পাইকারী বাজারে আসতে শুরু করেছে রসালো কাঁঠাল
শ্রাবণী আক্তার
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৩, ০৭:৪৭ পিএম
জ্যৈষ্ঠ মাসে পাঁকতে শুরু করে কাঁঠাল। জ্যৈষ্ঠ আসতেই শুরু হয় কাঁঠালের রমরমা বেচাকেনা। দেশীয় ফল হওয়ায় বছরের এ সময়টাতে বেশ ভালো বিক্রি হয় কাঁঠাল। এ বছর কাঁঠালের মৌসুমের শুরুতেই ব্যবসায়ীরা পাড়ি জমিয়েছে নগরের দিকে। চারারগোপ ফলের আড়তে এখন থেকেই জমতে শুরু করেছে কাঁঠালের হাট।
রবিবার (২১ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নৌ পথে ট্রলার দিয়ে কাঁঠাল নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের সাথে কথা বললে জানা যায়, তারা গাজীপুরের কাপাসিয়া, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ভুলতা থেকে এসেছেন। তারা এখানে আড়ৎদার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারী দামে কাঁঠাল বিক্রি করেন। অন্যান্য ফলের বাজার থেকে এখনে ভালো দামে বিক্রি করা যায় তাই প্রতিবছর কাঁঠালের মৌসুমে এখানে কাঁঠাল নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা।
নৌ-পথে আসা বিল্লাল নামে কাঁঠাল ব্যবসায়ী বলেন, আমারা এক ট্রলারে কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে প্রতি বছর কাঁঠালের সিজন শুরু হলে গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে এই ঘাটে কাঁঠাল নিয়ে এসে পাইকারী দরে বিক্রি করি। তিনি জানান, পরিপূর্ণ কাঁঠালের সিজন আসতে আরও কিছুদিন বাকি আমরা ৫ দিন ধরে কাঁঠাল নিয়ে ঘাটে এসেছি সব কাঁঠাল বিক্রি করা হলে চলে যাব।
দেশের অন্যান্য বাজারগুলোতে কাঁঠালের চাহিদা থাকলেও ঢাকা নারায়ণগঞ্জে চাহিদা একটু বেশিই। এজন্য প্রতি বছরই কাঁঠালের সিজন এলে আমরা সাধারণত নারায়ণগঞ্জেই কাঁঠাল বিক্রি করি। আশা করি সামনের সপ্তাহের মধ্যেই বেচাকেনা জমে উঠবে।
ময়মনসিংহ থেকে আসা ব্যবসায়ী হেলাল সিকদার জনান, আমি ৩/৪ বছর ধরে এই এইখানে কাঁঠালের মৌসুমে কাঁঠাল নিয়ে আসি। সিজনের শুরুতে প্রথম আসলাম ট্রলার ভর্তি কাঁঠাল নিয়ে। কাঁঠালের নাম সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে কাঁঠালের স্থানীয় নাম রয়েছে।
যেমন যেসব কাঁঠালের কোষ/কোয়া শক্ত থাকে তাকে চাইল্লা কাঁঠাল, দুধ ভাত দিয়ে খাওয়া কাঁঠালকে দুধ কাঁঠাল (দুধ ভাত দিয়ে খাওয়া কাঁঠাল গুলোর কোষ নরম থাকে), লাউয়ের মতো আকৃতির কাঁঠালকে লাউ কাঁঠাল বলে। দাম নির্ধারণের কথা জিজ্ঞেস করলে বলেন, সাধারণত সব ব্যবসায়ীরা আকার, আকৃতি, ওজন ও রং দেখে দাম নির্ধারণ করে থাকে।
ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে জানা যায়, আড়ৎদার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে তারা দুধরসা কাঁঠাল ১০০ পিস ৪-৫ হাজার টাকা, মধুরসা কাঁঠাল ১০০ পিস ৭-৮ হাজার টাকা, পানিরসা কাঁঠাল ১০০ পিস ৫-৬ হাজার টাকা, হাজারী কাঁঠাল ১০০ পিস ৩-৪ হাজার টাকা, কুমুর কাঁঠাল ১০০ পিস ৪-৫ হাজার টাকায়, বেল কাঁঠাল ১০০ পিস ৩-৪ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন।
কিনতে আসা খুচরা মূল্যের ব্যবসায়ী কালামের সাথে কথা বললে তিনি জানায়, আমি এখান থেকে পাইকারী মূল্যে কিনে খুচরা মূল্যে বিক্রি করি। সাইজ বুঝে একেকটা কাঁঠাল একেক দামে বিক্রি করে থাকি। ১৫০ টাকায় কিনা ১ পিস কাঁঠাল ২০০-২৫০ টাকায় বিক্রি করেন বলেন জানিয়েছেন তিনি। এন.হুসেইন রনী /জেসি


