Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

শামীম ওসমান একজন ব্যর্থ এমপি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৩, ০৯:১৯ পিএম

শামীম ওসমান একজন ব্যর্থ এমপি
Swapno

 

# ভেলকিবাজি দেখাচ্ছে, কালো পানিতে নেমে পানি উধাও করে দিয়েছে : এড. মাসুম
# জেলায় জেলায় ত্বকী হত্যা বিচারের দাবীতে সমাবেশ ডাকবো : হালিম আজাদ
# মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে বলে মানুষকে ধোকা দিয়ে চলেছে : রফিউর রাব্বি

 

 

তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১২৪ মাস উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট আলী আহাম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তন প্রাঙ্গণে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচির আয়োজন করে। সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের যুগ্ম আহবায়ক মানবাধিকার কর্মী ও এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, ১২৪ মাস হলো ত্বকী হত্যাকা সংগঠিত হয়েছে, অথচ ত্বকী হত্যাকারীর বিচারতো হয়নি তার পাশাপাশি ত্বকী হত্যাকারীর যে অভিযোগ পত্র সেই অভিযোগ পত্র আজকে পর্যন্ত আদালতে দাখিল হয়নি।

 

আমরা সুস্পষ্ট করে বলছি আমরা ত্বকী হত্যাকান্ডের বিচার চাই। আমাদের শ্লোগান একটাই ত্বকী হত্যাকান্ডের বিচার করতেই হবে। এমনকি ত্বকী হত্যার বিচার যারা করবে না তাদেরকে ও আদালতে শাস্তি পেতে হবে। এই নারায়ণগঞ্জে ত্বকী মঞ্চের জন্ম হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সকল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে, শিশু হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে অতিতে যারা হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। ইতিমধ্যে যারা হত্যাকান্ডগুলো ঘটিয়েছে তাদের নাম বলেছে বক্তাগণ, তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন অ্যাকশন নেওয়া হয়নি, তাদের বিচার কাজ ও শেষ হয়নি।

 

যেটার একটাই মাত্র কারণ ওসমান পরিবার। নারায়ণগঞ্জে জমিদারী রাজত্ব নিয়ে এই ওসমান পরিবার। এই শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জে দাবিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, আমরা ত্বকী হত্যার বিচার চাই এটা আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, অনুনয় করেছি, বিনিনয় করেছি, অনেক আকুতি, মিনতি করেছি। তাই আজকে ও প্রধানমন্ত্রীকে বলি আপনি যদি ত্বকী হত্যার বিচার না করেন। আপনি কিন্তু সারা জীবন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। আমি বলতে চাই এই ত্বকী হত্যার বিচার হবেই তার পাশাপাশি আপনাদের ও বিচার হবে কারণ এই ত্বকীসহ অন্যান্য হত্যাকান্ডের বিচার না হওয়ার কারণে।

 

তিনি আরো বলেন, আজকে শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জে কি যে ভেলকিবাজি দেখাচ্ছে। গতকাল উনি ফতুল্লায় কালো পানি উঠিয়ে ফেলেছে। পীর আউলিয়ার মতো। ফতুল্লায় উনি কালো পানিতে নামলেন আর পানি উধাও হয়ে গেছে। ফতুল্লার মানুষের এখন রাস্তাঘাট হয়তো পরিষ্কার হয়ে গেছে। ফতুল্লার মানুষ হয়তো এখন পানি ছাড়া ধুলোর মতো পায়ে হেঁটে চলে পানি এখন আর রাস্তায় নাই। শামীম ওসমান কত বড় একজন বুজুর্গ ব্যক্তি হয়ে গেছেন। শামীম ওসমান আপনি একজন ব্যর্থ এমপি, আপনি একজন ব্যর্থ লোক, আপনি একজন খুনের নির্দেশ দাতা।

 

আপনি অনেক খুনের সাথে সম্পৃক্ত। শামীম ওসমান প্রধানমন্ত্রীর আনুকুল্য পেয়েছেন। সাংসদে তিনি ওসমান পরিবারকে দেখবেন বলে। সেই শামীম ওসমান আজকাল যা করে বেড়ায় এটা হাসির কাণ্ড ছাড়া কিছু না। রাজনৈতিক ভন্ডামি তার ভিতরে প্রচন্ড এখন আর বেশিদিন বাকি নেই তার সময় ঘনিয়ে এসেছে। তার রাজনৈতিক জীবন শেষ হওয়ার পথে। কিন্তু আমরা শেষ হবো না, আমরা ত্বকী হত্যার বিচার চেয়েই যাবো আর যে ব্যবস্থা করলে তা হবে সেই ব্যবস্থাই করবো।

 

এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম আরো বলেন, শামীম ওসমান আপনি আজকে বলেন ফতুল্লাকে সিটি কার্পোরেশন একটি ব্যক্তির স্বার্থে করা হচ্ছে। আমি বলি সিটি কর্পোরেশন ফতুল্লাকে করতে হবে এটা নারায়ণগঞ্জ জেলার দাবী। এই কুতুবপুর, এনায়েত নগরকে পৌরসভা করতে হবে। আপনি বলেন শামীম ওসমান যে ফতুল্লাতে উন্নয়ন করেছেন উন্নয়ন মানে কী কালো পানি, উন্নয়ন মানে অনেক যন্ত্রণা, উন্নয়ন মানে আপনি একজন সন্ত্রাসীদের গডফাদার এই কথা আজকে সুস্পষ্ট হয়ে গেছেন।

 

আমি আবারো একটা দাবি করতে চাই, ত্বকী হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তো আমরা এই রাজপথ ছাড়ছি না। এখানে আমরা যারা উপস্থিত আছি আমরা সবাই থাকবো। এখান থেকে হয়তো কেউ নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকবে না। আমি একটা কথা সবার উদ্দেশ্য বলতে চাই শামীম ওসমান যদি বড় আওয়ামী লীগ নেতার সন্তান হয়ে থাকে। তাহলে এই রফিউর রাব্বি কে, রফিউর রাব্বির বাবা কে ছিলেন, এই নারায়ণগঞ্জে বড় আওয়ামী লীগ নেত রফিউর রাব্বির বাবা ডা. শাহনেওয়াজ হোসেন উনি ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার ছেলের সন্তানকে হত্যা করার পরে আজকে প্রায় ১১ বছর হয়ে গেলো কিন্তু বিচার হলো না।

 

তাহলে কি এই সন্ত্রাসীদের লালন পালন করার জন্য আপনাকে এখানে বসানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী। আমরা বলতে চাই আমাদের লড়াই কিন্তু রাজনৈতিক লড়াই না। আমাদের লড়াই হচ্ছে ত্বকী হত্যার বিচার, আমাদের লড়াই হচ্ছে বুলু, চঞ্চল আরো যেসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে প্রতিটি হত্যাকান্ডের বিচার আমরা চাই। প্রধানমন্ত্রী দিন একদিনে শেষ হয়ে যায় না। দিন একদিন পরিবর্তন হবে। আপনি শুনে রাখুন আপনি যদি না ও নির্দেশ দেন তারপরে ও ত্বকী হত্যার বিচার হবেই। আমি আবারো শেষে বলতে চাই ত্বকী হত্যার বিচার চাই।

 

সংগঠনের সভাপতি ভবানী শংকর রায়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নিহত ত্বকীর বাবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি রথীন চক্রবর্তী, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব কবি হালিম আজাদ, দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক এড. মাহাবুবুর রহমান মাসুম, সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি এড. প্রদীপ ঘোষ বাবু, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, ন্যাপের জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. আওলাদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের জেলা সভাপতি প্রবীর সরকার।

 

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব কবি ও সাংবাদিক হালিম আজাদ বলেন, ত্বকী হত্যার ১২৪ মাস অতিক্রম হয়ে গেল বিষয়ের সাথে লক্ষ্য করলাম। একটি হত্যাকান্ডের বিচার করতে যদি ১২৪ মাস পেরিয়ে যায়। তারপরে ও যারা এই হত্যাকান্ডের বিচার আটকে রেখেছে তাদের অচিরেই বোধদয় হবেন। আমাদের এই সন্তানের বিচার যতদিন পর্যন্ত না হবে ততদিন পর্যন্ত আমরা এই প্রতিবাদ সমাবেশ করেই যাবো। আর হত্যাকারীদেরকে গ্রেফতার করিয়ে বিচারের আওতায় আনার জন্য এই দাবি অবহৃত রাখবো।

 

আর আপনারা জানেন সরকারি দলের একজন এমপি সেই এমপির নাম হলো শামীম ওসমান। শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমান তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীকে হত্যা করেছে। তিনি আরো বলেন, র‌্যাব তদন্ত করে তারা এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, এটা আমাদের কোন বক্তব্যে নয়। ত্বকীকে হত্যার পরে র‌্যাব তদন্ত করে যে খুনিদের নাম প্রকাশ করেছিল। সেই খুনিরা বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে ঘুরে বেড়াচ্ছে নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানসহ তার সাথের হত্যাকারী যারা তারা এই নারায়ণগঞ্জে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

 

গতকাল ও এই কুখ্যাত খুনি আজমেরী ওসমান একটি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। আমাদের বক্তব্য হলো একটি সন্তানকে তিনি হত্যা করলো তার সাথীদের নিয়ে এবং সেই কুখ্যাত হত্যাকারী রাজপথে অনুষ্ঠান করে, অথচ এই দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে না। প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই দীর্ঘকাল ধরে ক্ষমতায় আছেন। বিভিন্ন হত্যাকান্ডের জন্য আপনাদেরকে দায়ী করা হয়, আমাদের এই সন্তানকে আপনাদের একজন এমপির ভাতিজা তার দলবল নিয়ে তাকে হত্যা করেছে।

 

এই কথা আমরা বার বার বলে এসেছি, আর র‌্যাব তদন্ত করে তাদের নাম ও প্রকাশ করেছে তারপর ও আপনাদের হাত-পা কেঁপে উঠে না। তিনি আরো বলেন, কি এমন ক্ষমতাদার হয়ে গেছেন যে ক্ষমতায় থাকলেই হত্যা করে পাড় পাওয়া যায়, এটার কোন কুল কিনারা হবে না। আমাদের বিশ্বাস ত্বকী হত্যার বিচার একদিন হবে। এবং এই বাংলাদেশেই হবে, তখন বাংলাদেশের মানুষ বলবে কেন এতোকাল এই খুনীদের লালন-পালন করা হয়েছে।

 

এই নারায়ণগঞ্জেই ত্বকী হত্যাকারীরা প্রতি নিয়মিত ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে গ্রেফতার করছে না। আমরা খুব শান্তি প্রিয়ভাবে প্রতিবাদ করে এই হত্যাকারীদের বিচার দাবী করে আসছি। আমরা এমন কোন উশৃঙ্খল কাজ আমরা করেনি। যদি আমাদেরকে বাধ্য করা হয়। তাহলে দেশের প্রতিটি জেলায় জেলায় ত্বকী হত্যা বিচারের দাবীতে সমাবেশ ডাকবো। আর জানিয়ে দিবো এই নাসিম ওসমানের কুখ্যাত ছেলে আমার সন্তানকে হত্যা করেছে।

 

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক ও নিহত ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি বলেন, সরকার তাদের শাসন দুঃশাসন গণবিরোধী সকল কর্মকান্ডকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে জাহির করছে। নাগরিকের বিচার পাওয়ার অধিকার, স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার, ভোট দেয়ার অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার হরণকে তাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে প্রচার করছে। তারা রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যে স্বপ্ন নিয়ে মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছে তা তারা ভূলুণ্ঠিত করেছে।

 

বৈষম্য থেকে মুক্তির জন্য যুদ্ধ করেছে অথচ স্বাধীন দেশে বৈষম্য আরও বেড়েছে। গণমানুষের আস্থা হাড়িয়ে দুর্বৃত্ত আর পেশী শক্তির উপর নির্ভরশীল হয়েছে সরকার। আর সে জন্যই ত্বকীর ঘাতকরা আইনের আওতায় আসে না। প্রশাসন তাদের নিরাপত্তা দেয়। সরকার দুর্বৃৃত্ত রক্ষার রাজনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। একেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে বলে মানুষকে ধোকা দিয়ে চলেছে। তিনি ত্বকী সহ সাগর-রুনী, তনু ও নারায়ণগঞ্জের আশিক, চঞ্চল, মিঠু ও ভুলু হত্যার বিচার দাবি করেন।

 

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। এর দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।

 

৫ মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চারসেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবেন। কিন্তু সে অভিযোগপত্র আজও আদালতে পেশ করা হয় নাই। ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন