Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

সাড়ে ৩ বছরে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ-অগ্নিকাণ্ড ৩৪১টি

Icon

এম সুলতান

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৩, ০৮:৪৩ পিএম

সাড়ে ৩ বছরে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ-অগ্নিকাণ্ড ৩৪১টি
Swapno

 

# দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮৫ জনের, স্থায়ী ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন দগ্ধরা

 

 

নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের লিকেজ বা সিলিন্ডার লিকেজ ব্রয়লার ও এসি বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। প্রতিটি ঘরের বাসিন্দারাই যেন তাজা বোমার সঙ্গে বাসবাস করছে। সাড়ে তিন বছরে জেলায় গ্যাসের লিকেজ থেকে ৩৪১ টি বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে কমপক্ষে ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধ হয়েছে আরো শতাধিক বেশি।

 

তিতাস গ্যাসের পুরনো জরাজীর্ণ সরবরাহ লাইন সংস্কার না করা ও কর্তৃপক্ষের অবহেলা, গ্রাহকের সচেতনতার অভাব, গ্যাসের চুলা বন্ধ না করা সহ নানা কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় অবৈধভাবে মাটির ওপর দিয়ে নিম্নমানের পাইপ, কোথাও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে নেয়া গ্যাসের লাইনে আগুন ধরে দুর্ঘটনা ঘটছে।

 

সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সাল থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে ৩৪১টি বিস্ফোরণে ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে শতাধিক বেশি ব্যক্তি। তিতাস গ্যাসের লিকেজ ও সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বেশির ভাগ বিস্ফোরণ ঘটেছে। প্রতিটি বিস্ফোরণেই লন্ডভন্ড হয়ে যায় সংশিষ্ট ভবনসহ আশপাশের বাড়িঘর। কিন্তু এসব বিস্ফোরণ থেকে কোনোভাবেই প্রতিকার মিলছে না। ২০২২ সালে জেলায় ১০৪টি বিস্ফোরণ ঘটে। এর মধ্যে তিতাস গ্যাসের লাইনের ত্রুটিতে ৬৯টি। রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার ও এসি বিস্ফোরণ ঘটেছে ৩৪টি। এসব বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। দগ্ধ হয়েছেন আরো ২৫ জন।

 

২০২১ সালে ১১৪টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে তিতাস গ্যাসের লাইনে ত্রুটির কারণে ৯৬টি, রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার ও এসি বিস্ফোরণে ১৮টি। মারা যান ২০ জন, দগ্ধ হন ৫০ জন। ২০২০ সালে ১০৬টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তিতাস গ্যাসের লাইনের ত্রুটির কারণে ৭১টি, অন্য কারণে বিস্ফোরণ ঘটে ১১টি। মারা যান ৪৪ জন। দগ্ধ হন আরো ২৬ জন। যদিও এর বাইরেও জেলায় আরো ছোট বড় অনেক বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সঠিক পরিসংখ্যান নেই ফায়ার সার্ভিস বা পুলিশের কাছে। তাদের দাবি, নিহত ও দগ্ধের সংখ্যা আরো বেশি।

 

চলতি বছরে সর্বশেষ গত ২৯ জুলাই সকালে ফতুল্লা থানাধীন উত্তর কাশিপুর (দেওয়ান বাড়ি) স্বপনের মালিকানাধীন মুসকান অটো শোরুমে বিস্ফোরনে গটনা ঘটে তাতে গুরুতর হন ১৫ জন তারা ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহন করেন। এবং ২ আগষ্ট ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাগর (১৭) নামে একজন মৃত্যুবরণ করেন।

 

নিহত সাগর এর বাড়ি মুন্সিগঞ্জ টঙ্গীবাড়ী থানার পাঁচগাও শেখ বাড়ির আলমগীরওে পুত্র। এছাড়াও ২৪ জুলাই ফতুল্লায় একটি ডাইং কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে যা ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিটের প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ফতুল্লা বিসিক শিল্প এলাকায় এক নম্বর গলিতে ফকির অ্যাপারেলস নামের পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে তাতে আহত হন ৩০ জনের বেশি শ্রমিক।

 

এবছরে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের কাঠেরপুল এলাকায় বিস্ফোরণে আগুন ধরে স্বামী-স্ত্রীসহ পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। পরের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গৃহবধু সুখি আক্তার।  

 

নারায়ণগঞ্জে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে ২০২০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর। এ দিন এশার নামাজের সময় নারায়ণগঞ্জের তল্লা জামে মসজিদে গ্যাস নির্গত হয়ে বিস্ফোরণে মারা যান ৩৬ জন। আহত হন আরো সাত-আটজন। সে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কলেজপড়ুয়া দুই ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা পারুল বিবি।

 

একই ঘটনায় নিহত হন নামাজ রত অবস্থায় ডনচেম্বর এলাকা ফটো সাংবাদিক নাদিম। তার স্ত্রী বলেন, ‘ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার পর সরকার তিতাস গ্যাসের সরবরাহ লাইন সংস্কার করবে বলে আমাদের জানিয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখনো জরাজীর্ণ পুরনো লাইন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে জেলার বিভিন্ন স্থানে একের পর বিস্ফোরণ ঘটছে।

 

এবিষয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জে উপ-সহকারী পরিচালক ফখরুদ্দিন জানান, মোট কত গুলো বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সে তালিকা নেই। তবে  আমরা যেখানে যাই সেখানের তালিকা আমরা রাখি এছাড়া অন্য কোথাও বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে সেটা আমি রাখি না।

 

বর্তমান সময়ে গ্যাসের লিকেজ বা সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মূল কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, লাইনের লিকেজ থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে বন্ধ ঘরে মিথেন গ্যাস উড়তে থাকে কিংবা জমাট বেঁধে যায়। ফলে রান্নাঘরে গিয়ে দিয়াশলাই বা বৈদ্যুতিক সুইস দেয়ার সময় স্পার্ক করলেই বিকট শব্দে আগুন ধরে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেজন্য প্রতিটি গ্রাহককে সচেতন হতে হবে। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন