Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

রোগশয্যায় আড্ডাপ্রিয় মনির ভূঁইয়া

Icon

ইউসুফ আলী এটম

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৩, ১০:১৭ এএম

রোগশয্যায় আড্ডাপ্রিয় মনির ভূঁইয়া
Swapno


তুমুল আড্ডাপ্রিয় মনির হোসেন ভূঁইয়া আজ বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে রোগশয্যায় স্থায়ী নিবাস গেড়েছেন। নানা জটিলরোগ বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। ডাক্তারের বিধিনিষেধ তাকে আড্ডা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করেছে। এক কথায়,আমাদের প্রিয় মনির ভাই আজ স্বেচ্ছাগৃহবন্দি।  অথচ একসময় কী প্রাণময় ছিলো তার জীবন !

 

 

সোনারগাঁয়ের বুরুমদিতে জন্ম হলেও পাকিস্তান আমল থেকেই তার পরিবার নগরীর মিশন পাড়ায় থিতু। ভাষা সৈনিক আজগর হোসেন ভূঁইয়া ছিলেন তার চাচা। তার পিতা মজিবুর রহমান ভূঁইয়া এবং মাতা পরী বানু অনেক আগেই প্রয়াত। ৬ ভাই ৫ বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। ইতোমধ্যেই তার ২ ভাই ও ১ বোন মারা গেছেন।

 

 

মনির ভাই বেশ কয়েক বছর কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনে স্টোরকিপার পদে চাকরি করেছেন। তবে বেশির ভাগ সময় কেটেছে তিতাস গ্যাসের ঠিকাদারি আর নির্মল আড্ডা দিয়ে । সম্ভবত ১৯৭৪ সালে খানপুরের পারুল বেগমের সাথে তিনি মালা বদল করেছিলেন। দেখতে খুবই সুন্দরী ছিলেন আমাদের ভাবী পারুল বেগম।

 

 

আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে , ভাবীকে একনজর দেখার জন্য তার বাসার সামনে আমরা সমবয়সীরা দলবেঁধে লাইন দিতাম। পারুল বেগম ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের তিন বারের সাংসদ শামীম ওসমানের তৎকালীন চার খলিফার অন্যতম নূরুল আমিন মাকসুদের বড় বোন। কয়েক বছর পূর্বে মাকসুদ আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। আমাদের ভাবীও গত হয়েছেন বছর দুয়েক আগে। মনির ভাই ২ মেয়ে ১ ছেলের জনক।

 

 

তার বড় মেয়ে কানিজ ফাতেমা রিমা একজন সিআইপি। তিনি ইব্রাহিম নিট গার্মেন্টস প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার স্বামী আলহাজ্ব মো. ইউসুফ একই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। পূর্ব ইসদাইর বুড়ির দোকান এলাকায় তিনি একজন সমাজসেবক ও দানশীল ব্যক্তি হিসেবে সমাদৃত। মনির ভাইয়ের দ্বিতীয় মেয়ে সোনিয়া ফারজানা সোমা যুবলীগ নেতা জামতলার শাহ ফয়েজউল্লাহ’র স্ত্রী। একমাত্র ছেলে শাকের মাহমুদ ব্যবসার সাথে জড়িত।  

 

 

১৯৬০ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত আমাদের পরিবারও মিশন পাড়ায় থিতু ছিলো। মিশন পাড়ার মুখে অবস্থিত তখনকার রামকানাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমার পিতা শিক্ষকতা করতেন। এ সুবাদে মিশনপাড়ার অনেকেই সরাসরি আমার আব্বার ছাত্র ছিলেন। আমিও ওই স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণী উত্তীর্ণ হয়ে নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলে পাড়ি জমিয়েছিলাম। 

 

 

মিশন পাড়াতেই আমার শৈশব, কৈশোর এবং যৌবন কাল কেটেছে। একই মহল্লায় পাশাপাশি অবস্থানের কারণে মনির ভাইক খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ হয়েছিলো আমার। যখন কিছুটা বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই মনির ভাইকে আইডেল হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম। শুদ্ধ ভাষায় তার কথা বলার স্টাইল, নায়কীয় হাঁটার ভঙ্গি ইত্যাদি খুঁটিনাটি বিষয় অনুকরণের রিহার্সাল দিতাম।

 

 

আমরা কয়েকজনের একটা গ্রুপ ছিলাম যাদের প্রধান কাজই ছিলো খেতাব বিতরণ করা। এ গ্রুপের অন্যতম লিডার ছিলো আবু জাফর আহমেদ বাবুল ওরফে নাতি বাবুল ওরফে গ্যাস বাবুল ওরফে প্রাইম বাবুল। খেতাবপ্রাপ্তদের  চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং পেশাগত দিক বিবেচনায় রাখা হতো। পট ও পেশা পরিবর্তনের সাথে সাথে বাবুলের খেতাবও পরিবর্তন হয়েছে।

 

 

বলা বাহুল্য,  মনির ভাইও এ গ্রুপের হাত থেকে রেহাই পান নি। আড়ালে আবডালে তাকে ‘চারমাথা মনির’ বলে সম্বোধন করার একটা রেওয়াজ প্রচলিত হয়ে গিয়েছিলো। অর্থাৎ তিনি একাই চার জনের বুদ্ধি রাখেন। অন্যদিকে মাকসুদের দুলাভাই হওয়ায় তার কপালে ‘কমন দুলাভাই’য়ের খেতাবও জুটে গিয়েছিলো। তো ওই সময় গ্রুপ থেকে আমাকে বলা হতো আতেল, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা নূরুল ইসলামকে পাহ্লোয়ান,নজরুল ইসলাম খোকনকে  পাকনা মুন্সি। ইত্যাদি ইত্যাদি। 

 

 

কয়েকদিন আগে চাষাঢ়া বালুর মাঠে হাসনাত প্লাজায় প্রতিষ্ঠিত হেলথ রিসোর্ট হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শয্যাশায়ী মনির ভাইকে দেখতে গিয়ে হারানো দিনের অনেক ছবিই স্মৃতির ক্যানভাসে ভেসে ওঠে। মহান আল্লাহ্ প্রিয় মনির ভাইকে সুস্থদেহে আবার আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনবেন এমন প্রত্যাশা করি । লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও ছড়াকার।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন