নাসিকে অন্তর্ভুক্তকরণ নিয়ে ফতুল্লার জনপ্রতিনিধিদের বিভেদ স্পষ্ট
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৩, ০৮:৩২ পিএম
# ফতুল্লাকে সিটিতে চায় ফতুল্লাবাসী কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের ভিন্ন সুর
# ট্যাক্স অনেক বেড়ে যাবে মানুষের কষ্ট হবে : সাইফ উল্লাহ বাদল
ফতুল্লাকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভূক্ত করার পক্ষে ও বিপক্ষে না যুক্তি তর্কে এ বিষয়টি এখন টক অব দ্যা টাউন। ফতুল্লা থানার অন্তর্গত চারটি গুরুত্বপূর্ন ইউনিয়ন ফতুল্লা, এনায়েতনগর, কুতুবপুর ও কাশিপুর ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনে সংযুক্ত করার দাবি দিন দিন জোড়ালো হচ্ছে। একদিকে সিটি মেয়র আইভির অভিন্ন সুরে সুর মিলিয়ে নারায়নগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনও চাচ্ছেন ফতুল্লাকে সিটির অন্তর্ভূক্ত করা হোক।
যুগের চিন্তার সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ যে বাজেট পায় তা দিয়ে ফতুল্লার প্রয়োজনীয় ও যথাযথ উন্নয়ন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি আরোও বলেন, আমি মাত্র ৫ বছর এমপি ছিলাম। তখন আমি সিদ্ধিরগঞ্জকে পৌরসভা করে গিয়েছি। যার ফলে পরবর্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জকে সিটিতে নেওয়া বেশ সহজ হয়েছে।
এখন সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লার সামগ্রিক অবস্থার পার্থক্য দেখলেই বোঝা যায় ফতুল্লার সিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা কতটা জরুরি। তিনি এমপি নির্বাচিত হলে প্রথমেই ফতুল্লাকে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভূক্ত করার আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।
অন্যদিকে ফতুল্লা নারায়নগঞ্জ-৪ এর সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের আওতাধীন। তিনি স্পষ্ট ফতুল্লাকে সিটিতে অন্তর্ভূক্তির ব্যাপারে নারাজ। ফতুল্লায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষনে গিয়ে তিনি বলেন অনেকে চায় ফতুল্লাকে সিটিতে নিতে। কিন্তু ফতুল্লায় যে উন্নয়ন হয়েছে তা আর কোথাও হয়নি। অর্থাৎ শামিম ওসমান ফতুল্লাকে সিটিতে অন্তর্ভূক্তির পক্ষে নয়। শুধু শামীম ওসমান নয়, তার অনুসারীদেরও অভিন্ন সুর।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি ও নারায়নগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী বলেন, ফতুল্লাকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভূক্ত করার পূর্বে পৌরসভায় পরিণত করতে হবে। তারপর সিটিতে নেওয়ার প্রশ্ন উঠবে। পৌরসভায় রুপান্তরিত হওয়ার পূর্বেই সিটিতে অন্তর্ভূক্তির প্রশ্ন অযৌক্তিক।
তিনি আরোও বলেন, ফতুল্লায় বিগত বছরগুলোতে ব্যাপক হারে উন্নয়ন হয়েছে। এখনো অনেক উন্নয়ন প্রকল্প চলমান। সেগুলো সমাপ্ত হলে ফতুল্লার উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে। শামীম ওসমানের হাত ধরেই ভবিষ্যতেও ফতুল্লার উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সুতরাং সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভূক্তির প্রয়োজন দেখছি না।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইফ উল্লাহ বাদলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে ফতুল্লা যেভাবে ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন রয়েছে সেভাবেই থাকুক এটাই চাই কারণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন হলে ট্যাক্স অনেক বেড়ে যাবে যা বহন করা কষ্টকর হয়ে পড়বে এই জনপদের মানুষদের।
তিনি আরো বলেন, ফতুল্লায় শুধু জলাবদ্ধতার সমস্যাটাই রয়েছে। অনেক টাকা খরচ করেও এর সমাধান হচ্ছে না। তবে খুব শীঘ্রই এই সমস্যারও সমাধান হয়ে যাবে। জনগণ চায় ফতুল্লা সিটিতে যাক এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই কথা আসলে সঠিক না। কারন সিটিতে গেলে খরচ বাড়বে। তবে সব এলাকায়ই কিছু কিছু দালাল অসাধু লোক রয়েছে তারা হয়তো এগুলো বলতে পারে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা কৃষকলীগের সভাপতি এম এ হানিফ বলেন, আপাতত চিন্তাভাবনা ফতুল্লা সিটিতে না যাক। তবে এবার নির্বাচনে যদি আমাদের প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় আসে তবে এমপি মহোদয় সিদ্ধান্ত নিবেন ফতুল্লা পৌরসভা হবে নাকি সরাসরি সিটিতে যাবে। তবে জনগন ফতুল্লাকে সিটিতে চায় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাস্তবতা আসলে সম্পূর্ন ভিন্ন।
আমরাও চাই উন্নয়ন হউক, এমপি মহোদয়ও আপ্রান চেষ্টা করছেন উন্নয়ন আরো গতিশীল করতে যেনো জনগনের দুর্ভোগ কমে যায়। ডিএনডি প্রজেক্টের কাজ শেষ হলেই দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে যাবে। তখন আর কেউ সিটিতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করবে না। ফতুল্লা যেভাবে আছে সেভাবেই থাক।
এ বিষয়ে ফতুল্লা ও এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদদ্বয়ের চেয়ারম্যান এর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও তাদের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা যায় উভয়েই শামীম ওসমান এর সাথে সমমনভাবাপন্ন। তারাও সিটিতে অন্তর্ভূক্তির ব্যাপারে আগ্রহী নয়। তবে ফতুল্লার তরুন, যুবক, প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ চায় ফতুল্লাকে কালবিলম্ব না করে সিটি কর্পোরেশন কিংবা পৌরসভায় উন্নিত করা হোক।
কেননা তাদের ভাষ্যমতে বিগত বছরগুলোতে ফতুল্লায় তেমন অর্থে কোনো উন্নয়ন হয়নি। বরং জলাবদ্ধতার কবলে পরে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে এ জনপদের মানুষদের। ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত থাকা মানে হচ্ছে মফস্বল প্রকৃতির সেবা পাওয়া। কিন্তু ফতুল্লা শিল্প অধ্যুষিত এলাকা।
এখানে সরকারি বেসরকারি ও সায়ত্বশাসিত সব গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বড় বড় শিল্প কারখানা অবস্থিত। এ অঞ্চলে জনসমাগম অত্যন্ত বেশি। মফস্বলের সেবা কোনো ভাবেই ফতুল্লার সাথে যায় না। ফতুল্লায় সকল নাগরিক সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করে বাসযোগ্য জনপদে পরিণত করতে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভূক্তির কোনো বিকল্প নেই বলে জানান তারা।
তবে কেউ কেউ বলছে সিটিতে অন্তর্ভূক্ত করলে অনেক টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ দিতে হবে। ফতুল্লার দরিদ্র জনগোষ্ঠী তা দিতে পারবে না। সিটির আওতায় না এনে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক সেবার মান বাড়ানো হোক। এস.এ/জেসি


