ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়নগুলোতে চরম উদাসীনতা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৩, ০৯:২৪ পিএম
# প্রতিটি ওয়ার্ডে মশার ঔষধ নিয়মিত স্প্রে করা হচ্ছে : শওকত আলী
ডেঙ্গু শব্দটি বর্তমানে টক অব দ্যা কান্ট্রি। প্রতিদিনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সারাদেশে এক প্রকার আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এই ডেঙ্গু। নারায়নগঞ্জ এর অবস্থাও এর ব্যতিক্রম নয়। বরং অন্যন্য যে কোনো জেলার চেয়ে নারায়নগঞ্জে এর ভয়াবহতা একটু বেশিই। তথ্য মতে, নারায়নগঞ্জ জেলা শিল্পখ্যাত হওয়ায় এখানে দেশের বিভন্ন অঞ্চলের মানুষ জীবিকার সন্ধ্যানে এ জেলায় বসবাস করে। এতে করে অতি ঘনবসতিপূর্ন অঞ্চলে পরিনত হয়েছে এই শহর।
ফলে একরকম বিশৃঙ্খল ও বিক্ষিপ্তভাবে চলাফেরা করে এ জনপদের মানুষ। ঘনবসতিপূর্ন হওয়ায় এডিস মশার বিচরনে অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি হয় এখানে। এছাড়াও এ শহরের অধিকাংশ ড্রেনে স্ল্যাব নেই। ফলে সাধারণ মানুষ অসচেতনভাবে বিভিন্নধরনের ময়লা আবর্জনা ও অপ্রয়োজনীয় বস্তু ড্রেনে ফেলে দেয়। এছাড়াও বাসাবাড়ির আশেপাশে ময়লা আবর্জনা জমিয়ে রাখে। যা এডিস মশা জন্মাতে সহায়ক। এছাড়াও ডাস্টবিনের অপ্রতুল্যতার কারনে মানুষ যেখানে সেখানে ময়লা ফেলছে যা আরেকটি বড় কারন।
প্রতিরোধে কার্যকর গুরুত্ব না দেওয়ায় গোটা দেশ জুড়ে ডেঙ্গুর প্রভাব এতটা বেড়েছে বলে জানান জনস্বাস্থ্যবিদরা। পরিস্থিতির ধারাবাহিক অবনতি হওয়ায় সামনে আক্রান্তের সংখ্যা আরো কয়েকগুন বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তথ্য মতে, বছরেরর জুলাই মাসের শেষ কিংবা আগষ্ট মাসের শুরুতে ডেঙ্গুর সংক্রমন ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। তবে এ বছর এ চিত্র ভিন্ন। এবার জুলাই এর শুরু থেকেই পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। আগষ্টের দিকে পরিস্থিতির চরম অবনতি হবে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ৯ জুলাই (রোববার) একদিনেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৩৬ জন। যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভর্তির রেকর্ড। ঐ একই দিনে হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৬ জন। মৃত্যুর দিক থেকে ও এটা একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যু। অর্থাৎ এ সমস্যা সারাদেশে মহামারি আকার ধারণ করছে ধীরে ধীরে। তবে বর্তমান সময়ের এই আলোচিত মরণ ব্যাধি এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রনে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে।
নেই তাদের কোনো কার্যক্রম। বিভিন্ন ইউনিয়নগুলোর এলাকাবাসীর সাথে এ ব্যাপারে কথা বললে তারা জানান, টিভিতে দেখি বিভিন্ন জায়গায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে মশার ঔষধ স্প্রে করছে। কিন্তু আমাদের জনপ্রতিনিধিরা হয়তো আমাদের নিয়ে ভাবে না, তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রনে কিছুই করছে না। অনেকে এ নিয়ে চাপা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে আমার ফ্যামিলিতে এবং আত্মীয়দের মধ্যে অনেকেই এ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে। তবে এ নিয়ে যেনো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার অন্তর্গত কয়েকটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্যদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ইউনিয়ন পরিষদ কতৃক কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে চরম উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদগুলো। এ উদাসীনতা শুধু ফতুল্লায় নয়। এমন চিত্র গোটা নারায়ণগঞ্জের।
এ ব্যাপারে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শওকত আলী যুগের চিন্তাকে জানান, ডেঙ্গুর ভয়াবহত বিবেচনায় উপজেলা কর্তৃক মশার ঔষধ দেওয়ার স্প্রে মেশিন দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডের মেম্বারদের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে এ ঔষধ স্প্রে করার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়াও এ সংক্রান্ত সচেতনা সৃষ্টিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছি।
এ ব্যাপারে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু বলেন, ডেঙ্গু এতটা ব্যাপক পরিসরে বৃদ্ধি পেয়েছে আমি জানিই না। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুর ব্যাপারে এমন কোনো কিছু শুনিনি। তবে সচেতন মহল বলছে, অতিদ্রুত এর লাগাম টেনে ধরতে না পারলে এর ফলাফল হবে ভয়াবহ। তাই কাল বিলম্ব না করে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ জনপ্রতিনিধিদের। এস.এ/জেসি


