জলাবদ্ধতার পানি অপসারণ না হলে গলা পানিতে নেমে দাঁড়িয়ে ধর্মঘট করবে
যুগের চিন্তা রিপোার্ট
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৩, ০৮:২১ পিএম
অনতিবিলম্বে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্প এলাকার জলাবদ্ধতার পানি অপসারণ করা না হলে ময়লা পানিতে নেমে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) শামীম ওসমান।
রোববার (২ জুলাই) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল পাম্প স্টেশন পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। শামীম ওসমান বলেন, ‘আমার এলাকার ৩০-৪০ লাখ লোক এখানে থাকে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ময়লাসহ এমন কোনো বিষাক্ত ময়লা নেই যা এই পানিতে নেই। তারা প্রধানমন্ত্রীর ওপর বিশ্বাস রাখেন, আমাদের ওপরও বিশ্বাস রাখেন।
এটা যদি অপসারণ করা না হয় আমি তাহলে ওই ময়লা পানিতে নেমে অবস্থান ধর্মঘটে নেমে যাবো। আমি গলা পর্যন্ত পানিতে নেমে দাঁড়িয়ে থাকবো।’ তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় আমি অসুস্থ থাকায় সেখানে যেতে পারিনি। আমার ছেলেকে পাঠিয়েছি এবং তার টিম নিয়ে এলাকাগুলোতে গিয়েছে।
ও এসে আমাকে ছবি দেখিয়ে বললো, মানুষের যে অবস্থা সেখানে জীবনযাপন করা মোটেও সম্ভব না। সেখানে মানুষকে কোরবানি করতে হচ্ছে। আমি কষ্টে ঈদের দিন সারাদিন বের হইনি। কারও সঙ্গে কথাও বলিনি। আমার প্রত্যাশা আছে কারণ পানিসম্পদ উপমন্ত্রী আমাকে কথা দিয়েছেন। বলেছেন কয়েকটা দিন সময় দিন।
তা নাহলে আমি নিজে যে যে এলাকায় পানি থাকবে সেখানে ময়লা পানিতে নেমে প্রতিবাদ জানাবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডিএনডি প্রজেক্টের জন্য ১ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মূলত করোনা ও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এই টাকাটা আসতে দেরি হয়ে গেছে। তবে চলতি জুলাই মাসেই টাকাটা আসবে।
যেহেতু সেনাবাহিনী কাজটি করবে আমার প্রত্যাশা, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি তারা শেষ করতে পারবে। তাদের ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে।’ শামীম ওসমান বলেন, ‘পানির কানেকশনটা সবসময় ড্রেনের সঙ্গে থাকতে হবে। সিদ্ধিরগঞ্জ পুরোটাইতো সিটি করপোরেশনের এলাকা।
সিটি করপোরেশনের কাছে আমার অনুরোধ যেন খুব শিগগির সিদ্ধিরগঞ্জের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক করা হয়। শামীম ওসমান বলেন, আমার পানির কানেকশনটা তো ড্রেনের সাথে থাকতে হবে। সিদ্ধিরগঞ্জ পুরোটাই তো সিটি করপোরেশনের আওতায় পড়েছে। সিটি করপোরেশনের কাছে অনুরোধ যেন অতিশিঘ্রই সিদ্ধিরগঞ্জের ড্রেনের ব্যবস্থা ঠিক করে।
পানিটা যেন ডিএনডি খালে সরাসরি যায়। তিনি বলেন, আজ রাতের মধ্যে জমে থাকা পানি নামনো হবে। কালকে আর পানি থাকবে না। এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয়ে যাবে। আমার প্রত্যাশা আছে। ডিএনডি প্রজেক্টের জন্য ১২শ ৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মূলত করোনা ও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এই টাকাটা আসতে দেরি হয়ে গেছে।
তবে এই জুলাই মাসেই টাকাটা আসবে। যেহেতু সেনাবাহিনী কাজটি করবে আমার প্রত্যাশা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি তারা শেষ করতে পারবে। তাদের ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামীম ওসমান বলেন, ইতিপূর্বে ডিএনডি প্রোজেক্টের জন্যে ১২শ ৯৯ কোটি টাকা বাজেট আনা হয়েছে।
সামনে আবারও কি ডিএনডি প্রোজেক্টের কাজের জন্য টাকা বাড়ানো হবে নাকি (প্রশ্ন সাংবাদিক) ? জাবাবে শামীম ওসমান বলেছেন আর কোনো বাজেট বাড়ানো হবে না। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহ্বায়ক নাসিক ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি, ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজি নুরুদ্দিন মিয়া, ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইফতেখার আলম খোকন, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা, ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী আনোয়ার ইসলাম প্রমুখ।
’ঈদের আগের দিন থেকে টানা কয়েকদিনের বর্ষণে ডিএনডির অভ্যন্তরে সিদ্ধিরগঞ্জ, পাগলা, ফতুল্লা, কুতুবপুর, মুন্সিবাগ, শহীদবাগ, মিজমিজি, কদমতলী, কদমতলী পশিম, কালু হাজী রোড, ধনু হাজী রোড, ফতুল্লার শান্তিধারা, গিরিধারা, জালকুঁড়ি, ভূঁইগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে চরম বিপাকে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। এন. হুসেইন রনী/ জেসি


