ঈদ আনন্দে পর্যটন মুখরিত সোনারগাঁ
আশরাফুল আলম, সোনারগাঁ
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৩, ০৮:৩৩ পিএম
পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ছিল পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত। আষাঢ়ের দিনভর বৃষ্টি উপেক্ষা করে গতকাল শনিবার পর্যটকদের অবাধ বিচরন ছিল সোনারগাঁয়ের সর্বত্র। বাংলাদেশ লোকও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন ও বাংলার তাজমহলসহ সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন স্থানে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পার্শ্বে, এসিয়ান হাইওয়ে সড়ক সংলগ্ন এবং মেঘনা নদীবেষ্টিত যেকোন বাহনে চড়ে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে চলে আসেন ঐতিহাসিক সোনারগাঁয়ে। বিশেষ করে বাংলাদেশ লোকও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এবং পানাম নগরী আনন্দ মুখর ছিল ঈদ আনন্দে।
শিল্পচার্য জয়নুল আবেদীন এদেশের প্রাচীন শিল্প সংস্কৃতিকে ধরে রাখার জন্য সোনারগাঁয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ লোকও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন (সোনারগাঁ যাদুঘর)। বাংলাদেশ লোকও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে মোট ১১টি গ্যালারী। র্দুলভ সব ঐতিহ্যের নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে প্রতিটি গ্যালারীতে।
চারু শিল্পীদের সুনিপুন হাতের ছোঁয়ায় তৈরি বিভিন্ন সংরক্ষিত জিনিস পত্রের মধ্যে কাঁঠে খোঁদাই নকশী গ্যালারী, মুখোশ গ্যালারী, আদিবাসী গ্যালারী, নৌকার মডেল গ্যালারী, সংস্কৃতি চর্চার লোকজ বাদ্যযন্ত্র ও পোড়া মাটির তৈরি নির্দশন গ্যালারী, আদিবাসী পাহাড়ি উপজাতি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আদিবাসী গ্যালারী, তামা কাঁসা, পিতলের তৈজস পত্রের গ্যালারী।
লোকজ অলংকার গ্যালারী, বাঁশ, বেত শীতল পাটি গ্যালারী ও বিভিন্ন মৃগণীয় গোষ্ঠীর বিশেষ প্রর্দশনী গ্যালারী প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রাকৃতিক বৈশিষ্টের বস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়া পদর্শন করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ লোকও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের স্মৃতি ভাস্কর্য, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের স্মৃতি ভাস্কর্য ও শেখ রাসেল ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে।
বাংলাদেশর বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রামীন জীবন ধারার আলোকে কারুপল্লী গ্রামে নির্মাণ করা হয় ৩৫টি ঘর। প্রতিটি ঘরে স্থান পায় অঞ্চল ভিত্তিক মৃৎ শিল্প, কাঠে খোঁদাই করা আসবাবপত্র, হস্ত নির্মিত কাগজ, শাখা ঝিনুক, জামদানী শাড়ী, তাতবস্ত্র, রেশম বস্ত্র, পাটজাত শিল্প, বাঁশ বেতের এবং তামা কাসা লোহার তৈরি শিল্পে আরো ফুটে উঠেছে বাংলার বৈচিত্রময় রুপ। সোনারগাঁয়ে আরো রয়েছে পানাম নগরীতে মোগল আমলের নির্মিত স্থাপনা ও প্রাচীন পুরাকীর্তির নিদর্শন।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী নূরুল ইসলাম জানান, দেশি বিদেশী পর্যটকরা বিনোদনের জন্য বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে আসে। পর্যটকদের সার্বক্ষনিক নিরাপত্তার জন্য এখানে পর্যাপ্ত সংক্ষক আনসার, পুলিশ এবং পর্যটন পুলিশ মোতায়ন রয়েছে।
অপরদিকে, প্রাচীন বাংলার ঈশাখার রাজধানী সোনারগাঁয়ের অতীত ঐতিহ্য, আভিজাত্যকে সংরক্ষন করার লক্ষে বর্ণিল সাজে সাজিয়ে ১৮ বিঘা জমির উপর নির্মাণ করা হয় বাংলার তাজমহল। ইটালী থেকে আমদানী করা টাইলস ও বেলজিয়াম থেকে আনা ১৭২টি কৃত্রিম ডায়মন্ডসহ উপরে চাঁদ-তারা তৈরীতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪ মন ব্রোঞ্জ। এছাড়া বাংলার তাজমহলের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য রয়েছে পানির ফোয়ারা, চারদিকে ফুলের বাগান, দুই পাশে দর্শনার্থীদের বসার স্থান।
তাজমহলের অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠাতা আহসানউল্লাহ মনি ও তার স্ত্রী রাজিয়া দু’জনের কবরের স্থান সংরক্ষিত রয়েছে। ইতিমধ্যেই সোনারগাঁকে পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করতে এলাকাবাসীর সম্মলীত উদ্যোগে তাজমহলের পাশে ২০ বিঘা জমির উপর নির্মিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের স্মৃতি ভাস্বকর্য।
আইফেল টাওয়ার, ঈশাখাঁ ফিল্ম সিটির দ্বিতীয় প্রজেক্ট, মিশরের পিরামিড, পাঁচটি সুটিং ফ্লোর, দুইটি ডিজিটাল সিনেমাহল, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রজাতির মাছের এ্যাকুরিয়াম, একটি ফাইভস্টার মানের আবাসিক হোটেল এবং সুপার মার্কেটসহ নানা আয়োজন।
মানিকগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন বলেন, ভারতে যাওয়ার সময় ও সুযোগ না থাকায় সোনারগাঁয়ে বাংলার তাজমহলে ঘুরতে এলাম। আগ্রার তাজমহলে যাবার সু-ভাগ্য না হলেও বাংলার তাজমহল দেখার সুভাগ্য হয়েছে। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে বাংলার তাজমহল অন্যন্য ।
তাজমহলের প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্লাহ মনি জানান, তার ভালবাসার গভীরতা সম্রাট শাজাহানের মত চির অম্মাল করে রাখার জন্য বাংলার তাজমহল তৈরি করেছি। দেশ-বিদেশ থেকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক ভিড় করছেন তাজমহল দর্শনের জন্য। এখানে রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
দেশের দরিদ্র মানুষ, যাদের ভারতে গিয়ে আগ্রার তাজমহল দেখার সামর্থ্য নেই তারা যেন তাজমহল দেখার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন সেই লক্ষ্যেই এটি নির্মিত। তাজমহল ও অন্যান্য প্রজেক্টের আয়ের টাকায় সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক উন্নয়ন মূলক কার্যক্রম সম্পাদন করা হবে। এন. হুসেইন রনী/ জেসি


