কাউন্সিলর মতির শেল্টারে রেলওয়ের জমি দখলে মরিয়া আশরাফ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৩, ০৭:২৮ পিএম
# সওজের নাগিনা জোহা সড়ক, মেঘনা ডিপো টার্মিনালের মাঝে প্রতিবন্ধক এই স্থাপনা
# এখানে ক্যান্টিন করার কোন বিষয় আমার জানা নেই : ডিপো ইনচার্জ
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের বিতর্কিত কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি। দখল-নৈরাজ্য আর অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের কারণে তার কুখ্যাতি চতুর্মুখী। গতবছর অবৈধ সম্পদক অর্জনের অভিযোগে মতি ও তার স্ত্রীর নামে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতিদমন কমিশন। তবে এতো কিছুর পরও তার বিতর্কিত কর্মকান্ড থেমে নেই। তার চেয়ে কোন অংশে কম নয় তার চ্যালাচামুন্ডারা।
বিশেষ করে তার বাহিনীর ফার্স্ট ইন কমান্ড বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন গোদনাইল মেঘনা শাখার সভাপতি আশরাফ উদ্দিনের ওরফে তেলচোর আশরাফের বিরুদ্ধে রেলওয়ের জায়গা দখল করে স্থাপনা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। যদিও এর নেপথ্যে মেঘনা তেল ডিপো এলাকায় নিজের আধিপত্য ও কুকর্মের প্রভাব বিস্তারেই এই স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। যদিও এই স্থাপনা তৈরির বিষয়টি সম্পর্কে একেবারেই ওয়াকিবহাল নন গোদনাইল মেঘনা তেল ডিপো কর্তৃপক্ষ।
এদিকে আশরাফ দাবি করছে তেলডিপোর কর্তৃপক্ষের জানা মতেই তিনি রেলওয়ের জায়গায় এই স্থাপনা উঠাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, নির্মাণাধীন নাগিনা জোহা সড়কের সাথে রেলওয়ের জায়গা দখল করে আশরাফ মতির প্রভাব খাটিয়ে এই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে। এদিকে আশরাফের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ খোদ গোদনাইল মেঘনা তেল ডিপো কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রেলওয়ের কাছে থেকে গোদনাইল মেঘনা তেল ডিপো কর্তৃপক্ষ লিজ নিয়ে পরিকল্পিত যে টার্মিনাল তৈরির চিন্তাভাবনা করছে সেটিও আশরাফের এই অবৈধ স্থাপনার কারণে বাধাগ্রস্ত হবে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডে গোদনাইল মেঘনা তেল ডিপোর প্রস্তাবিত টার্মিনালের ঘেষে এবং নাগিনা জোহা সড়কের ৫ হাতের মধ্যে এই অবৈধ স্থাপনা তৈরি করছে আশরাফ। স্থানীয়রা জানান, তেলচুরি সিন্ডিকেটের প্রভাব বাড়াতেই এই জায়গায় এই স্থাপনা বানাচ্ছে আশরাফ। তবে আশরাফের দাবি, শ্রমিকদের জন্য ক্যান্টিন করার জন্যই এই স্থাপনা। তিনি এই জায়গা লিজ নিয়েছেন বলে দাবি করেন।
যদিও রেলওয়ের কাছ থেকে টার্মিনাল তৈরির জন্য জায়গা নিয়েছে গোদনাইল মেঘনা তেল ডিপো কর্তৃপক্ষ। তাদের চিন্তাভাবনায় এই অবৈধ স্থাপনার বিষয়টি নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাহলে প্রশ্ন উঠেছে কোন ক্ষমতার বলে আশরাফ সওজ-রেলওয়ে ও তেল ডিপোর লিজ নেয়া জায়গাতেই এই অবৈধ স্থাপনা তৈরি করছে।
অনেকে অভিযোগ করে বলেন, কাউন্সিলর মতির আশকারায় এবং প্রত্যক্ষ মদদে আশরাফ অবৈধভাবে এই জায়গা দখল করে এই স্থাপনা বানাচ্ছে। গত সপ্তাহে সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ নাগিনা জোহা সড়ক প্রশস্ত করতে অভিযান পরিচালনা করেছে। তাহলে তাদের নাকের ডগায় নাগিনা জোহা সড়ক ঘেঁষে রেলওয়ের জমিতে দিন-দুপুরে এই অবৈধ স্থাপনা তৈরির দুঃসাহস আশরাফ কী করে পেল।
এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে গোদনাইল মেঘনা তেল ডিপোর ইনচার্জ লুৎফর রহমান যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমরা রেলওয়ের জমির ৬০ ফিট রাস্তা ছেড়ে দিয়ে ১ একর জায়গা টার্মিনালের জন্য লিজ নিয়েছি। ওখানে ক্যান্টিন করার কোন বিষয় আমার জানা নেই। এখন এরমধ্যে কে বা কারা স্থাপনা উঠাচ্ছে আমরা এটা জানিনা। রেলের জায়গায় তারা কীভাবে স্থাপনা উঠায় এটা রেলওয়েই ভালো বলতে পারবে।’
এদিকে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, গোদনাইল মেঘনা তেল ডিপো রেলওয়ের যে ৬০ ফিট জায়গা রাস্তার জন্য ছেড়ে দিয়েছে। সেখানে নাগিনা জোহা সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। এই নাগিনা জোহা সড়ক এবং গোদনাইল মেঘনা তেল ডিপোর টার্মিনাল করার জায়গার মাঝখানেই এই স্থাপনা উঠাচ্ছে আশরাফ মতির শেল্টারে। এটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন গোদনাইল মেঘনা শাখার সভাপতি আশরাফ উদ্দিন যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমি রেলওয়ের কাছ থেকে লিজ নিয়ে এই স্থাপনা উঠাচ্ছি। আবার তিনি বলেন, মেঘনা ডিপো থেকেই এই জায়গা লিজ নিয়েছে আর আমি সেখানে শ্রমিকদের জন্য ক্যান্টিন তৈরি করছি।’ এস.এ/জেসি


