সোনারগাঁয়ে দাফনের দুই মাস পর কবর থেকে নারীর লাশ উত্তোলন
সোনারগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৩, ১১:৩২ এএম
মায়ের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি, মাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। মেয়ের এমন অভিযোগে আদালতের নির্দেশে দাফনের ২ মাস পর কবর থেকে মমতাজ বেগম (৫৮) নামে এক নারীর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মোঃ হাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ছয়হিস্যা এলাকার স্থানীয় কবরস্থান থেকে মমতাজ বেগমের লাশ উত্তোলন করা হয়। মমতাজ বেগম গত ১৮ এপ্রিল রাতের কোন এক সময় মৃত্যুবরণ করে ঘরের মেঝেতে পরে থাকতে দেখে পরের দিন ১৯ এপ্রিল সকালে তার স্বজনরা প্রতিবেশী আত্নীয় স্বজনকে খবর দেয়।
এসময় মমতাজ বেগমের শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন থাকায় তার মেয়ে জিনাত ফাহিমা মুন্নির সন্দেহ হলে বিষয়টি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়। তবে মমতাজ বেগমের বাবা আব্দুল খালেক প্রধান ও তার পরিবারের দাবি তিনি স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছেন। মায়ের মৃত্যু অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক মনে হওয়ায় নিহতের মেয়ে জিনাত ফাহিমা মুন্নি বাদি হয়ে নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে ২৭ এপিল পিটিশন মামলা দায়ের করেন।
পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ আদালতের নির্দেশে মমতাজ বেগমের লাশ উত্তোলন করেছে। সঠিক তদন্তের স্বার্থে লাশ উত্তোলন করতে সাহায্য করেছি। তদন্ত শেষ হলে মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, বাবার বাড়ির লোকজনের সঙ্গে মমতাজ বেগমের মধ্যে পারিবারিক কলহ ছিল। এ নিয়ে প্রতিদিন কোন না কোন ঝগড়া লেগে থাকতো। এছাড়াও মমতাজ বেগমমের টাকা ও স¤পত্তি নিয়ে পূত্রবধুর মধ্যেও কলোহ ছিল। গত ১৮ এপ্রিল রাতে কোন এক সময় মমতাজ বেগমের মৃত্যু হয়।
এ মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবার পরের দিন সকালে জানতে পারে। পরবর্তীতে মমতাজ বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিকট আত্নীয় স্বজনসহ তার মেয়েকে দীর্ঘ সময় পর জানানো হয়। মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তার মেয়ে জিনাত ফাহিমা মুন্নি ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মায়ের শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায় ও ডান চোখ রক্তাক্ত ফুলা ছিল।
এসময় তার মেয়ে লাশের ময়না তদন্ত দাবি করেন। এক পর্যায়ে মমতাজ বেগমের বাবার বাড়ির লোকজন মেয়েকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তড়িগড়ি করে লাশ দাফন করে ফেলেন। নিহতের মেয়ে জিনাত ফাহিমা মুন্নি বলেন, আমার মাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। তাছাড়া তার ঘরে থাকা টাকা পয়সা স্বর্ণলংকার ও দলিলপত্রের কোন প্রকার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ গোলাম মোস্তফা জানান, আদালতের নির্দেশের মমতাজ বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের জন্য লাশ উত্তোলন করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এন. হুসেইন রনী /জেসি


