# শেষ হয়নি বিচারকার্য, হতাশ ও ক্ষুব্ধ নিহতদের স্বজনরা
আজ নারায়ণগঞ্জের ভয়াল ১৬ জুন। ২০০১ সালের এই দিনে চাষাঢ়ায় আওয়ামীলীগ অফিসে বর্বরোচিত বোমা হামলায় প্রাণ হারায় ২০ জন। ঘটনার দীর্ঘ ২২ বছর পেরিয়ে গেলেও গত প্রায় নয় বছর আগে তদন্ত সংস্থা মামলাটির চার্জশিট প্রদান করে। বিচারকার্য্য চলছে ধীর গতিতে। নিহতদের পরিবারের দাবি তারা বেঁচে থাকতে এই ঘটনার কারণ জানাসহ দোষীদের বিচার দেখে যেতে চান।
২০০১ সালের ১৬ জুন রাত পৌনে ৯ টায় নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় অবস্থিত আওয়ামীলীগ অফিসে বর্বরোচিত এ বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। সেদিনের নৃশংস বোমা হামলার ঘটনায় নিহত হয়ে ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা সাঈদুল হাসান বাপ্পি ও অজ্ঞাত নারীসহ ২০ জন। তৎকালীন সংসদ সদস্যসহ আহত হয় অর্ধশত। অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।
চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে এ মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা হয়। দুটি মামলায় ১৪ বছরে ৭ বার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন এবং ৮ম বার ১৩ বছর পর ২০১৩ সালের ২ মে মামলার তদন্ত সংস্থা ৬ জনের নাম উল্লেখ করে সিআইডি আদালতে চার্জশীট দাখিল করে।
বর্তমানে আদালতে মামলাটির স্বাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। চার্জশীট ভুক্তদের মধ্যে মুফতি হান্নানকে ২০১৭ সালে অন্য একটি মামলায় ফাঁসি দেওয়া হয়। মামলার অপর দুই আসামী জমজ সহোদর আনিসুল মোরছালিন ও মুহিবুল মোত্তাকিন ভারতের কারাগারে আটক রয়েছে। ওবায়দুল্লাহ রহমান নামে অপর এক আসামী পলাতক রয়েছেন। আরেক আসামী নাসিকের ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু জামিনে এবং শাহাদাৎ উল্লাহ জুয়েল কারাগারে রয়েছেন।
বোমা হামলায় নিহত নিধুরাম বিশ্বাসের পরিবারের দিন কাটাচ্ছে অনাহারে-অর্ধাহারে। প্রধানমন্ত্রী অনেক আশ্বাস দিলও সেটির সুফল পায়নি এত বছরেও এনিয়ে হতাশ তারা। এ ঘটনার বিচারকার্য নিয়ে হতাশ প্রকাশ করে এ ঘটনায় দু’পা হারানো রতন কুমার দাশ। তিনি এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মামলার বাদী অ্যাডভোকেট খোকন সাহা জানান, মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। অন্যান্য সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ না হওয়ায় নিজেও হতাশা প্রকাশ করেন। মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি চান।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এড. মনিরুজ্জামান বুলবুল জানান, বোমা হামলার ঘটনার দায়ের করা মামলা নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সকল সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ১৬ জুন রাত সোয়া ৮টায় নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় অবস্থিত আওয়ামী লীগ অফিসে বর্বরোচিত এ বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৯ জনের আর হাসপাতালে মারা যায় বাকি ১১ জন।
সেদিনের নৃশংস বোমা হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন- শহর ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুল হাসান বাপ্পী, সহোদর সরকারি তোলারাম কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের জিএস আকতার হোসেন ও সঙ্গীত শিল্পী মোশাররফ হোসেন মশু, সঙ্গীত শিল্পী নজরুল ইসলাম বাচ্চু, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ভাসানী।
নারায়ণগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ বি এম নজরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাইদুর রহমান সবুজ মোল্লা, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী পলি বেগম, ছাত্রলীগ কর্মী স্বপন দাস, কবি শওকত হোসেন মোক্তার, পান-সিগারেট বিক্রেতা হালিমা বেগম।
সিদ্ধিরগঞ্জ ওয়ার্ড মেম্বার রাজিয়া বেগম, যুবলীগ কর্মী নিধু রাম বিশ্বাস, আব্দুস সাত্তার, আবু হানিফ, এনায়েতউল্লাহ স্বপন, আব্দুল আলীম, শুক্কুর আলী, স্বপন রায় ও অজ্ঞাত এক নারী। আওয়ামীলীগ নেতা শামীম ওসমানসহ আহত হন অর্ধশত ব্যক্তি। এন. হুসেইন রনী /জেসি


