Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

আট লাখ টাকা গলার কাঁটা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৩, ০৫:৩০ পিএম

আট লাখ টাকা গলার কাঁটা
Swapno


# টিপুর টাকা দেখলে ছ্যাচড়াগো মতো মাথা ঠিক থাকেনা : ভাষানী
# হাজার কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে একয়টা টাকা নিয়ে মাথা ব্যাথা কেন : টিপু


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বর্তমানে দফায় দফায় আন্দোলনের সংগ্রামের মাধ্যমে রাজপথে গর্জে উঠেছে। সেদিকে লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে সরকার পতনের ১ দফা দাবি নিয়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

 

 

এই ধারবাহিকতায় কর্মসূচির নামে কেন্দ্র সংগঠন ও অঙ্গসংগঠনের নামে এক বার ৩ লাখ ও এবার মহা সমাবেশে কথা বলে ৫ লাখ সব মিলিয়ে ৮ লাখ টাকা চাঁদা এনে সকলকে না দিয়ে নিজেদের পকেটবন্দী রাখার অভিযোগ উঠেছে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে।

 

 

এছাড়াও জানা গেছে, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক বিতর্কিত ঘটনার সৃষ্টি করে যাচ্ছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব। এমনকি কমিটির গঠনের পর পরই বিভিন্ন মহানগর বিএনপি দুইভাবে বিভক্ত হয়ে পরে।

 

 

যার কারণে সংগঠনে সৃষ্টি হয় নানা বিশৃঙ্খলার এমনকি এক যুবদলকে নেতাকে সদর থানা বিএনপিতে পদ দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগ ও উঠেছিল এই মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে। যা নিয়ে সংগঠনে সৃষ্টি হয়েছিল নানা কোন্দল।

 

 

এমনকি লোক না থাকায় অঙ্গসংগঠনের উপর ভর করে রাজনীতি করার নজির ও রয়েছে বর্তমান মহানগর বিএনপির নবাগত কমিটির। এবার সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে নয়া পল্টনের অফিস থেকে টাকা এনে সমান বন্টন না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে এমনকি কিছু টাকা সংগঠনের খরচে দিয়ে সব টাকা নিজেদের পকেটবন্দি করার অভিযোগ নিয়ে বর্তমানে তোলাপাড় সৃষ্টি হয়েছে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনসহ নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে।

 


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই শুক্রবার রাজধানীতে বিএনপি মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সমাবেশের আগেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কাছে নগদ ৫ লাখ টাকা পাঠানো হয়। নির্দেশ দেওয়া হয় মহানগর বিএনপি যেন টাকার যথার্থ ব্যবহার করে লোকজনের সমাগম ঘটায় সেই সঙ্গে সহযোযী সংগঠনগুলোকেও যেন সমবন্টন করে টাকা দেওয়া হয়।

 

 

সেই লক্ষেই আগের দিন ২৩টি ইউনিট কমিটিকে ৫ হাজার টাকা করে ১ লাখ ১৫ হাজার ও ১০টি সহযোগী সংগঠনকে সমসংখ্যক টাকা দেওয়া হয়। কেন্দ্রের টাকা দেওয়ার খবরটি সেকর ইউনিটের নেতাকর্মীদের কাছে প্রচার হয়ে গেলে সকল নেতাকর্মী একত্রিত হয়ে দাবি করেন কেন্দ্রের টাকা সকলের হাতে বুঝিয়ে দিতে।

 

 

কিন্তু সেটা না করে বা কাউকে কোন হিসাব দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না এমন এক আচরণের ভাব দেখিয়ে সকল টাকা নিজেদের পকেট বন্দি করে রাখে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। এনমকি ঢাকায় সমাবেশে লোকজন যোগ দিলেও পরে কাউকে এ টাকা থেকে টাকা দেওয়া হয়নি।  

 

 

নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, এর আগেও এক কর্মসূচির অজুহাত দেখিয়ে ৩ লাখ টাকা এনেছিলেন সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। সেটা টাকার কোনো হিসেব বা এই টাকার কথা কোন নেতাকর্মীদের কাছে প্রকাশ করেননি এই আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব। যা নিয়ে বর্তমানে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

এছাড়াও বর্তমানে মহানগর বিএনপির নানা অর্থ কেলেঙ্কারি সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের চোখের সামনে চলে আশায় নেতাকর্মীরা এগুলো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এমনকি শুধু তাই নয় কেউ কেউ বলছে টিপু একটি লোভি নেতা হিসেবে পরিচিত সে সকল কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতাকর্মীদের থেকে টাকা তুলে নিজের পকেট ভারী করে।

 

 

আর বর্তমান আহ্বায়ক সাখায়াত হোসেন খান এক সময় টিপুর বিরোধী করলে ও বর্তমানে এক কমিটির দায়িত্ব পাওয়ায় এখন একত্র হয়ে কাজ করতে করতে সে ও প্রমান দিচ্ছে সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে। আর এই অর্থ কেলেঙ্কারি বিষয়ে কারো কাছে কিছু বলতে রাজি নয় টিপু। নয় ছয় কথা বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন।

 

 

বর্তমানে মহানগর বিএনপির এই অর্থ কেলেঙ্কারি নিয়ে সকল তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবি বর্তমান আহŸায়ক কমিটি যাদের হাত দিয়ে এসেছে বেনজির আহম্মেদ টিটু ও আব্দুস সালাম আজাদ তাদের বাদ রেখে কেন্দ্র থেকে একটি নিরপেক্ষ ৩/৪ জন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় তাহলে এটার একটা সুষ্ঠ‚ বিচার হবে তা না হলে বর্তমানে দলের এই দুসময়ে আরো বিতর্কিত কর্মকান্ড করতে কোন দ্বিধাবোধ করবে না আহŸায়ক ও সদস্য সচিব।

 


এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, মহানগর বিএনপির নামে অর্থকেলেঙ্কারি বিষয়টা হলো একটি গায়েবী কথা আমরা কেন্দ্র থেকে কোন টাকা আনিনি কেন্দ্র। আর আমাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পুরোটা মিথ্যা।

 

 

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, হাইকমান্ড যদি কোন টাকা দেয় আমি তো এটা লাঙ্গল মার্কা দালালদের কাছে এই টাকার কি করবো এটা বলবো কেন আর আপনাদের মতো সাংবাদিকের কাছেই বা কেন উত্তর দিবো। আমি টাকা যার থেকে এনেছি তাকে এটার উত্তর দিবো টাকা আমি কি করেছে কোথায় ব্যায় করেছি।

 

 

আর বড় বড় প্রোগ্রামে যদি কেন্দ্র আমাদের টাকা দেয় এটা তো আমি আপনাদের কাছে বলতে রাজি না। আর বাংলাদেশে হাজার হাজার কোটি কোটি টাকা লুটপাট হয়ে যাচ্ছে এটা আপনি কয়দিন লিখেছেন। আর আমাদের ৮ লাখ টাকা নিয়ে আপনাদের এতো মাথা ব্যাথা কেন।

 

 

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুল যুগের চিন্তাকে বলেন, এর আগে ও এই বর্তমান আহ্বায়কের বিরুদ্ধে এই সদস্য সচিব টিপু ২ কোটি টাকার একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন। আর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব টিপুর বিরুদ্ধে এক যুবদল নেতা একটি ৫০ হাজার টাকার অভিযোগ দিয়েছিল।

 

 

এখন আবার কেন্দ্র থেকে দুই দফায় ৮ লাখ টাকা আনার ঘটনা শোনা যাচ্ছে কিন্তু এটা কতটা সত্য আমাদের জান নেই কিন্তু অভিযোগ যেহেতু হয়েছে এটার একটি সুষ্ঠ‚ তদন্ত জরুরী। মহানগর বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাসানী ভূঁইয়া যুগের চিন্তাকে বলেন, মাদকগ্রস্ত মানুষ যেমন যতই রিহ্যাবে দেওয়া হোক না কেন।

 

 

ঠিক তেমনই অন্যজনের টাকা লেড়ে চেড়ে খাওয়া ব্যাক্তি কখনো ঠিক হবে না। আর এই টিপু এমনি অনেকটা লোভি প্রকৃতির লোক সে কখনো টাকা দেখলে তার মাথা ঠিক থাকে না ছেচঁড়া গো মতো। তাই মনে হয় এমন অর্থকেলেঙ্কারি ওদের বিষয়ে থাকবে এটা স্বাভাবিক ব্যাপার।

 

 

আর এ বিষয়ে এখনো কতটা সত্য আমি বলতে পারছি না, কিন্তু এটার বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা অতন্ত জরুরী আর এই তদন্ত কমিটি হতে হবে নিরপেক্ষ যে তাদের কথা বলবে না। যা সত্য তাই সকল নেতাকর্মীদের সামনে প্রমান দিবে। আর যদি এই বিষয়টা সত্য হয় তাহলে এই মহানগর বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে এই আহŸায়ক ও সদস্য সচিবকে শাস্তি দিতে হবে এমনটাই দাবি রয়েছে।   এন. হুসেইন রনী   /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন