয়নাল আবেদীন রাজু উনি নিজেই এই স্টিকার দিয়ে অটো চালকদের কাছ থেকে ২০০০ করে টাকা নিচ্ছে।
এ বিষয়ে স্টিকার নেওয়া এক অটোচালকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি মাত্র ২ দিন হলো এই কার্ডটি ২০০০ টাকার বিনিময়ে নিয়েছি। যিনি এই কার্ডটি দিয়েছেন তিনি বলে দিয়েছেন কেউ যদি গাড়ি আটকায় তাহলে আমাকে ফোন দিবে আমি ছাড়িয়ে এনে দেবো। তাই যেন শহরে অটো নিয়ে ডুকতে পারি এ জন্য কার্ডটা নিলাম। অটো চালক আরও বলেন তিনি একজন মানবাধিকার সাংবাদিক তার নাম রাজু।
এ বিষয়ে জানতে অটোতে স্টিকারের বিনিময়ে ২০০০ টাকা নেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি জয়নাল আবেদীন রাজুর যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভাই আমি একটা মিটিং এ আছি ফোনে কথা বলবোনা আপনার সাথে সরাসরি কথা বলবো।
এ বিষয়ে টি-আই করিম জানান, আমিও বিভিন্ন অটোতে এই স্টিকারটা দেখেছি। আর এই স্টিকার যারই হোক না কেন আমরা ব্যবস্থা নেবো। আর এই স্টিকারের অনুমোদন দেওয়ার আমি করিমের ক্ষমতা নাই। তবে আমাদের কাছে যদি কেউ লিখিত অভিযোগ জানায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।
আর এই সকল চাঁদাবাজিতে আমাদের পুলিশের কেউ জড়িত নেই। আর যদি কেউ জড়িত প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে। আর যেই সংস্থাই হোক না কেন সেই সকল অটো দেখলেই নেওয়া হবে ব্যবস্থা।
এস.এ/জেসি


