# চাষাড়ায় ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডার পাস জরুরি ভাবে প্রয়োজন : ট্রাফিক পুলিশ
# সড়কে আর কত প্রাণ ঝরলে টনক নড়বে জনপ্রতিনিধিদের
বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ব্যবসা ও জনসংখ্যা মধ্যে অন্যতম জেলা হলো নারায়ণগঞ্জ। প্রতিদিন সকাল হতে গভীর রাত পর্যন্ত শহরে ও তার আশেপাশে সড়ক জুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে অসহনীয় যানজট। যার ফলে রাস্তায় রাস্তায় দুর্ভোগের অন্ত নেই মানুষের। সময় মূল্যহীন হয়ে পড়েছে ব্যস্ততম শহরবাসীর কাছে।
তবে ক্ষমতাশীল দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নারায়ণগঞ্জ চার আসনের এমপি শামীম ওসমান ও মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে বহুদিন। তার জন্যই শহরে নানা দুর্ঘটনার পরেও টনক নড়েনি জনপ্রতিনিদের। শহরের চাষাঢ়া একটি ফুটওভার ব্রিজ এর জন্য নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সংগঠন অনেক দিন ধরে মানববন্ধন করলেও টনক নড়েনি জনপ্রতিনিদের। তাই প্রতিফলন হিসাবে ২৪ জুলাই সকালে চাষাড়ায় প্রান হারালেন ফায়ার সার্ভিস এর গাড়ি চালক, রিক্সা চালক ও দুই পথচারী।
শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাড়ায় শিক্ষার্থী, কমর্জীবীসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রতিনিয়ত চলাচল করছে। শহরের ঐহিত্যবাহী সরকারী তোলারাম কলেজ, সরকারী মহিলা কলেজ, নারায়ণগঞ্জ কলেজসহ আশে পাশে কয়েকটি স্কুলের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে প্রতিনিয়তই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হয়।
শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জের অসংখ্য শ্রমিক আশেপাশের কারখানা গুলোতে কর্মরত। তাদেরকেও রাস্তা পার হতে হয় ভয়ে ভয়ে। ট্রাফিক সিগন্যাল থাকলেও বেপরোয়া গাড়ি চালকরা পাল্লা দিয়ে গাড়ি চালানোর প্রতিযোগিতার কারনে হরহামেশাই ঘটছে দূর্ঘটনা। আর তাই এই রুটে চলাচলকারী ভুক্তভোগী পথচারীদের প্রাণের দাবীতে পরিনত হয়েছে চাষাড়া ফুটওভার ব্রিজ।
২০০৩ সাল থেকে এক টানা ২০বছর ক্ষমতায় থাকার পরেও চাষাঢ়া মোড়ে একটি ফুটওভার ব্রিজ নিমার্ণ করেতে পারেনি সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। কিন্তু পৌরসভার আমল থেকে এখনো পর্যন্ত সিটি করর্পোরেশন এর সকল স্থানে উন্নয়নের ছোঁয়া। তবে সিটি করর্পোরেশন ১৩ নং ওয়ার্ড এর আওতাধীন চাষাঢ়া এখানেই ব্যর্থ একটি ব্রিজ নির্মাণ করতে।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ চার আসনের এমপি শামীম ওসমান ১৫ ধরে ক্ষমতায় থাকার পরেও বানাননি একটি ফুটওভার ব্রিজ। প্রতিদিন শহরে চলাচল করে লাখ লাখ মানুষ। শহরে আগের তুলনায় গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় বহুগুন। তবে আগে যেমন ছিলো এখনো ঠিক তেমনি রয়েছে সড়ক। চাষাঢ়ায় বর্তমানে নানা ধরনের মার্কেট ও বিভিন্ন রেষ্টুরেন্ট হওয়াতে গাড়িরগুলো সব রাখা হয় সড়কে যার কারণে আরো সৃষ্টি হয় যানজট।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের একাধিক ব্যক্তি বলেন, চাষাড়া এমন একটি স্থান যেখানে এক মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার সুযোগ নেই কারণ এখানে প্রচুর পরিমানে গাড়ি চলাচল করে তাতে অনেক বেশি পরিমান ট্রাফিক পুলিশকে সিগন্যাল দিতে হয়। না হলে গাড়ির সামনে দিয়ে হঠাৎ করেই পথচারীরা হাঁটা শুরু করেন। তার জন্য যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। তাই আমরা মনে করি চাষাঢ়াতে জরুরি ভাবে একটি ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডার পাস করা প্রয়োজন যাতে করে মানুষ সময় ও জীবন দুইটাই বেঁচে যাবে। এস.এ/জেসি


