ফতুল্লায় এক যুগের জলাবদ্ধতা এমপির নির্দেশনায় সাময়িক সমাধান
আরিফ হোসেন
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৩, ০২:৪৬ পিএম
দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ফতুল্লা পৌষা পুকুর পাড়, টাগারপার, ইসদাইর, মর্ডান হাউজ সহ ফতুল্লা ইউনিয়নের আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকা বছরের অধিকাংশ সময়ই পানিতে ডুবে থাকতো। ডিএনডির আওতায় না হওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা নিরসনের কোন উপায় ছিল না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও এই জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে বারবারই নিরুপায় ছিলেন।
তবে এ জলাবদ্ধতা নিরসনে এর আগে বেশ কয়েকবার পাম্প বসানো হলেও তার স্থায়িত্ব ছিল না তাই জলাবদ্ধতা নিয়েই এই ফতুল্লা এলাকাবাসী দুর্ভোগ নিয়েই বছরের পর বছর এই এলাকার বাসিন্দারা বসবাস করে যাচ্ছে। জানা যায়, গত ২ জুলাই ডিএনডি প্রকল্প এলাকার জলাবদ্ধতার পানি দ্রুত অপসারণ করা না হলে ময়লা পানিতে নামার কথা দিয়েছিলেন ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।
অবশেষে সেই কথা রেখেছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার (৭ জুলাই) বিকেলে লালপুর পৌষাপুকুর পাড় এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে সরেজমিনে দেখতে যান শামীম ওসমান। পরিদর্শনকালে ময়লা পানিতে দাঁড়িয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলাপ করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
এসময় শামীম ওসমান বলেন, আমরা ৫৮২ কোটি টাকা আনলাম এই (ডিএনডি এলাকার) পানি নিষ্কাশনের জন্য। প্রায় ৭৮ কিলোমিটার খাল খনন করা হলো। কিন্তু দুঃখের বিষয় ময়লা ফেলার কারণে সেটা আবার ভরে গেলো। খাল খনন করা পর যদি ময়লা ফেলে পানি যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে কী করবো আমরা।
তাই সেদিন চাপ দেওয়ার জন্য আমি নিজে এসেছি। বলেছি, ময়লা পানিতে নেমে যাবো। আমি কোনো এমপি সাহেব না, আমি শামীম। যা পেয়েছি মানুষদের কাছ থেকে, তাতে আমার আর চাওয়ার কিছু নাই।
তিনি বলেন, সেদিন আমি পানিতে নামার ঘোষণার পর পানি মন্ত্রণালয়ের পর্যন্ত টনক নড়েছে। কারণ তারা জানে যে শামীম ওসমান পানিতে নামবে। সঙ্গে সঙ্গে ওনারা জান-প্রাণ দিয়ে কাজ করেছে। আল্লাহর রহমতে ৯০ ভাগ পানি নেমে গেছে। যে পাম্পটি এখানে বসানো হয়েছে, সেটা অনেক দামি পাম্প। প্রকল্পের শুরুর দিকে এটাকে ‘এ’ ক্যাটাগরি হিসেবে রাখা হয়েছে। পরে এটাকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাই, প্রকল্পের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২শ ৯৯ কোটি টাকা।
এ সময় তিনি আরো ঘোষণা দিয়ে যান আগামী বেশ কয়েকদিনের মধ্যেই ফতুল্লাতে আর কোন জলবদ্ধতা থাকবে না। আমরা আপাতত সাময়িক পানি কমানোর ব্যবস্থা করছি পরবর্তীতে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হবে। আর তারপর থেকেই কাজ শুরু করে দেয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের তরুণ যুবক।
নারায়ণগঞ্জ- ৪ আসনে এমপি শামীম ওসমানের নির্দেশনায় অবশেষে শক্তিশালী বেশ কয়েকটি সেচ পাম বসানো হয়েছে। গতকাল ২৪ জুলাই দুপুর ১২ টায় ফতুল্লার লালপুর ও আশেপাশের জলাবদ্ধতা এলাকার পানি নিরসনে সেচ পাম্পের উদ্বোধন করা হয়। উক্ত সেচ পাম্প উদ্বোধনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু চন্দন শীল।
এ সময় জেলা পরিষদেও চেয়ারম্যান বাবু চন্দনশীল বলেন, আপনারা জানেন আমাদের এমপি সাহেব ওসমান আছেন সেখানে বেশ কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনাও করেছে যা ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। সারাদেশে এটা নিয়ে আলোচনায় এসেছে তবে এত কিছুর পরেও তিনি সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়েছেন এবং বার বার বলেছে পানির কি করলা পানির কি করলা।
রীতিমতো এই জলবদ্ধতা নিরাসনে আমাদের এমপি শামীম ওসমান তাগাদার উপরে রেখেছে। যেই দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে এলাকার এমপি শামীম ওসমান সে এলাকার সকল সমস্যার সমাধান হবে এটা আস্থা রাখতে পারেন। বিশেষ করে যে এলাকার এমপি শামীম ওসমান সেখানে কোন সমস্যা থাকতে পারে না। যার প্রমাণ আজকে আপনারা দেখতে পেলেন।
এসময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যার আজ সমাধান হতে যাচ্ছে। যার কৃতিত্ব আমাদের সাংসদ শামীম ওসমান সাহেবের এবং যার কৃতিত্ব আমাদের জেলা পরিষদেও চেয়ারম্যান বাবু চন্দনশীল সাহেবের।
এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, এর আগে ২০ বছর আমরা জেলা পরিষদ থেকে কোনরকম সুযোগ-সুবিধা পাইনি কোন প্রজেক্ট পাইনি। জেলা পরিষদ কি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গএমনকি আমার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যাও জানে না। তবে আমরা অত্যন্ত খুশি আমাদের বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দন শীল দাদা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। আমরা আমাদের এমপি শামীম ওসমান ও বাবু চন্দন শীল দাদার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
এসময় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী বলেন, দীর্ঘদিন এই সমস্যায় ফতুল্লা বাসী জর্জরিত ছিল। সারা বছরই পানির নিচে ডুবে থাকতো এই এলাকাটি। তবে আমাদের এমপি মহোদয়ের নারায়ণগঞ্জের প্রাণ পুরুষ এমপি শামীম ওসমান এই এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
এলাকার জলাবদ্ধতা পরিদর্শন করেছেন এবং সেই পানিতে নেমেছেন এবং তাদের সেই কষ্ট উপলব্ধি করতে পেরে ঘোষণা দিয়ে গেছেন অল্প কিছুদিনের মধ্যে এই পানি থাকবে না। এই কথা সেই কাজ আজকে এই পানি নিরসনের জন্য পাম্প উদ্বোধন করা হলো আরে এটা ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে। আপনাদের কাছে আমার একটাই চাওয়া আপনারা স্বামী ওসমান ভাইকে সবাই একটি করে নৌকায় ভোট দিবেন ইনশাল্লাহ এই ফতুল্লায় জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনে করে দিবেন তিনি।
এ সময় ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের ১ নং কার্যকরী সদস্য আবু মোঃ শরিফুল আলম বলেন, প্রিয় এলাকাবাসী আপনারা হয়তো অবগত আছেন লালপুর, পৌঁষাপুকুরপাড়, টাগার পাড়, ইসদাইর, গাবতলী মডার্ন হাউজিং সহ এই অঞ্চলের জলবদ্ধতা একটা অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অভিশাপটা এই এলাকার মানুষের জন্য আতঙ্ক।
এই এলাকার মানুষ জলবদ্ধতার কারণে মসজিদে যেতে পারে না, বাচ্চারা স্কুল কলেজে যেতে পারে না, জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। কি সমস্যার কারণে এই এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন কষ্ট করে যাচ্ছিল। এই কষ্টের কথা জেনে আমাদের সুযোগ্য এমপি মহোদয় ডিএনডি প্রজেক্ট কে বলেছিল কিন্তু আমরা প্রজেক্ট বাদ পড়েছি।আমরা এখনো জানিনা কেন আমরা ডিএনডি প্রজেক্ট থেকে বাদ পড়লাম।
যাইহোক আমরা যখন টিএনটি প্রজেক্ট বাদ পড়ার পর আমাদের এমপি মহোদয় যখন এসে দেখতেন টাকার মানুষ পানিবন্দি পানির নিচে আবদ্ধ তখনই তিনি পানিতে নামলেন এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দনশীল দাদাকে দায়িত্ব দিলেন এই লালপুর পৌষার পুকুরপাড়, টাগার পার, গাবতলী, জলবদ্ধ মুক্ত করতে হবে তারপর পরের চন্দন শীল মহাদয় সেই উদ্যোগ নেওয়ার ফলে আজকে আমাদের এই অঞ্চলের পাম্প হাউস নির্মাণ হওয়ার ফলে লালপুর, পৌষার পুকুর পাড়, টাগার পার জলাবদ্ধতা মুক্ত হবে ইনশাল্লাহ।
একটা সময় আরো উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ নেতা কাজল চৌধুরী, ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার আউয়াল, ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার মাইনুদ্দিন, ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার বাছেত প্রধান, জাফর, রুহুল আমিন, মাহাবুব, নুরুজ্জামান, উজ্জল চৌধুরী জুয়েল সহ অন্যান্যরা। এন.হুসেইন রনী /জেসি


