টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের জমি দখল, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রনসহ নানা অনৈতিক কাজ চলছে কিন্তু ভয়ঙ্কর এসব অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এতে বেপরোয়া হয়ে উঠছে তারা। প্রায় প্রতিদিনই ফতুল্লা থানার বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে, এতে মামলাও হয়। এসব মামলার তদন্তে গুরুত্ব না দেওয়ায় পার পেয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা।
সূত্র মতে জানা গেছে, ফতুল্লা থানাধীন এলাকার বিসিক শাসনগাঁও করনি গার্মেন্টসের পিছনে, মুসলিমনগর নয়া বাজার, এনায়েত নগর মোল্লা গার্মেন্টস হাবুইল্লার ব্রিজ, এনায়েতনগর এতিমখানা বোড, বক্তাবলী ঘাট, নরসিংপুর ডিগ্রীচর ঘাট, লালনের আশ্রমসহ বিভিন্নস্থানে সাধারণ মানুষদের জিম্মি করে পুলিশের নাকের ডগার সামনে দিয়ে সজল ও সাদ্দাম গং হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এছাড়াও ১০/১২টি হুন্ডায় বহর করে অনেকের নাম বিক্রি করে রমরমা মাদকের ব্যবসা ও চাঁদাবাজীরসাথে ও যুক্ত আছে এই সজল ও সাদ্দাম গং।
এমনকি এদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় রয়েছে একাধিক অভিযোগ এছাড়াও এদের অনৈতিক কর্মকান্ড বিষয়ে হয়েছিল সংবাদ সম্মেলন ওদের বিরুদ্ধে ভুমিদূস্যতার অভিযোগ ও রয়েছে। এমনকি তারা হুন্ডা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত এমনও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্র বলছে, সাদ্দামের নাম মাত্র একটি ঝুটের কারখানা রয়েছে যেখানে চলে মাদকের কারবার সেখানে মাদকসেবনসহ নিয়মিত চলে মাদকের রমরমা ব্যবসা। আরেকজন মুসলিমনগর এতিমখানা রোড মোল্লা গার্মেন্টসের অপর সাইডে এই সজলের রয়েছে একটি অটো গ্যারেজ যেখানে সারাদিন স্বাভাবিক থাকলে ও রাত ১০ টার পর অবৈধ লাইন সংযোগের মাধ্যমে সকল অটো চার্জ দেওয়া হয়। এমনকি গ্যারেজের যেখানে নিয়মিত হয় ইয়াবা, গাঞ্জা, ফেসনিডিলের রমরমা ব্যাবসা যা নিয়ে সে এলাকার সাধারণ মানুষ ক্ষিপ্ত।
এমনকি কয়েকবার অভিযোগ দিয়েছে থানায় কিন্তু এতে কোন লাভ হয়নি তাদের ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেলে, ফতুল্লা থানার কিছু পুলিশের নাম বিক্রি করে এই সজল ও সাদ্দাম গং অপকর্মের পাহাড় সৃষ্টি করেছে। এদের সাথে আরো নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে মুন্না, আকাশ, রিফাত, অনিক, মেহেদী, জাহিদসহ নাম না জানা আরো অনেকেই। কিছুদিন পূর্বে ও সজল সাদ্দামসহ তাদের গংয়ের ই ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা থানায় একটি ছিনতাইয়ের অভিযোগ করা হয়েছিল।
যেখানে তারা অভিযোগকারীর কাছ থেকে বিভিন্ন অস্ত্র-শস্ত্র ঠেকাইয়া হত্যার হুমকি দিয়া পাঁচ লক্ষ টাকা দাবী করিতে থাকে। না দেওয়ায় তাকে এলোপাথারী মারধর করে ৩ ভরি ওজনের ২টি রূপার চেইন, স্বর্ণের ব্যাচলেট এক লক্ষ আটান্ন হাজার টাকা মূল্যের, এক লক্ষ টাকার তিনটি ব্যান্ডেলসহ আরো ক্ষয়ক্ষতি করে। এমনকি তাকে অনেক ভয়ভীতি দেখায় যে পুলিশের কাছে কোন অভিযোগ বা মামলা করলে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে প্রেরন করবে।
এই সাদ্দাম গংয়েরা এখন ফতুল্লা থানার বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রসী রাজত্বের কায়েম সৃষ্টি করছে যা নিয়ে বর্তমানে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর দাবি, এই সজল সাদ্দাম গংদের কারণে ভালো নেই এনায়েতনগরের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের থেকে বাচেঁ ভালো জীবন-যাপনের করতে চায় এলাকাবাসী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনায়েতনগর এলাকার এক বাসিন্দা জানান, ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের আতঙ্কে ভুগছে জনসাধারণ। প্রতিনিয়ত ছিনতাই আর ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্কে জীবন যাপন করছে আমাদের। তবে একের পর এক ছিনতাইসহ এলাকায় মাদকের রমরমা ব্যাবসা চললে ও পুলিশ প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার করতে না পারায় বন্ধ হচ্ছে না এসব ঘটনা।
ফতুল্লায় একের পর এক অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এই চিহ্নিত সাদ্দাম গং বর্তমানে এলাকাবাসীর গলার কাটা হিসেবে রূপান্তিত হয়েছে এই গংদের নাম। এসব অপরাধী এলাকায় অবস্থান করায় বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, জোরপূর্বক ভুমিদূস্যতা, মাদক ব্যবসা দিন দিন বেড়েই চলছে। এখান থেকে আমরা সকলেই পরিত্রান চাই।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার এসআই ও অভিযোগের আয়ু বেলায়েত যুগের চিন্তাকে বলেন, কিছুদিন পূর্বে এই সাদ্দাম গংদের বিরুদ্ধে আমার কাছে একটি অভিযোগ করা হয়েছিলো। পরবর্তীতে ওই সাদ্দাম গংয়ের লোকেরা ও অভিযোগকারীর নামে একটি অভিযোগ দায়ের করে। যার কারণে আমরা এ বিষয়টা নিয়ে ওসি স্যারের সাথে আলোচনায় বসবো।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নুরে আযম মিয়া যুগের চিন্তাকে বলেন, এই সাদ্দাম গংয়ের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগের কথা শুনেছি। কিন্তু বর্তমানে নতুন কোন অভিযোগ হয়েছে কিনা এটা আমার জানা নেই। যদি অভিযোগ হয়ে থাকে এদের বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এস.এ/জেসি


