Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ডিপোর তেল চুরির মহোৎসবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন যারা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৩, ০৭:৪৫ পিএম

ডিপোর তেল চুরির মহোৎসবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন যারা
Swapno

 

ফতুল্লায় যমুনা ও মেঘনা ডিপোকে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছে তেল চোর সিন্ডিকেট। তাদের রয়েছে বিশাল এক বাহিনী তাদের মূল কাজ হলো ডিপো থেকে তেলের গাড়ি বের হলেই চালকদের সাথে মিলে তেলের গাড়িকে রাস্তার পাশে থাকা দোকানের পিছনে নিয়ে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় সকলের সামনে তেল চুরি করা। ফতুল্লার যমুনা ডিপোর তেলচোরদের নিয়ন্ত্রক‘ বাবা হাবিবুর রহমান মুন্সির ছেলে পাভেল’ সবাই চিনে মির্জা পাভেল নামেই। তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রায় ৩০/৩৫ জনের এক বিশাল তেল চোর বাহিনী।

 

আর যমুনা ও মেঘনা ডিপোর চোরাই তেলের ব্যবসাকে পুঁজি করে কয়েক বছরে টোকাই থেকে কোটিপতি বনে গেছেন এমন ব্যক্তির সংখ্যাও কম নয়। আর এ চোরাই তেলের ব্যবসার নিয়ন্ত্রন নিতে তাকে সহযোগিতা করছে ফতুল্লা থানা যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন নেতা। ঠিক এমনি ভাবেই বর্তমানে ফতুল্লার যমুন ডিপোর চোরাই তেলের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের নাম দির্ঘদিন ধরে ব্যবহার করছে আসছে চোর দলের প্রধান হোতা মির্জা পাবেল।

 

এবং তার সাথে রয়েছে আরো, পাবেল এর ছোট ভাই মীজা বাবু (ওরফে) মেজর বাবু, তাইজুল, রানা, শুরুজাম্মান, পেয়ার আলী, সাগর, মামাতো ভাই খোকা, সেন্টু, রিপন, শিপলু এবং মাসুদ ওরফে ওলা মাসুদ। তাদের মধ্যে খোকা ও সেন্টু ছিলেন ভাগিনা ফরিদ ও ক্রসফায়ারে নিহত মমিনউল্লাহ ডেভিডের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

 

সূত্র মতে জানা যায়, বর্তমানে ফতুল্লার যমুনা ডিপোর চোরাই তেলের নিয়ন্ত্রক সাবেক সাংসদ সদস্য কবরী বেগম এর ক্যাডার ছিলো মির্জা পাভেল ক্ষমতাসীনদলের প্রভাবশালী নেতা এবং সাংসদদ্বয়ের ছেলে এবং ভাতিজার নাম ব্যবহার করে চোরাই তেলের ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

 

ফতুল্লা মডেল থানা ১০০ গজ দুরেই অবস্থান এ দুই ডিপোর কিন্তু সেখানে দেখা মিলে তেল চোর দলের। যমুনা ও মেঘনা ডিপোর পাশেই রয়েছে সারি সারি চোরাই তেলের দোকন যেকানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে এসব তেল। থানা থেকে কিছুটা দুরে দেখা মিলে কমপক্ষে ১৫/২০ টি চোরাই তেলের দোকান যা বলা চলে দিনরাত ২৪ ঘন্টাই খোলা থাকে।

 

গত কয়েক বছর আগেও যমুনা ও মেঘনা ডিপোর তেল চুরিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রের ঝনঝনানিতে আতংকিত হয়ে পড়ে ডিপোর কর্মরত সাধারণ কর্মজীবী মানুষজন। গাড়ি থেকে তেল নামানোর জন্য তাদের রয়েছে ১২/১৫ টি স্পট যমুনা ডিপোর বিপরীত পাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি স্থান সামনে টং দোকান আর পিছনে চলে তেলের গাড়ি থেকে অবৈধ ভাবে তেল নামানো যার পিছনের কাজ করে তেল চোরের বিশাল এক বাহিনী।  

 

সূত্র মতে, কবরী এমপি হওয়ার পর তার পিএস হন ঢাকা-৫ আসনের বিএনপির সাবেক এমপি সালাউদ্দিনের ঘনিষ্ঠজন সেন্টু। এপিএস হন লাল চুইলা শফি। এই দুইজনের হাত ধরে পাভেল ভিড়ে যায় কবরী বলয়ে। নিজে হয়ে উঠেন স্বঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা। বিশাল হোন্ডা বাহিনী নিয়ে ফতুল্লা, পঞ্চবটি, ধর্মগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা দাবড়িয়ে বেড়াতো সে। ফলে রাতারাতি এলাকা জুড়ে ‘কবরীর ক্যাডার’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে। সে সময়ই তার বাহিনী এবং তার ছোট ভাই মেজর বাবুর হাতে চলে আসে অবৈধ অস্ত্র।

 

পরবর্তীতে কবীর সময় শেষ হলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শামীম ওসমান। রাতারাতি বোল পাল্টে শামীম ওসমান বলয়ে ফিরে আসে পাভেল ও তার ছোট ভাই বাবু। কিন্তু বিশেষ একটা সুবিধে করতে পারেনি। তখন তারা দুই ভাই স্থানীয় মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীদের একত্রিত করে ভিড়ে যায় আজমেরী ওসমানের বলয়ে। এই সুবাদে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় তাদের হাতে। পূর্বের যে কোনো সময়ের থেকেও বেপরোয়া হয়ে উঠে মির্জা পাভেল, মির্জা বাবু ওরফে বেয়াদ্দব বাবু ওরফে মেজর বাবু।

 

সূত্র মতে আরো জানা যায়, আজমেরী ওসমানের নাম ভাঙিয়ে ফতুল্লার যমুনা ও মেঘনা ডিপোর চোরাই তেল ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠে পাভেল। তার সাথে তার ভাই বাবুও। বিশাল এক সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে প্রতিদিনই তেলবাহী জাহাজ, যমুনা ও মেঘনা ডিপো থেকে হাজার হাজার লিটার তেল চুরির মহোৎসবে মেতে উঠে তারা। সরকারি ঘরে চুরি করে রাতারাতি আঙুলফুলে কলাগাছ বনে যায় তারা।

 

এ বিষয়ে মেঘনা ডিপোর ম্যানেজার জিয়াউল হক বলেন, আমাদের কাজ ডিপোর ভিতরে যাতে কিছু না হয় সেটা দেখা বাহিরে গিয়ে কি হবে না হবে সেটা আমাদের বিষয় না। তেল চোরের বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ করা হয়েছে নাকি সেটা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা কারো নামে অভিযোগ করি নাই। আমরা পাবেল নামে কাউরে চিনি না তার নাম কয়েকবার শুনেছি। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন