রাত হলে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠে সাইনবোর্ড
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৩, ০৯:৩৩ পিএম
# ফুটওভার ব্রিজে ছুরি ঠেকিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হয় মোবাইল-টাকা
# প্রশাসনের নজরদারি কম থাকায় বাড়ছে চাঁদা সহ নানান অপকর্ম
ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড সাইনবোর্ড এলাকাটি একটি ব্যস্ততম সড়ক। শুধু তাই নয় এই সাইনবোর্ড এলাকার এই সড়কটি দিয়ে ঢাকা - চট্রগ্রাম-সিলেট সহ দেশের কয়েকটি জেলায় যাওয়ার জন্য এই রাস্তাটি ব্যবহার কররা লাগে। প্রতিদিন এই রাস্তাটি দিয়ে প্রায় পঞ্চাশ লাখেরও বেশি মানুষ চলাচল করে।
তবে এই ব্যস্ততম সড়কটিতে প্রতিনিয়নই পরিবহর সেক্টর সহ বিভিন্ন অস্থায়ী দোকানপাট বসিয়ে চাঁদা তোলা হয় শুধু তাই নয় স্থানীয়দের সহযোগীতায় এই সকল চিহ্নিত চাঁদাবাজরা চাঁদা নিয়েই শান্ত থাকেন না পুরো সাইনবোর্ড এলাকা এখন মাদকে অভায়রন্যে হয়ে উঠেছে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে বর্তমানে সময়ে সাইনবোর্ড এলাকায় চুরি, ছিনতাই দিন দিন বেড়েই চলছে।
বিশেষ করে যত রাত হয় এই এলাকাটি পুরোপুরি ভাবে ভয়ংকর হয়ে উঠে। প্রতিনিয়তই কারো মোবাইল কারো মানিব্যাগ কারো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই চিহ্নিত ছিনতাইকারীরা। বিশেষ করে রাত হলে ছিনতাইকারীরা সাইনবোর্ড এলাকার ফুট ওভার ব্রিজে অবস্থান নেয়। সুযোগ বুঝে সাধারণ পথচারীদের বেকায়দায় ফেলে কেড়ে নেয় সব।
বেশ কয়েকদিন আগে বরিশাল থেকে আশা বশির ঢাকার নারায়ণগঞ্জে আসে চাকরির খোঁজে। তার পরিবারের কাছ থেকে নিয়ে আশা ১০০০০ টাকা ও সাথে একটি এন্ড্রয়েড ফোন সাইনবোর্ড এলাকায় আশার সাথে সাথেই ফলো করে ছিনতাই কারীর একটি দল। কোন কিছু বুঝে বোঝার আগেই আমারা মোবাইল, মানিব্যাগ ছিনতাই কারীরা নিয়ে যায়। গলায় ছুরি ঠেকালে আমি আর কোন কিছু উপায় না পেয়ে তাদের হাতে দিয়ে দেই আমি এখন সবকিছু হারিয়ে একেবারেই নিঃস্ব । এখানে আমি কোন ধরনের আইনি ভাবে সহায়তা পাইনি।
জানা যায়, এই সাইনবোর্ড এলাকা চাঁদাবাজদের কয়েকটা নিয়ন্ত্রন কাজ করে যাদের রয়েছে বিশাল বাহিনী। আর এই বাহীনির দ্বারা চলে এই এলাকার সকল অপকর্মের নিয়ন্ত্রন। আর দেখা যায় এই সকল অপকর্মকারী চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, সিন্ডিকেট এলাকার প্রভাবশালী নেতা এবং পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে হাত মিলিয়ে তারা তাদের এই অপরাধ কার্যক্রম চালিয়েই যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, এই সাইনবোর্ড এলাকাতে প্রতি মাসে পরিবহন সেক্টর ও ফুটপাত থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা উঠে। যা প্রতিমাসেই ভাগভাটোয়ারা হয়। শুধু তাই নয় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়াতেই চলে এই সকল কার্যক্রম। এই নেতার কাছ থেকে রক্ষা পায়নি এই এলাকার সবচেয়ে বড় একটি জনপ্রিয় মার্কেট মিতালী মার্কেট।
যে মার্কেটে প্রায় হাজার খানেক দোকান রয়েছে কিন্ত সেখানকার ব্যবসায়ীরা এই চিহ্নিত নেতার কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে। আর এই চাঁদাবাজের হাত থেকে বাচঁতে বেশ কিছুদিন আগেও ব্যবসায়ীরা নগর ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছে। তবে অনেকেই মনে করছেন এই এলাকার এতো অপকর্ম প্রশাসন এর দায় এড়াতে পারেনা।
কারণ প্রশাসন চাইলে এই সকল অপকর্ম নিমেশেই শেষ হয়ে যেত কিন্তু প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কিছু টাকার বিনিময়ে এদেরকে অপকর্ম করার জন্য আরও রাস্তা তৈরী করে দিচ্ছে। তাই আমরা মনে করি প্রশাসনের উচিৎ এই ব্যস্ততম সড়কে টহল বাড়ানো হোক। বিশেষ করে রাত হলে চুরি, ছিনতাই সহ নানান অপকর্ম হয়ে থাকে। আর এই সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই এলাকার অপকর্ম নিধন সম্ভব নয়। এস.এ/জেসি


