Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

চার ইউনিয়নে দলীয় চেয়ারম্যানদের ব্যর্থতায় এমপির জনপ্রিয়তায় ধস

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৩, ০৮:৫৯ পিএম

চার ইউনিয়নে দলীয় চেয়ারম্যানদের ব্যর্থতায় এমপির জনপ্রিয়তায় ধস
Swapno

 

# সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ চেয়ারম্যানরা
# মাদক, সন্ত্রাস, ভূমি দস্যুতার ভয়াবহ রূপ লাভ

 

 

ফতুল্লা থানার চারটি ইউনিয়নে দলীয় চেয়ারম্যানদের তৎপরতায় সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে বলে মনে করেন এসব ইউনিয়নের জনগণ। এই চারটি ইউনিয়ন হলো কাশীপুর, বক্তাবলী, এনায়েতনগর এবং ফতুল্লা। আর এই ইউনিয়ন গুলোর চেয়ারম্যানরা হলেন কাশীপুরে সাইফ উল্লাহ বাদল, বক্তাবলীতে শওকত আলী, এনায়েতনগরে আসাদুজ্জামান এবং ফতুল্লা ইউনিয়নে লুৎফর রহমান স্বপন।

 

এসব ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা মনে করেন এই চেয়ারম্যানরা সঠিক ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেন নাই। তাদের কাছে গিয়ে ন্যায় বিচার পান নাই অনেকে। এসব ইউনিয়নে যে উন্নয়ন হয়েছে তাও ভালো উন্নয়ন হয় নাই। কোনো পরিকল্পিত উন্নয়ন হয় নাই। বেশির ভাগে এলাকায় রাস্তাঘাট আর ড্রেনের যে উন্নয়ন হয়েছে সেগুলো টেকসই এবং মজবুত হয় নাই। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। আর সবচেয়ে বড় যেই সমস্যা সেটা হলো ভূমি দস্যুতা এবং সন্ত্রাস দমনে চেয়ারম্যানরা কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন নাই।

 

এ বিষয়ে জানতে কাশীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা মনে করেন সাইফ উল্লাহ বাদল নিজেই ভূমি দস্যুতার সাথে জড়িত। কাশীপুর ইউনিয়নে তার লোকদের টাকা না দিয়ে কেউ জমি বিক্রি করতে পারেন না। তার কাছে ভূমি সংক্রন্ত কোনো বিচার নিয়ে গেলেও সেই বিচারের রায় যায় ভূমি দস্যুদের পক্ষে। তার কাছে বেশির ভাগে মানুষ ন্যায় বিচার পান না। এছাড়া গোটা কাশীপুর জুড়ে সন্ত্রাসীদের একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে। এই নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রন সাইফ উল্লাহ বাদলের হাতে।

 

যার ফলে সাইফ উল্লাহ বাদলের ভালোমন্দ সকল কাজের দায়ভার গিয়ে বর্তাচ্ছে স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানের উপর। কারন তিনি শামীম ওসমানের বড় ভাই হিসাবে পরিচিত। শামীম ওসমান কাশীপুর ইউনিয়নকে তার হাতে তুলে দিয়েছেন। তাই এই ইউনিয়নে কোনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে শামীম ওসমান জিততে পারবেন না বলেই মনে করেন ওই এলাকার সাধারণ মানুষ। ভোটের রাজনীতিতে অবশ্যই সাইফ উল্লাহ বাদল এবং তার সহযোগীদের সকল কর্মকান্ডের প্রভাব পরবে বলে এলাকাবাসী জানান।

 

বক্তাবলী ইউনিয়নেও একই কথা প্রযোজ্য। ওই এলাকার জনগনও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত বলে জানিয়েছে বক্তাবলীবাসী। বিশেষ করে জমিজমা সংক্রান্ত বিচার আচার নিয়ে চেয়ারম্যান শওকত আলীর কাছে গেলে তিনি কোনো বিচারই করেন না। এছাড়া এলাকার গ্রামগুলিতে সন্ত্রাসের এবং মাদকের বিস্তার ঘটেছে বলে জানিয়েছেন বক্তাবলীর বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। তাই গ্রামগুলিতে মারামারি, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং এর তৎপরতা আশঙ্কাজনক ভাবে বিস্তার লাভ করেছে।

 

এতে সাধারণ নিরীহ মানুষ একেবারে অসহায় হয়ে পরেছেন। কিন্তু চেয়ারম্যান শওকত আলী কখনোই এসব বিষয়ে শক্ত কোনো পদক্ষেপ নেন না। কেউ বিচার দিতে গেলে বিচারও করেন না। ফলে চেয়ারম্যানের কাছে চরম অবহেলার শিকার হচ্ছে গ্রামগুলোর নিরীহ সাধারন মানুষ। তাদের অভিযোগ চেয়ারম্যান কেবল নিজের এবং আত্মীয়স্বজনের ভাগ্যোন্নয়নে ব্যস্ত রয়েছেন। স্থানীয় এমপি একেএম শামীম ওসমান তাকেও বড় ভাই হিসাবে মানেন।

 

তাই বক্তবলীর সামাজিক অবস্থা নিয়ে এমপি কোনো খবরই রাখেন না। যার ফলে এই ইউনিয়নেও এমপি শামীম ওসমানের জনপ্রিয়তা আরো কমেছে। এছাড়া বক্তাবলী ফেরী ঘাট দিয়ে শামীম ওসমান যে একটি ব্রীজ নির্মান করার কথা বলেছিলেন তারও কোনো খবর নেই। এতে ওই এলাকার জনগনের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাই নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু হয় এবং সেই নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশ নেয় তাহলে শামীম ওসমানের পরাজয় এবার অবধারিত বলেই মনে করেন বক্তাবলীর সাধারণ মানুষ।

 

অপদিকে এনায়েতনগর এবং ফতুল্লায়ও একই অবস্থা বিরাজ করছে। এই দুটি ইউনিয়নেও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান এবং চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপনের কোনো আগ্রহ নেই বা ভূমিকা নেই। ফলে ইউনিয়ন দুটিতে ভেঙ্গে পরেছে সামাজিক ব্যবস্থা। এছাড়া সন্ত্রাস আর ভূমি দস্যুতা ভয়াবহ রুপ লাভ করেছে। ইউনিয়ন দুটির বিভিন্ন পাড়া মহল্লার সন্ত্রাসীরা দুই চেয়ারম্যানকে মোটেও পাত্তা দেন না। উল্টো চেয়ারম্যানরাই সন্ত্রাসীদের ভয় পান বলে জানান বিভিন্ন এলাকার মানুষ।

 

ভূমি দস্যুদের টাকা না দিয়ে কেউ কোনো জমি বিক্রি করতে পারে না। এছাড়া অনেকের জমিতেই সন্ত্রাসীরা সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়। কেউ বাড়ি নির্মান করতে চাইলেও চাঁদা দিতে হয় এবং ইট বালু সিমেন্ট কিনতে হয় সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে। এছাড়া দুটি ইউনিয়নের বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। ফতুল্লা ইউনিয়নে এই সমস্যা এখন ভয়াবহ। তাই এসব ব্যর্থতার কারনে ইউনিয়ন দুটির বাসিন্দারা মনে করেন এমপি শামীম ওসমানের কারনেই চেয়ারম্যানরা ব্যর্থ হচ্ছেন।

 

কারণ তাদেরকে শামীম ওসমান যেভাবে চালান তারা সেভাবেই চলেন। এসব ইউনিয়নেও শামীম ওসমানের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে বলে জানান এলাকার ভোটাররা। তাই আগামী নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু হয় এবং অংশগ্রহনমূলক হয় তাহলে যে পরিস্থিতি কি হবে সেটা সহজেই বুঝা যাচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে শামীম ওসমানের হেরে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে ভোটাররা জানান। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন