Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অব্যবস্থাপনায় এমপির ক্ষোভ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৩, ০৮:৫৫ পিএম

সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অব্যবস্থাপনায় এমপির ক্ষোভ
Swapno

 

# রোগীর উপর রাগ ঝাড়লেন চিকিৎিসকগণ
# কোন অনিয়মের লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব : সিভিল সার্জন

 

 

সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাতের বেলা ইউপি সদস্য নাসির নামের একজন রোগীকে দেখতে যান নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও এলাকা) আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা। এ সময় প্রবেশ মুখে কোন নিরাপত্তা রক্ষী দেখতে পাননি তিনি। ওয়ার্ডের যাওয়ার পথ অন্ধকার ছিল, ওয়ার্ডে গিয়ে কোন ডাক্তার বা নার্স দেখতে পাননি।

 

ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা নার্সদের রুম ছিল আটকানো। তাই তিনি তার লোক দিয়ে নার্সকে ডেকে আনেন এবং পরে ইমারজেন্সীর দায়িত্বে থাকা ডাক্তারকে ডেকে এনে তাদের কাছে হাসপাতালের সার্বিক বিষয় নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি। তবে এই ঘটনার জের ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাবরিনা হকসহ তিন কর্মরত চিকিৎসক দেখতে যাওয়া সেই রোগী নাসিরের উপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন বলে রোগীর পক্ষ হতে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে পেটে ব্যাথার সমস্যা নিয়ে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য মো. নাসির উদ্দিন। তিনি একটি পত্রিকার সংবাদ কর্মী হিসেবে কাজ করেন বলেও জানা যায়। গত সোমবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে লিয়াকত হোসেন খোকা মো. নাসির উদ্দিনের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে যাওয়ার সময় হাসপাতালের তখনকার পরিবেশ নিয়ে বিরক্তি বোধ করেন বলে জানা যায়।

 

সে সময় সেখানে উপস্থিত থাকা নার্স ও ইমারজেন্সীতে থাকা ডাক্তারের নিকট হাসপাতালের এসব বিষয়গুলো নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি। তবে এমপির এই অসন্তুষ্টির বিষয়টি নিয়ে সেখানকার চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নাসির। যার ফলে পরের দিন সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাবরিনা হক, আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. মোশারফ হোসেনসহ তিনজন ডাক্তার সেই রোগীর সাথে হয়রানী সূলভ আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

এর আগে এখানকার ডাক্তারেরা নাসিরকে বিভিন্ন পরীক্ষা বা টেস্ট করানোর পর পুনরায় নারায়ণগঞ্জ পপুলার ডায়গনস্টিক সেন্টার থেকে আরও একটি পরীক্ষা করতে দেন যার রিপোর্ট ৭২ ঘন্টা পর অর্থাৎ মঙ্গলবার বিকালে দেওয়ার কথা। অথচ সেই রিপোর্ট আনার আগেই এমপি অসন্তুষ্টি প্রকাশের পরের দিন সকালে এসে এই তিন ডাক্তার তাকে এখান থেকে ঢাকা রেফার্ড করার কথা বলেন।

 

তাই এমপি সাহেবের নালিশের পর এবং একটি রিপোর্ট হাতে আসার আগেই তার বিরুদ্ধে নালিশ দেওয়ার অভিযোগ আনাসহ রেফার্ড করে দেওয়াকে তিনি সহজভাবে নিতে পারছেন না। বিষয়টিতে ডাক্তারদের রাগের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন তিনি।

 

এই বিষয়ে ভূক্তভোগী ইউপি সদস্য নাসির উদ্দিন জানান, গতকাল (সোমবার) রাত ১১টার দিকে আমাকে দেখার জন্য এখানকার এমপি সাহেব এসেছিলেন। সে সময় প্রবেশ পথে কোন দারোয়ান দেখতে পাননি তিনি। উপরে আসার পথ দেখেন অন্ধকার, নার্সদের রুম আটকানো। তাই ওনি তার একজন লোক দিয়ে ওয়েটিং রুমে থাকা একজন নার্সকে ডেকে এনে জিজ্ঞেস করেছেন যে, এখানকার ডাক্তার কই। নার্স বলেছেন, এখানে রাতে একজন ডাক্তারই থাকেন, ইমারজেন্সীতে।

 

তখন এমপি বলেছেন, রোগীরা এখানে থাকে, অথচ এখানে যদি কোন ডাক্তার না থাকে তাহলেতো রাতে হঠাৎ কোন রোগীর সমস্যা হলে ডাক্তার আসতে আসতে রোগীর সমস্যা হয়ে যাবে। তখন ইমারজেন্সীতে থাকা ডাক্তারের সাথে কথা বলতে গিয়ে এমপি বললেন, আমি এখানে প্রবেশের সময় কোন নিরাপত্তার লোককে দেখতে পাইনি। এখানে তো আমরা প্রবেশ না করে অন্য লোকও প্রবেশ করতে পারতো। হাসপাতালের কোন ক্ষতি করতে পারতো। এ সময় তিনি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

 

নাসির আরও বলেন, ঐ ডাক্তার মনে হয় এখানকার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে (ডা. সাবরিনা হক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাবরিনা হক) বিষয়টি জানিয়েছেন। ওনারা মনে করেছেন আমি এমপির নিকট নালিশ করেছি। আজ (গতকাল মঙ্গলবার) সকালে ডা. সাবরিনাসহ তিনজন ডাক্তার এখানে এসে আমার কি অবস্থা জানতে চেয়ে বলেন, আমরা এখানে চিকিৎসা করি না? আপনি যে বিচার দিলেন!

 

আপনি ঢাকা মেডিকেল যান এখানে আপনার চিকিৎসা হবে না। আমি বলেছি আমারতো একটি রিপোর্ট আনা বাকি আছে। সেটি নিয়ে আসলে তা দেখে আপনারা সিদ্ধান্ত নিয়েন। তারপর ওনারা চলে যায়। এরপর দুপুরে আমাকে একটি ইনজেকশন দেয়। ইনজেকশনটি খুবই দ্রুত দেয়। ইনজেকশন দেওয়ার সাথে সাথেই আমি দুইবার বমি করি। তখন আমরা আরএমওকে ফোন দিয়ে জানালে তিনি বলেন, বমি করলে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। এরপরই আমাকে ডেকে নিয়ে বলে আপনাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়েছে।

 

সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মো. মোশাররফ হোসেন যুগের চিন্তাকে বলেন, এমপি সাহেব আমাদের ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি আমাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দিবেন এটাই স্বাভাবিক এবং এটাই আমরা আশা করি। এই বিষয়ের সাথে হাসপাতালের রোগীর চিকিৎসার কোন সম্পর্ক নেই। আপনারা যে রোগীর কথা বলছেন আমরা ওনাকে ভালো করেই চিনি।

 

আমি সহ আমাদের এই হাসপাতালের বিভিন্ন ডাক্তারগণ ওনার অসুস্থতার বিষয়টি দেখেছি। আমাদের এখানে যেসব পরীক্ষা করার ব্যবস্থা আছে আমরা তা করিয়েছি। কিন্তু আমাদের যেগুলো করা সম্ভব সেগুলোর মধ্যে আমরা কোন ধরণের সমস্যা পাইনি। ওনার পেটের ব্যাথাও কমতেছে না, বমিও কমতেছে না। আমরা উপসর্গের উপর ভিত্তি করে ঔষধ প্রয়োগ করেও দেখেছি কিন্তু কোন লাভবান হচ্ছি না। আমরা ওনার রোগটি-ই নির্ণয় করতে পারিনি।

 

ওনার চিকিৎসার স্বার্থে আমরা বলেছি একজন গ্যাস্ট্রোলোজীর ডাক্তারের নিকট রেফার্ড করার জন্য। আমরা সেখানে বলে দিব বলেও বলেছি। আমার কোন ব্যক্তিগত শত্রুও যদি এখানে চিকিৎসার জন্য আসে তাহলে একজন ডাক্তার হিসেবে তাকে আমার হাসি মুখে চিকিৎসা দিতে হবে। ওনি এমপি সাহেবের কাছে নালিশ করেছে বলে ব্যক্তিগতভাবে আমি এ ধরণের কোন কথা বলিনি। এরমধ্যেই আমি এমপি সাহেবের সাথে আমার কথা বলা হয়েছে।

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. এএফএম মুশিউর রহমান জানান, আমাদের নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাতের বেলায় একজন ডাক্তারই উপস্থিত থাকেন। তিনি ইমারজেন্সী বিভাগে থাকেন। ওয়ার্ডগুলোতে এ সময় কোন ডাক্তার থাকেন না, সেখানে নার্সরা উপস্থিত থাকেন। জরুরী প্রয়োজনে ইমারজেন্সীতে থাকা ডাক্তারকেই ওয়ার্ডে ডাকা হয়।

 

হয়তো এই বিষয়টা এমপি সাহেব জানেন না, তাই অসন্তুষ্টি প্রকাশ করতে পারেন। তবে রোগীর বিষয়ে কোন প্রকার অনিয়ম হয়ে থাকলে তিনি (ভুক্তভোগী) অবশ্যই তার প্রতিকার চেয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ করতে পারেন। আমরা বিষয়টি অবশ্যই যাচাই বাছাই করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

 

বিষয়টি নিয়ে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ডা. সাবরিনা হক ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে কল রিসিভ করেননি তারা। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন