কোরবানী ঘিরে কামারপট্টিতে ব্যাপক কর্মব্যস্ততা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৩, ০৩:০৫ পিএম
প্রতিবছর কোরবানির ঈদ এলেই চাহিদা বেড়ে যায় দা, বটি, ছুরি, চাপাতি, কুড়ালসহ গোশত কাটার বিভিন্ন সরঞ্জামের। ক্রেতার চাহিদা মেটাতে ব্যস্ততা বাড়ে কামারদেরও। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের কামারপট্টিতে বেড়েছে ব্যস্ততা।
তবে সেই অনুযায়ী বিক্রি বাড়েনি। ফলে কিছুটা হতাশ পেশাটির সঙ্গে জড়িতরা। আশা করছেন, ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বেচা-বিক্রিও বাড়বে।
কামারপট্টিতে গিয়ে দেখা যায়, ১৪টি কামারের ঘরসহ প্রায় ২৪-২৫টি দোকান রয়েছে এখানে। প্রতিটি দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কোরবানির পশু জবাই ও গোশত কাটার বিভিন্ন আকারের দা, বটি, ছুরি, চাপাতি, কুড়াল। অধিকাংশ দোকানের ভেতর থেকে ভেসে আসছে হাতুড়ি দিয়ে লোহা পেটানোর টুং টাং শব্দ।
অনেকে আবার দোকানের সামনে বসে এসব সরঞ্জাম ধারালো করতে শান দেওয়ার কাজ করছেন। দোকানের পাশ দিয়ে কেউ গেলেই ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করছেন, কী লাগবে? টুকটাক যেসব ক্রেতা আসছেন তাদেরকে চাহিদা অনুযায়ী সরঞ্জাম দেখাচ্ছেন, দামাদামি করছেন। সবমিলিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার কামার ও বিক্রেতারা।
ব্যস্ততার পাশাপাশি কিছুটা বিক্রিও হচ্ছে। যদিও সেটি প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না। কারণ হিসেবে কামার ও বিক্রেতারা বলছেন, এবার দা, বটি, ছুরি, চাপাতিসহ সব ধরনের সরঞ্জামের দাম বেশি। তাই যাদের খুব প্রয়োজন, শুধুমাত্র তারাই নতুন করে কোরবানির পশু কাটার সরঞ্জাম কিনছেন। বাকিরা পুরনো যেসব সরঞ্জাম আছে, সেগুলোই নতুন করে শান দিয়ে ধারালো করে নিচ্ছেন।
সঞ্জয় চন্দ্র গোস্বামী নামের এক কামার বলেন, রোজার ঈদের এক মাস পর থেকেই আমরা কোরবানির জন্য প্রস্তুতি শুরু করি। আগে ১২ ঘণ্টা কাজ করলেও এখন টানা ১৪-১৫ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। মাঝে শুধু খাওয়ার সময় পাওয়া যায়। নাইলে চাহিদা অনুযায়ী মালামাল দেওয়া যায় না। এবারও একইভাবে কাজ করছি। কিন্তু এবার সেভাবে মালামাল বিক্রি হচ্ছে না।
কামারের এক সহযোগী মো. রুবেল বলেন, সকাল ৯টা থেকে কাজ শুরু করি। কখনো কখনো রাত ১১টা-১২টা বেজে যায়। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এভাবে কাজ করতে হবে। প্রতিদিন ২০-৩০টি দা, বটি, ছুরি, চাপাতি তৈরি করি। অন্য বছরগুলোতে এই সময়ে মোটামুটি বিক্রি হলেও এবার বিক্রি কিছুটা কম।
সাকিবুল হাসান নামের এক ক্রেতা বলেন, গত বছর যেই চাপাতি ৬৫০ টাকায় কিনেছি, এবার সেটি কিনতে হয়েছে ৮০০ টাকা দিয়ে। দাম অনেক বেড়ে গেছে। তারপরও কিনতে হবে, তাই কিনেছি। আরও কিছু জিনিস কেনার দরকার ছিল। কিন্তু দামের কারণে এখন আর কিনবো না। বাসায় গিয়ে পুরানোগুলো খুঁজে বের করতে হবে।
এ কামারপট্টিতে বর্তমানে মান ও আকারভেদে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এসব লোহার সরঞ্জাম।
এর মধ্যে ওজনভেদে প্রতিটি চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা, দা ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা, বড় ছুরি ৬০০ থেকে ১৫০০ টাকা, ছোট ছুরি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা, কোপ ছুরি ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা, রেত ছুরি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, কুড়াল ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা, চাইনিজ কুড়াল ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা, বটি ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা। এন.হুসেইন রনী /জেসি


