Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

জাতীয় ফুটবলার রাত্রি মনির পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৩, ০৭:৫৪ পিএম

জাতীয় ফুটবলার রাত্রি মনির পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা
Swapno

 

# মেয়ে হয়ে ফুটবল খেলার কারণে তার পরিবারের বিরুদ্ধে মৌলবাদী, ভূমিদস্যু এবং মদক ব্যবসায়ীরা একাট্টা

 

 

নারায়ণগঞ্জের প্রমিলা ফুটবলার রাত্রি মনি (১৬)। তিনি একজন জাতীয় ফুটবল দল (অনুর্ধ-১৬) এর কৃীতি ফুটবলার। এরই মাঝে তিনি দশের বাহিরে বিদেশের মাটিতে ফুটবল খেলে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন। তাকে সন্মাননা দিয়েছেন খোদ রাষ্ট্রের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীও তাকে বিশেষ সন্মানে ভূষিত করেছে। প্রশাসনিক ভাবেও তিনি বিশেষ সন্মান অর্জন করেছেন।

 

কিন্তু একজন নারী হয়ে ফুটবল খেলার কারনেই তিনি ও তার পরিবার এলাকার মৌলবাদী চক্রের রোষানলে পরেছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ১৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা তিনি। তার ঠিকানা ৭৪নং গোপচর রোড। তার পিতার নাম আবুল কালাম। মূলত ফুটবল খেলার কারণেই তাকে এবং তার পরিবারকে নিজেদের ভিটেমাটি ছাড়ার জন্য পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে ওই চক্র। আর এরই সুযোগ নিতে চেষ্টা করছে তার আপন স্বজনরাও।

 

ফুটবলার রাত্রি মনি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে এই প্রতিনিধির কাছে অভিযোগ করেছেন তার আপন ফুপি (পিতার বোন) এবং তার সহযোগীরা এখন তাদের পরিবারকে ভিটেমাটি ছাড়া করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। আর তাদেরকে সহায়তা করছে ওই মৌলবাদী চক্র এবং এলাকার মাদক ব্যবসায়ী এবং ভূমি দস্যু চক্র। ফুটবলার রাত্রি জানান, তার বাবা আবুল কালাম ২০১৭ সালে একটি সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে ২.৬০ শতাংশ জায়গা ক্রয় করে সেখানে ঘর তুলে বসবাস করে আসছেন।

 

তার ফুপি রিনা বেগম এই জমির মালিক ছিলেন। তিনি সমুদ্বয় টাকা বুঝে পাওয়ার পরেই ভাইয়ের নামে সাফ কবলা দলিল করে দেন। কিন্তু তখন দলিলটি রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি কারণ তখন ফুপি রিনার নামে মিউটেশান করা ছিলো না। তাই কথা ছিলো মিউটেশান করার পর রেজিস্ট্রি করে দেয়া হবে। তাই মিউটিশান করার খরচও দেন আবুল কালাম। কিন্তু মিউটিশান করার পর সম্প্রতি এসে বেঈমানী শুরু করেছে রিনা বেগম। আর তাকে সহায়তা করছে এলাকার মৌলবাদী চক্র, মাদক ব্যবসায়ী এবং ভূমি দস্যুরা।

 

এই চক্র আবুল কালামের কন্যা ফুটবলার রাত্রিকে টার্গেট করে নানা কথা বলে বেড়াচ্ছে। একজন মেয়ে হয়ে কেনো ফুটবল খেলছে এসব প্রশ্ন তুলে এখন এই পরিবারটিকে একেবারে এক ঘরে করে ফেলেছে। তারা এখন এক জোট হয়ে এই নিরীহ পরিবারটিকে ভিটেমাটি ছাড়া করতে চাইছে।

 

এদিকে কবির হোসাইন ১৮নং ওয়ার্ডেও কাউন্সিলর থাকাকালে তিনি এ বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান ফুটবলার রাত্রি। তাই এ বিষয়টি জানতে গতকাল সাবেক কাউন্সিলর কবির হোসাইনকে টেলিফোন করা হলে তিনি বলেন, হ্যাঁ আমি বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা করেছি। রিনা বেগম তার ভাই আবুল কালামের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্য নিয়েই সাফ কবলা দলিল করে দিয়েছিলো। সেই দলিলও আছে। কিন্তু তখন মিউিটিশান করা না থাকায় বলা হয়েছিলো মিউটিশান করার পর রেজিস্ট্রেশান করে দেবে। কিন্তু মিউটিশান করার পর আর রেজিস্ট্রেশান করে দেয়নি। রিনা তার ভাইয়ে সাথে বেঈমানী করেছে।

 

এদিকে এ বিষয়ে প্রমিলা ফুটবলার রাত্রি মনি নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি পুলিশ যথাযথ ভাবে আমলে নিয়ে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে আশা করেন প্রমিলা ফুটবলার রাত্রি ও তার পরিবার। তাদেরকে যেনো কোনো মতেই তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করতে না পারে এবং অবিলম্বে তাদের এই জমিটুকু রেজিস্ট্রি করে দেয় সেই ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন নিরীহ পরিবারটি। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন