ফতুল্লাকে সিটিতে অন্তর্ভুক্তিতে মেয়র আইভী কি আগ্রহ হারিয়েছেন?
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৩, ০৭:৪২ পিএম
# তিনটি ইউনিয়নকে সিটির আওতায় নিতে চাইলেও বাধা দিয়েছেন এমপি
# কুতুবপুর ও ফতুল্লাকে আলাদা পৌরসভা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মেয়র
ফতুল্লা থানা এলাকাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় নেয়ার ব্যাপারে মেয়র আইভী কি আগ্রহ হারিয়েছেন কিনা এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে? কারণ উন্নয়নের দিক থেকে এরই মাঝে ফতুল্লা থানা এলাকা অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট নির্মাণ করার মতো জায়গা-জমি সব দখল হয়ে গেছে। তাই এখন ফতুল্লা থানা এলাকাকে সিটি করপোরেশনের আওতায় নিলেও কাঙ্খিত উন্নয়ন করতে পারবেন না মেয়র আইভী।
তাই এখন আর ফতুল্লাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত করার মতো আগ্রহ মেয়র আইভীর নেই বলেই জানিয়েছে সূত্র। সূত্রটি আরো জানায় বিগত বছরগুলিতে মেয়র আইভী নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার অন্তত তিনটি ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাভূক্ত করতে চেয়েছেন। এগুলো হলো, গোগনগর, কাশীপুর এবং এনায়েতনগর। এছাড়া কুতুবপুর আর ফতুল্লা ইউনিয়নকে নিয়ে তিনি পৃথক একটি পৌরসভা করতে চেয়েছেন।
কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানর প্রবল বাধার কারণে শেষ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন উন্নয়ন বঞ্চিত রয়ে গেছে। আর এটাই স্বাভাবিক যে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা মানেই হলো গ্রাম এলাকা। তাই সিটি করপোরেশন বা পৌরসভায় সরকারী বেসরকারী যে পরিমাণ বরাদ্দ পাওয়া যায় ইউনিয়ন পরিষদে তা পাওয়া যায় না। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি যেখানে গিয়ে ঠেকেছে তাতে মেয়র আইভী আগ্রহ হারিয়ে ফেলাটাই স্বাভাবিক বলে মনে করেন মেয়ররের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলি।
কারন শামীম ওসমান নিজেই চান না তার এলাকায় যথাযথ উন্নয়ন হোক। তিনি শহর এলাকাকে কাগজে কলমে গ্রাম বানিয়ে রেখেছেন এবং উন্নয়ন দায়িত্ব নিজের হাতে রেখেছেন। কিন্তু তেমন কোনো উন্নয়ন তিনি করছেন না। ভাঙ্গা রাস্তা আর জলাবদ্ধতা এখন তার এলাকার জনগণের নিয়তি। তাই এখন এসব ইউনিয়নের উন্নয়নের দায় শামীম ওসমানের কিন্তু তিনি উন্নয়ন করতে চরমভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।
ফতুল্লার সাধারণ মানুষের মতে শামীম ওসমান ভালো মতো জানেনও না কোন এলাকায় কি সমস্যা রয়েছে। ফলে এর সাফল্য ব্যর্থতার দায়ও শামীম ওসমানকেই বহন করতে হবে। যার ফলে রাস্তাঘাটে বিশৃঙ্খলা এবং জলাবদ্ধতা সহ নানা রকম উন্নয়ন ব্যর্থতাই হলো এসব ইউনিয়নের জনগণের নিয়তি।
অপরদিকে সত্যিই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় নজিরবিহীন উন্নয়ন করেছেন এই সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী। নারায়ণগঞ্জ শহরতো বটেই বাকী দুটি থানা এলাকা তথা সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরে নারায়ণগঞ্জের এই নারী মেয়র এতো উন্নয়ন করেছেন যে একেবারে পাল্টে দিয়েছেন ওসব এলাকার চেহারা। ওইসব এলাকার রাস্তাগুলি তিনি নির্মাণ করেছেন অনেকটা উন্নত বিশ্বের রাস্তাঘাটের আদলে। তাই মেয়র আইভীর উন্নয়ন নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ এবং বন্দরের সাধারণ মানুষের কোনো প্রশ্নই নেই।
গত কয়েকদিন এই দুটি থানা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে একেবারে পাড়া মহল্লার অলিতেগলিতে রাস্তা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন মেয়র আইভী। শুধু তাই নয় সিদ্ধিরগঞ্জ এবং বন্দর উভয় থানা এলাকায় রাস্তাগুলি তিনি বেশ প্রশস্ত করে নির্মান করেছেন। রাস্তার পাশে রোপন করেছেন বৃক্ষ। একজন জনপ্রতিনিধির দূর দৃষ্টি না থাকলে এভাবে উন্নয়ন করা সম্ভভ নয় বলেই মনে করেন ওইসব এলাকার সাধারণ মানুষ।
সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন কালে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা মনে করেন মেয়র আইভীর পরিশ্রম এবং সততার কারনেই তাদের এলাকায় এতো উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। তারা স্থানীয় কাউন্সিলরদের ছাপিয়ে মেয়র আইভীর প্রশংসা করেন সবাই। বন্দর থানা এলাকায়ও একই অবস্থা বিরাজ করছে। সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। নতুন নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু করেছেন মেয়র। তাই দিনে দিনে আরো উন্নয়ন হচ্ছে। ফলে উন্নয়ন নিয়ে ওই সব এলাকার সাধারণ মানুষের কোনো আফসোস নেই।
এদিকে ফতুল্লা থানা এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা মনে করেন, শামীম ওসমান একদিকে ফতুল্লাকে সিটি করপোরেশনের আওতায় যেতে দিলেন না, অপরদিকে তিনি নিজেও তেমন কোনো পরিকল্পিত কেনো উন্নয়ন করলেন না। তিনি নতুন কোনো রাস্ত নির্মাণ করাতো দূরের কথা পূরনো রাস্তাগুলিও তিনি রক্ষা করতে পারেননি।
এছাড়া গোটা ফতুল্লা থানা এলাকা জুড়ে কোনো পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলেননি শামীম ওসমান। যার ফলে ফতুল্লায় এখন ভয়াবহ জলাবদ্ধতা হচ্ছে। বঞ্চিত হচ্ছে ফতুল্লার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। তাই উন্নয়ন বঞ্চনার কারণে ফতুল্লার জনগণের মাঝে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এস.এ/জেসি


