# তাঁর অনুসারীরা চান তিনি গিয়ে প্রমাণ করুক তাঁর ভিসা বাতিল হয়নি
নারায়ণগঞ্জের প্রতাপশালী সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে ভিসা দেয়নি আমেরিকা। তাঁর পূর্বের ভিসার মেয়াদ থাকলেও বাতিল করে দেয়া হয়েছে তা গণমাধ্যমে আসলে শোরগোল পড়ে যায়। স্বচ্ছ নির্বাচনের ইস্যুতে আমেরিকা যখন বাংলাদেশের জন্য আলাদা ভিসা নীতি করে ঠিক তখনি এমন একটি খবরে ঝড় তোলে সর্বমহলে। বছর দেড়েক আগে শামীম ওসমান আমেরিকার ভিসা নিয়ে সেদেশ স্বপরিবারে ভ্রমণ করে এসেছিলেন।
এর আগেও শামীম ওসমান আমেরিকার ভিসা চাইলে তাকে ভিসা দেয়া হয়নি। পরে জোর লবিংয়ে আমেরিকার ভিসার মুখ দেখেন। এরপর শামীম ওসমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত তার ভিসার মেয়াদ রয়েছে বলে মতবিনিময় সভায় জানান। তিনি ওই মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিক নেতাদের তাঁর আমেরিকার ভিসার মেয়াদ থাকার বিষয়টিও দেখাতে চেয়েছেন। অথচ এখন পর্যন্ত তিনি আমেরিকার ভিসার মেয়াদ থাকার বিষয়টি কোন সাংবাদিককে দেখাননি।
শামীম ওসমানের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত সিনিয়র সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম আমেরিকা ভিসা নীতি প্রকাশের প্রাক্কালে সময় টেলিভিশনের এক টকশোতে বলেছেন, আমেরিকার লঘু স্যাংশনের কারণে শামীম ওসমানকে ভিসা দিচ্ছেনা আমেরিকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এখন পর্যন্ত আমেরিকা যে কয়জনকে কালো তালিকাভুক্ত করেছেন তাদের মধ্যে শামীম ওসমানও রয়েছেন। কারও পাসপোর্টে ভিসার মেয়াদ থাকলেও আমেরিকা না চাইলে সে দেশে ঢুকতে পারা যায়না।
আমেরিকা সরকার সম্পূর্ণ গোপনীয়তা রক্ষা করে কোন ব্যক্তির প্রতি বিরাগভাজন হলে তাকে চিঠির মধ্যমে অথবা ই-মেইলে জানিয়ে দেয়া হয় যে, তোমার ভিসার মেয়াদ থাকলেও ভিসাটি বাতিল করে দেয়া হয়েছে। এই ভিসা নিয়ে আপনি আর আমেরিকা গমন করতে পারবেননা। শামীম ওসমানের ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটেছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
তবে শামীম ওসমান যেভাবে প্রকাশ্যে মত বিনিময় করে সভায় ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, তিনি চাইলেই আমেরিকা যেতে পারেন তার এই বক্তব্যের পর দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে তার অনুসারীরা। নেতার কথায় অনেকেই আশ্বস্ত হতে পারছেন না। অনেক নেতাই মন্তব্য করেছেন, শামীম ওসমানের হাতে তো অফুরন্ত সময় রয়েছে, তিনি সুযোগ পেলেই দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ান। এখন আমেরিকার আবহাওয়াও খুব ভালো যাচ্ছে। তিনি চাইলেই একটু ঘুরে এসেই প্রমাণ করুক আমেরিকা তার ভিসা বাতিল করেনি। এস.এ/জেসি


