# ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের বাহিরে গিয়ে ইনজেকশন পুশ করেন একতার মার্কেটিং স্টাফ
# ক্যাপসুল ও সিরাপ লিখেছি কোন ইনজেকশন দেই নাই : ডা. নাসরিন সুলতানা
নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ‘একতা মেডিকেল সার্ভিসের’ দালালের খপ্পরে পরে প্রাণ গেলো এক গার্মেন্টস কর্মীর। জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে বুকের ব্যাথার চিকিৎসা নিতে আসেন হানিফ (৩০) নামে এক গার্মেন্টসকর্মী। হানিফ ফতুল্লা থানার এনায়েত নগর ইউনিয়নের মুসলিম নগর এলাকার কাশেম মাদবরের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার পিতার নাম আব্দুল রাজ্জাক, সে বিসিক শাসনগাঁ এলাকার ডায়মন্ড নীট ফ্যাশন লিমিটেডে সুইং এ সিনিয়র অপারেটর হিসেবে কাজ করেন।
এ বিষয়ে নিহত হানিফ এর ভাই রাসেল বলেন, সকাল সাড়ে ১১টায় আমার ভাইকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। তার অনেক বুকে ব্যাথা ছিল। এ সময় হাসপাতালে থাকা দালাল ইয়ামিন নামে একজন এসে বলে কি হয়েছে। আমি তখন বলি বুকে ব্যাথা। সে আমার থেকে ১০টাকা নিয়ে একটি টিকেট কাটেন, পরে বহিঃ বিভাগে ১০৪ নম্বর রুমে আমার ভাইকে দেখান। সেখান থেকে ডাক্তার ঔষধ লিখে দিলে ইয়ামিন (দালাল) আমার ভাইকে হাসপাতালের বাহিরে ফার্মেসী পয়েন্ট নামে ঔষধের দোকানে নিয়ে যায়।
ঔষধের দোকানে নিয়ে ইয়ামিন আমার ভাইকে ‘অরিক্স সেফট্রায়াক্সন’ নামে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার ২মিনিট পরে আমার ভাই ছটফট করেন। পরে ভাইকে জরুরী বিভাগে আনলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। আমার ভাই এর এই রকম অবস্থা দেখে সেখান থেকে পালিয়ে যান ইয়ামিন। এ বিষয়ে জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা.নাসরিন সুলতানা জানান, রোগীটা আমার এখানে এসে বলেছে বুকে ব্যাথা। আমি দেই নাই।
এ বিষয়ে ‘ফার্মেসী পয়েন্ট’ ফার্মেসীর ঔষধ বিক্রিতা বলেন, ‘একতা মেডিকেল সার্ভিসের’ স্টাফ ইয়ামিন আমার কাছে এসে ‘অরিক্স সেফট্রায়াক্সন’ নামে একটি ইনজেকশন চায়। পরে আমি তাকে সেই ইনজেকশনটি দিলে সে আমার দোকানের সামনেই পুশ করেন। এ বিষয়ে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফ জানান, ইয়ামিন মন্ডলপাড়ায় ‘একতা মেডিকেল সার্ভিসেস’ এ মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টে কাজ করেন। সে একতায় বেতন ভুক্ত কর্মচারী।
তার কাজ শুধু হাসপাতাল থেকে রোগীদের পরীক্ষা করার জন্য একতা মেডিকেলে আনা। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ইয়ামিন ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে বহিঃবিভাগের ডাক্তারের রুমের সামনে বসে থাকেন। তারা বিভিন্ন রোগীদের কাজ থেকে জোরপূর্বকভাবে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে তাদের একতা মেডিকেলে নিয়ে যায়। তাদের কারনে কোন রোগী হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারেন না।
এ বিষয়ে একতা মেডিকেল এর ম্যানেজার রিপন জানান, এই ঘটনাটি আমি জানতে পেরেছি। ইয়ামিন আমাদের এখানে কাজ করেন। তার মতো আরও অনেক জন আছেন, তারা হাসপাতাল থেকে আমাদের এখানে রোগী নিয়ে আসেন। রোগী প্রতি আমরা তাদের কমিশন (টাকা) দেই। এছাড়াও ইয়ামিন আমাদের এখানে মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টে কাজ করেন। তার কাজ রোগীদের ফার্মেসীতে নিয়ে যাওয়া। ইনজেকশন দেওয়া এটা তার দায়িত্ব না। তার কাজ রোগী এখানে আনা।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এ.এফ.এম.মুশিউর রহমান বলেন, ডেঙ্গুর সিজনে আমরা কোন রোগীকে ইনজেকশন দেইনা, এটা যে করেছে একটা অবাধ্য কাজ করেছে। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের বাহিরে গিয়ে কেনো সে ইনজেকশন দিলো। এটা তার অপরাধ, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হউক। এছাড়াও আমরা হাসপাতালের ভেতরে মনিটরিং এর আরও জোরদার ব্যবস্থা করব। যাতে হাসপাতালের ভেতরে এই সকল লোক (দালাল) ঘুরাফেরা করতে না পারে। এস.এ/জেসি


