শামীম ওসমানের চার ইউনিয়নে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৩, ০৬:৫৭ পিএম
# সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা না হওয়ায় সরকারী কোনো বরাদ্দ নেই
# ইউনিয়নগুলিতে মশক নিধনের জন্য কোন লোকবলও নেই
নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের ফতুল্লা থানা এলাকা থেকেই ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটছে। দুই কারণে ফতুল্লা থানার চারটি ইউনিয়নে ডেঙ্গু মহামারির রূপ লাভ করতে পারে বলে ওইসব এলাকার মানুষ মনে করেন। কারণ, ১) এসব ইউনিয়নে মশক নিধনের কোনো ব্যবস্থা নেই। ২) ওইসব এলাকায় বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তথা পানি জমে থাকার কারনে মশার বংশ বিস্তারের সুবিধা রয়েছে। এসব ইউনিয়ন হলো: কাশীপুর, এনায়েতনগর, ফতুল্লা এবং কুতুবপুর।
এই চারটি ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব ইউনিয়নে মশক নিধনের কোনো ব্যবস্থাই নেই। যার ফলে মশার বংশ বিস্তার লাভ করে একেবারে সহজে। এছাড়া জলাবদ্ধতার কারনে অনেক জায়গায়ই বৃষ্টির স্বচ্ছ পানি জমে থাকে। যার ফলে ডেঙ্গু মশারা সহজেই বংশ বিস্তার করতে পারে। এতে এসব ইউনিয়নের মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। শহরের হাসপাতালগুলোতে যতো ডেঙ্গু রোগী আসে তার অধিকাংশই আসে এই চারটি ইউনিয়ন এলাকা থেকে।
কারণ ফতুল্লা এখন শহর এলাকা হলেও এগুলো এখনো গ্রাম এলাকার মর্যাদায় ইউনিয়ন পরিষদ হওয়ায় সরকারী ভাবে মশক নিধনের জন্য কোনো বরাদ্ধ থাকে না। নেই কোনো লোকবলও। আর এসব ইউনিয়নের সকল প্রকারের দায়দায়িত্ব স্থানীয় এমপি একেএম শামীম ওসমান নিজের হাতে রেখেছেন। তিনি তার পছন্দের চারজন চেয়ারম্যানকে বসিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এই ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানদের কিছু করারও নেই। কারন ইউনিয়ন পরিষদগুলিতে মশক নিধনের কোনো কর্মী নিয়োগ দেয়া হয় না। ওষুধও সরবরাহ করা হয় না।
এক কথায় ইউনিয়ন পরিষদে কিছু রাস্তাঘাটের বরাদ্ধ ছাড়া আর কোনো বরাদ্ধ থাকে না। তাই ফতুল্লা থানা এলাকাকে আরো অনেক আগেই সিটি করপোরেশনের আওতায় নেয়া উচিৎ ছিলো বলে অনেকে মনে করেন। কিন্তু শামীম ওসমানের বাঁধার কারনে মেয়র আইভী বার বার চেষ্টা করেও নিতে পারেন নি। এতে ফতুল্লার এই চারটি ইউনিয়নে ব্যাপক ভাবে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটছে বলে জানা গেছে।
বিপরীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় মশার উপদ্রব তেমন একটা নেই বললেই চলে। মশক নিধনে প্রতিনিয়ত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। যার ফলে সিটি করপোরেশন এলাকায় নিয়ন্ত্রনে রয়েছে মশার উৎপাত এবং ডেঙ্গুর বিস্তার। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে এ সময়ে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা বিশেষ নজর রাখছেন। তাই সিটি করপোরেশন এলাকায় এডিস মশার বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে নারায়ণগঞ্জের সরকারী বেসরকারী হাসপাতালগুলি সব সিটি করপোরেশন তথা নারায়ণগঞ্জ শহরে থাকায় ফতুল্লার রোগীরা চিকিৎসার জন্য এখানেই আসছে। তাই ডেঙ্গু রোগী ধরা পরলেই সিটি করপোরেশনের উপর দায় চাঁপানো হয়। কারণ হাসপাতালগুলো সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত। কিন্তু বাস্তবতা হলো ফতুল্লার রোগীই বেশি আসছে হাসপাতাল গুলিতে। এস.এ/জেসি


